
রান্নাঘরের মশলাপাতি (Kitchen Spices) ঠিক রাখা বর্ষাকালে এক বিরাট ঝক্কির কাজ। বাইরে ঝমঝমিয়ে বৃষ্টি নামলেই বাতাসে আর্দ্রতা বা ভেজা ভাব বেড়ে যায়। আর তার প্রভাব সোজা গিয়ে পড়ে হেঁশেলে। আনাজপাতি তাড়াতাড়ি নষ্ট তো হয়ই, সবচেয়ে বেশি বিপদে ফেলে নুন ও চিনি। কৌটোর ঢাকনা যতই শক্ত করে আঁটা থাকুক না কেন, কয়েক দিনেই নুন-চিনি ভিজে প্যাচপ্যাচে হয়ে দলা পাকিয়ে যায়। রান্নার সময় চামচ দিয়ে তুলতে গিয়েও তখন বেশ বিরক্ত লাগে। তবে চিন্তার কোনও কারণ নেই, হাতের কাছে থাকা খুব সাধারণ কয়েকটি জিনিস দিয়েই কিন্তু এই মুশকিল আসান করা সম্ভব।
নুন ও চিনি বাতাস থেকে খুব দ্রুত জল শুষে নেয়। তাই এদের শুকনো ও ঝরঝরে রাখতে সাহায্য নিন এই সহজ ঘরোয়া উপায়ের:
কয়েকটা চালের দানা: আর্দ্রতা দূর করতে চালের জুড়ি মেলা ভার। নুন বা চিনির বয়ামে কয়েকটি শুকনো কাঁচা চালের দানা ফেলে রাখুন। চাল প্রাকৃতিক ভাবেই ভেজা ভাব শুষে নেয়। নুনের বড় কৌটো হলে একটি পাতলা কাপড়ে সামান্য চাল বেঁধে পুঁটুলি বানিয়ে ভেতরে রেখে দিতে পারেন।
কফি বিন: ঘরে আস্ত কফি বিন থাকলে ৩-৪টি দানা নুন বা চিনির জারে ফেলে দিন। এটিও অতিরিক্ত জলীয় ভাব টেনে নেয়। সবচেয়ে সুবিধার বিষয় হল, এতে নুন বা চিনির নিজস্ব স্বাদে কোনও বদল আসে না।
লবঙ্গ: রান্নার লবঙ্গ কিন্তু দারুণ আর্দ্রতা শোষক হিসেবে কাজ করে। বয়ামের ভেতর কয়েকটি শুকনো লবঙ্গ ফেলে রাখলে ভেজা ভাব ধারেকাছে ঘেঁষে না। তবে লবঙ্গের তীব্র গন্ধ যাতে নুন বা চিনির সঙ্গে মিশে না যায়, তার জন্য লবঙ্গগুলোকে পাতলা কাপড়ে আলতো করে মুড়ে রাখতে পারেন।
শুকনো রাজমা: কফি বিন বা চালের মতোই শুকনো রাজমাও বাতাস থেকে স্যাঁতসেঁতে ভাব টেনে নিতে ওস্তাদ। নুনদানিতে দু-তিনটি রাজমার দানা দিয়ে রাখলেই সারা বর্ষা জুড়ে নুন থাকবে একদম শুকনো।
নুন ও চিনির পাত্র সব সময় উনুনের তাপ বা স্যাঁতসেঁতে জায়গা থেকে দূরে কোনও ঠান্ডা ও হাওয়া-বাতাস খেলে এমন জায়গায় রাখা উচিত। ভেজা চামচ কখনও বয়ামে ঢোকাবেন না। সামান্য এই কয়েকটি নিয়ম মানলেই বর্ষাতেও আপনার রান্নাঘরের নুন-চিনি থাকবে পুরোপুরি শুকনো ও ঝরঝরে।