
সকালের চা, এক গ্লাস দুধ কিংবা দুপুরের সয়াবিন তেলে রান্না করা তরকারি, রোজের এই খাবার থেকেই অজান্তে শরীরে ঢুকছে বিষ? ক’দিন আগেই বাংলাদেশে টুথপেস্টে প্লাস্টিক কণা পাওয়ার খবর সামনে এসেছিল। আর এবার বাংলাদেশেরই একদল গবেষক বাজার থেকে দুধ, চিনি আর সয়াবিন তেলের নমুনা পরীক্ষা করে শিউরে ওঠার মতো তথ্য দিয়েছেন। দেখা গিয়েছে, রোজকার এই খাবারগুলোতে থাবা বসিয়েছে খালি চোখে দেখা যায় না এমন ক্ষতিকর প্লাস্টিক কণা বা মাইক্রোপ্লাস্টিক (Microplastics)। শিশু থেকে শুরু করে বৃদ্ধ, সব বয়সের মানুষের জন্যই যা ডেকে আনছে চরম স্বাস্থ্য ঝুঁকি।
কোন খাবারে কতটা প্লাস্টিক?
বাংলাদেশের নানা বাজার থেকে নমুনা সংগ্রহ করে ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষা করে দেখেছেন গবেষকরা। সেই পরীক্ষার ফল আসতেই সবার চক্ষু চড়কগাছ:
সয়াবিন তেল: সবথেকে খারাপ অবস্থা সয়াবিন তেলের। এই তেলে রান্না খাবার খেয়ে একজন বয়স্ক মানুষ প্রতিদিন গড়ে ১৭টিরও বেশি এবং বছরে প্রায় ৬,৪৪১টি প্লাস্টিক কণা অজান্তেই গিলে ফেলছেন! আর ছোট বাচ্চাদের শরীরে বছরে যাচ্ছে প্রায় ২৮,১৮০টি কণা!
দুধ ও চিনি: বোতল বা প্যাকেটের দুধে প্রতি ১০ মিলিলিটারে গড়ে ১৫৬টি কণা মিলেছে। আর খোলা চিনির প্রতি কেজিতে মিলছে প্রায় ৪০৩টি প্লাস্টিক কণা।
খাবারে প্লাস্টিক আসছে কোথা থেকে?
গবেষকরা দেখেছেন, মূলত ৩টি উপায়ে এই প্লাস্টিক খাবারে মিশছে:
প্যাকেট ও বোতল: প্লাস্টিকের বোতল বা প্যাকেটে খাবার বেশি দিন রাখা হলে তা থেকে কণা খাবারে মেশে।
কারখানার মেশিন: শোধনের সময় কারখানার মেশিন ও প্লাস্টিকের পাইপ ক্ষয়ে গিয়ে খাবারে মিশে যায়।
জঞ্জাল: চারপাশের বর্জ্য প্লাস্টিক হাওয়ায় ওজলে মিশেও খাবারে ঢুকছে।
শরীরে ঢুকলে কী ক্ষতি হতে পারে?
এই প্লাস্টিক কণাগুলো রক্তের সাথে মিশে মস্তিষ্ক ও হৃদপিণ্ডে জমে থাকতে পারে। এর ফলে হজমের মারাত্মক সমস্যা, হরমোনের গণ্ডগোল ও শরীরের ভেতরে ঘা হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
তবে মান নিয়ন্ত্রণ সংস্থা বিএসটিআই (BSTI) জানিয়েছে, আতঙ্কিত না হয়ে সচেতন হওয়া দরকার। কোন খাবারে প্লাস্টিকের নিরাপদ মাত্রা কতটা, তা আন্তর্জাতিক নিয়ম মেনে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। চিকিৎসকদের পরামর্শ, প্লাস্টিকের পাত্র ও প্যাকেটের ব্যবহার যত দ্রুত কমানো যায়, ততই মঙ্গল!