মাইগ্রেন (Migraine) মানেই কি মাথার একপাশে দপদপে ব্যথা? অনেকেই ভাবেন মাথা ধরলেই বুঝি মাইগ্রেনের শুরু। কিন্তু আসল সত্যিটা হল, এই সমস্যা শুধু মাথাব্যথার গণ্ডিতে আটকে থাকে না। আজকাল ঘরে ঘরে এই সমস্যা। ব্যথা একবার শুরু হলে রোজকার কাজ, পড়াশোনা বা বিশ্রাম, সব লাটে ওঠে। তাই একে আর পাঁচটা সাধারণ মাথাব্যথা ভেবে ভুল করলেই বিপদ।
মাথাব্যথার সঙ্গে শরীরে আর কী কী অস্বস্তি হয়?
মাথাব্যথার সঙ্গে গা গোলানো ভাব বা সত্যি সত্যিই বমি হয়ে যাওয়া।
কখনও কখনও আবার চারপাশের আলো, আওয়াজ বা কড়া গন্ধ একেবারেই সহ্য হয় না।
এই তীব্র ব্যথা কিন্তু হুট করে আসে না। শুরু হওয়ার আগে শরীর কিছু স্পষ্ট ইঙ্গিত দেয়। হঠাৎ মেজাজ খিটখিটে হয়ে যাওয়া, ঘাড় শক্ত হয়ে যাওয়া বা বারবার হাই ওঠার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।
অনেকের তো আবার চোখের সামনে আলোর ঝলকানি বা চারপাশ আবছা দেখার মতো সমস্যাও হয়।
হাত-পায়ে ঝিনঝিন করা বা অবশ লাগার মতো সমস্যাও মাইগ্রেনের অরা (Aura)-র সঙ্গে দেখা দিতে পারে। তবে বিশেষ করে হঠাৎ করে শরীরের কোনও দিক অবশ হয়ে যাওয়া বা কথা জড়িয়ে যাওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দিলে সেটিকে শুধু মাইগ্রেন ভেবে অবহেলা করা উচিত নয়। কারণ এগুলি অন্য জরুরি শারীরিক সমস্যারও লক্ষণ হতে পারে।
সঠিক জীবনযাপন: পর্যাপ্ত ঘুম, সময়মতো খাওয়া আর পর্যাপ্ত জল খাওয়ার কোনও বিকল্প নেই।
বিশ্রাম: খুব বেশি আলো বা আওয়াজে কষ্ট হলে, অন্ধকার আর শান্ত ঘরে চোখ বুজে শুয়ে থাকুন।
শরীরচর্চা ও চিন্তামুক্তি: এর সঙ্গে রোজ নিয়ম করে একটু হাঁটাচলা বা ব্যায়াম করা দরকার। মানসিক চাপ যতটা সম্ভব দূরে রাখুন।
ডায়েরি রাখা: একটা ছোট ডায়েরি রাখতে পারেন। কখন বা ঠিক কী কারণে ব্যথা বাড়ছে, সেটা লিখে রাখলে কোন কোন বিষয় মাইগ্রেনের সমস্যা বাড়াচ্ছে, তা বুঝতে সুবিধা হবে।
কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন?
তবে সব কিছুরই একটা সীমা আছে। যদি দেখেন ব্যথা বারবার ফিরে আসছে, আগের চেয়ে অনেক বেশি কষ্ট হচ্ছে, তবে আর দেরি করবেন না। সোজা চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। বিশেষ করে নিচের লক্ষণগুলি দেখলে সাবধান হওয়া জরুরি:
মাথাব্যথার ধরন আচমকা বদলে গিয়েছে।
ব্যথার সঙ্গে ধুম জ্বর এসেছে।
ঘাড় শক্ত হয়ে যাচ্ছে বা খিঁচুনি হচ্ছে।
চোখের দৃষ্টি ঝাপসা হয়ে আসা বা শরীরের কোনও দিক অবশ হয়ে যাওয়া।
হঠাৎ কথা জড়িয়ে যাওয়া, কথা বলতে বা বুঝতে সমস্যা হওয়া।
এই ধরনের লক্ষণ দেখা দিলে এক মুহূর্তও দেরি করবেন না। বিশেষ করে হঠাৎ তীব্র মাথাব্যথার সঙ্গে শরীরের কোনও অংশ অবশ হয়ে যাওয়া, কথা বলায় সমস্যা, দৃষ্টির সমস্যা বা খিঁচুনি হলে দ্রুত জরুরি চিকিৎসা নেওয়া প্রয়োজন। সঠিক সময়ে চিকিৎসা শুরু হলে অনেক বড় বিপদের হাত থেকে সহজেই বাঁচা সম্ভব।