
বর্ষাকাল (Monsoon) এলেই একটানা বৃষ্টি আর চারপাশের চটচটে ভাব যেন পিছু ছাড়তে চায় না। আর এই মরশুমে প্রায় প্রতিটা বাড়িতেই একটা চেনা সমস্যা দেখা যায়। ঘরের কাঠের দরজা বা আলমারির দরজা হঠাৎ আঁটসাট হয়ে আটকে যায়! বন্ধ করতে গেলে জ্যাম, আর টানাটানি করে খুলতে গিয়ে দরদর করে ঘাম ঝরার জোগাড়। শুধু দরজাই নয়, ঘরের পছন্দের খাট থেকে শুরু করে ডাইনিং টেবিল, সব কাঠের আসবাবই যেন এই সময়ে একটু ফুলে-ফেঁপে ওঠে।
কিন্তু কেন এমনটা হয়? আসলে বিজ্ঞান বলছে, কাঠের এক অদ্ভুত প্রাকৃতিক স্বভাব রয়েছে। চারপাশের বাতাসে আর্দ্রতা বা জলীয় বাষ্পের পরিমাণ বাড়লেই শুকনো কাঠ স্পঞ্জের মতো তা শুষে নিতে শুরু করে। ফলে আয়তন বাড়ার পাশাপাশি কাঠে ছাতা ধরে, এমনকী উইপোকার উৎপাতও জাঁকিয়ে বসে। তবে কয়েকটা সহজ আর স্মার্ট উপায় জানা থাকলে এই ঝক্কি থেকে সহজেই নিস্তার পাওয়া সম্ভব।
মেঝের সঙ্গে সরাসরি যেন ছুঁয়ে না থাকে
বর্ষায় ঘর মোছার পর বা মেঝের স্যাঁতসেঁতে ভাব থেকে কাঠ সবচেয়ে বেশি জলীয় বাষ্প টানে। তাই আসবাবপত্রের পায়ের নিচে শক্ত প্লাস্টিক, রবার বা ধাতব ক্যাপ লাগিয়ে দিতে পারেন। এতে কাঠ সরাসরি মেঝের সংস্পর্শে থাকবে না এবং নিচ থেকে আর্দ্রতা টেনে ফোলার ঝুঁকিও অনেক কমে যাবে।
ঘরের ভেতর শুষ্ক রাখুন
বাতাসের আদ্রভাব কাটাতে ঘরে ডি-হিউমিডিফায়ার কিংবা ন্যাপথলিন ব্যবহার করতে পারেন। এগুলো বাড়তি আর্দ্রতা শুষে নেয়। পাশাপাশি আলমারির কোণে বা আসবাবের ওপর কয়েকটি লবঙ্গ ও শুকনো নিম পাতা ছড়িয়ে রাখলে প্রাকৃতিকভাবেই উইপোকা ও ছত্রাকের আক্রমণ আটকানো যায়।
ভেজা কাপড় থেকে দূরে রাখুন
বর্ষাকালে ধুলোবালি পরিষ্কার করার জন্য ভেজা কাপড় ব্যবহার করা একদমই উচিত নয়। এতে আসবাব আরও বেশি জল টানে। সব সময় শুকনো ও নরম সুতি কাপড় দিয়েই ধুলো ঝেড়ে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ। আসবাবের উজ্জ্বলতা ধরে রাখতে ভালো উড পলিশ ব্যবহার করতে পারেন, যা কাঠের সুরক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করে।
তার্পিন তেলের মোম
অনেকেরই অভ্যাস থাকে আসবাব পরিষ্কারে তার্পিন তেল ব্যবহার করা। কিন্তু বর্ষায় এই ভুল করলে কাঠের ক্ষতি হতে পারে। বদলে বাজারে মিলবে স্প্রে মোম (Spray Wax)। এটি আসবাবের গায়ে ওয়াটারপ্রুফ স্তর তৈরি করে দেয়, যার ফলে বাইরের আর্দ্রতা কাঠের ভেতরে সহজে ঢুকতে পারে না।
একটু খেয়াল রেখে এই কয়েকটি নিয়ম মেনে চললেই বর্ষাতেও আপনার পছন্দের কাঠের আসবাব থাকবে একদম নতুন ও সুরক্ষিত!