
পায়ের টান বা ক্র্যাম্প (Leg Cramp) এমন একটি যন্ত্রণা, যা হঠাৎ এসে মুহূর্তের মধ্যে কালঘাম ছুটিয়ে দেয়। রাতে সুন্দর ঘুমোচ্ছেন, হঠাৎ মনে হল কেউ যেন পায়ের পেশিটা চেপে মুচড়ে দিল! কিংবা হয়তো একটু দ্রুত হাঁটছেন, হঠাৎ টান লেগে পা আর নাড়ানো যাচ্ছে না। এমন পরিস্থিতিতে যন্ত্রণায় ছটফট করা ছাড়া আর কোনও উপায় থাকে না। তবে কিছু কাজ করলে এই কষ্ট থেকে সঙ্গে সঙ্গে মুক্তি পাওয়া সম্ভব।
পায়ের টান ধরলে অনেকেই পা চেপে ধরে বসে থাকেন বা মালিশ করতে শুরু করেন। কিন্তু চিকিৎসকদের মতে, ভুলভাবে চাপ দিলে ব্যথা আরও বেড়ে যেতে পারে। এ সময়ে সবচেয়ে কার্যকর উপায় হল পেশিটিকে বিপরীত দিকে হালকা টেনে ধরা, যাকে বলা হয় স্ট্রেচিং (Stretching)।
টান ধরলে সঙ্গে সঙ্গে যা করবেন:
বিপরীত দিকে টানুন: টান যে পেশিতে ধরেছে, তাকে আস্তে আস্তে উল্টো দিকে টানুন। যেমন পায়ের তলায় কাফ মাসলে টান ধরলে সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে পদের বুড়ো আঙুল ওপরের দিকে তোলার চেষ্টা করুন।
পায়ের পাতায় চাপ দিন: বিছানায় সোজা হয়ে বসে পা ছড়িয়ে দিন। এবার হাতের সাহায্যে পায়ের আঙুলগুলো নিজের শরীরের দিকে ধীরে ধীরে টেনে আনুন। এতে পেশি দ্রুত শিথিল হয়ে যায়।
হালকা হাঁটাচলা: খুব বেশি যন্ত্রণা না থাকলে ধীরে ধীরে একটু হেঁটে নিন। এতে পায়ে রক্ত চলাচল বাড়ে এবং পেশি শান্ত হয়।
গরম বা ঠান্ডা সেঁক: টান বা ক্র্যাম্প কমে যাওয়ার পর পেশিতে হালকা বরফ ঘষতে পারেন। অথবা গরম জলের বোতল দিয়ে হালকা সেঁক নিলে ওই জায়গার রক্ত সঞ্চালন স্বাভাবিক হয়।
গবেষণায় দেখা গিয়েছে, শরীরে জল ও ইলেক্ট্রোলাইটের (Electrolytes) অভাব হলে এই সমস্যা বেশি দেখা দেয়। ক্যালসিয়াম, পটাশিয়াম ও ম্যাগনেসিয়ামের ঘাটতি পেশির এ ধরনের আকস্মিক সংকোচনের মূল কারণ। তাই প্রচুর জল খাওয়া অত্যন্ত জরুরি।
তবে প্রতিদিন বা বারবার যদি এই সমস্যা হতে থাকে, তবে তা সাধারণ টান নাও হতে পারে। রক্ত সঞ্চালনের সমস্যা বা স্নায়ুর কোনও জটিলতা আছে কি না, তা জানতে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া উচিত।