
ফ্যাশনের ট্রেন্ড কখনও পুরনো হয় না, শুধু রূপ বদলায়। একটা সময় ছিল যখন শাড়ির সঙ্গে ছোট্ট একটি নাকছাবি বা ভারী নথ পরার চল ছিল। এখন আবার ওয়েস্টার্ন পোশাকের সঙ্গে দারুণ মানিয়ে যায় এই গয়না। কিন্তু যখনই নাক ফোটানোর কথা ওঠে, তখনই মাথার মধ্যে একটি বড় প্রশ্ন ঘুরপাক খায়। বাঁ দিক, না ডান দিক? কোন দিকে নাক ফোটানো সবচেয়ে বেশি উপযোগী?
দিদিমা-ঠাকুমারা বলে থাকেন, মেয়েদের নাক ফোটানো বাধ্যতামূলক, এতে নাকি সংসারের মঙ্গল হয় এবং স্বামীর সঙ্গে সম্পর্কের বাঁধন দৃঢ় হয়। যদিও এমন কথার সরাসরি উল্লেখ শাস্ত্রে নেই। তবে নাকছাবি পরার অন্যান্য নানা চমৎকার গুণাগুণ রয়েছে। আসুন, জেনে নেওয়া যাক এই বিষয়ে জ্যোতিষশাস্ত্র ঠিক কী বলছে।
বাঁ দিক না ডান দিক, কোনটা শুভ?
অনেকেই শুধুমাত্র শখের বশে বা মুখের গড়ন অনুযায়ী ডান দিকে নাক ফোটান। কিন্তু জ্যোতিষশাস্ত্র অনুযায়ী, নাকছাবি পরার জন্য নাকের বাঁ দিকই হল সবচেয়ে শুভ। মনে করা হয়, বাঁ দিকে নাক ফোটানো হলে জীবনের নানা দিক থেকে অভূতপূর্ব উন্নতি দেখা যায়। আর্থিক বাধা কেটে যায় এবং জীবনে ইতিবাচক শক্তির সঞ্চার হয়। তবে এর মানে এই নয় যে ডান দিকে নাক ফোটানো অপরাধ! ডান দিকে নাকছাবি পরার ক্ষেত্রে শাস্ত্রে কোনও কড়া বিধিনিষেধের উল্লেখ পাওয়া যায়নি। তবে শ্রেষ্ঠ ফল পেতে বাঁ দিকই বেছে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ।
শাস্ত্র মতে, আমাদের নাকের একটি সরাসরি যোগ রয়েছে শুক্র গ্রহের সঙ্গে। নাকছাবি পরলে জন্মকুণ্ডলীতে শুক্র গ্রহ শক্তিশালী হয় বলে মনে করা হয়। আর শুক্র শক্তিশালী হওয়া মানেই জীবনে সুখ, আর্থিক সমৃদ্ধি এবং প্রেমের জোয়ার আসা!
শুধু তাই নয়, জ্যোতিষীদের বিশ্বাস অনুযায়ী, যে নারীরা নাকছাবি পরেন, তাঁদের আবেগের উপর চমৎকার নিয়ন্ত্রণ থাকে। এদের আত্মবিশ্বাস হয় চোখে পড়ার মতো। তাঁরা অনেক বেশি ধীর-স্থির স্বভাবের হন এবং তাঁদের ধৈর্যও হয় অনেক বেশি। প্রাচীন ইতিহাসেও দেখা গিয়েছে, নারীদের আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধিতে এই গয়নার একটি বিশেষ গুরুত্ব ছিল।
সোনা না রুপো? কোন ধাতু আনবে সৌভাগ্য
ধাতুর ক্ষেত্রেও রয়েছে বিশেষ নিয়ম। রুপো বা অন্য কোনও ধাতুর নাকছাবি আজকাল অনেকেই পরেন, কিন্তু সোনার তৈরি নাকছাবিকেই জ্যোতিষীরা শ্রেষ্ঠ বলে মনে করেন। শাস্ত্রমতে, সোনার তৈরি গয়না পরলে জীবনে সফলতা প্রাপ্তিতে বিশেষ সুবিধা হয় এবং মানুষের সাহসও বৃদ্ধি পায়। আর যদি আপনার পাথর বসানো নাকছাবি পরার শখ থাকে, তবে হিরে, মুক্তো বা সাদা রঙের যে কোনও পাথর বসানো নাকছাবি অনায়াসে বেছে নিতে পারেন। এটি আপনার সৌন্দর্য যেমন বাড়াবে, তেমনই ভাগ্যকেও সুপ্রসন্ন করবে।
নজরদোষ থেকে মুক্তি
সুন্দর করে সাজার পর অনেকেই ভয় পান, পাছে কারও নজর লেগে যায়! বিশ্বাস করা হয় যে, নাকছাবি নেতিবাচক শক্তি বা নজরদোষ থেকে রক্ষা করতে দারুণ সাহায্য করে। অশুভ শক্তিকে প্রতিহত করার এক অদ্ভুত ক্ষমতা রয়েছে এই ছোট্ট গয়নাটির।
তাই, যদি নতুন করে নাক ফোটানোর পরিকল্পনা করে থাকেন, তবে নির্দ্বিধায় বাঁ দিকটা বেছে নিতে পারেন। সুন্দর সাজের পাশাপাশি যদি সৌভাগ্যও ফিরে আসে, তবে ক্ষতি কী!