Suicide of bird: শ’য়ে-শ’য়ে পাখি উড়ে আসে তারপর আছাড় খায়, এই গ্রামে কেন ‘আত্মহত্যা’ করে ঝাঁকে-ঝাঁকে পাখি?

Mysterious Suicide of Birds: গ্রামবাসীরা বলেন, বিশেষ করে অমাবস্যার রাতে যখন পুরো এলাকা ঘন কুয়াশা এবং মেঘে ঢেকে যায়, সেই সময় বিভিন্ন প্রজাতির পাখি, যেমন কিংসফিশার, টাইগার বিটার্ন, লিটল এগ্রেট, এমারেল্ড ডোভ, এমনকী স্থানীয় মাছরাঙা গোছের পাখিরাও গ্রামের দিকে উড়ে আসে।

Suicide of bird: শয়ে-শয়ে পাখি উড়ে আসে তারপর আছাড় খায়, এই গ্রামে কেন আত্মহত্যা করে ঝাঁকে-ঝাঁকে পাখি?
পাখিদের মৃত্যুImage Credit source: Getty Images

Aug 06, 2026 | 1:26 PM

মানুষ আত্মহত্যা করে। কখনও রাগে, কখনও দুঃখে, কখনও অভিমানে, কখনও আবার স্রেফ হেরে গিয়েছেন ভেবে আত্মহননের পর বেছে নেন। কিন্তু, কখনও শুনেছেন পাখিরা আত্মহত্যা করেছে? না মজা নয়, এটা কিন্তু একদম সত্যি ঘটনা। প্রতিবছর ঝাঁকে-ঝাঁকে পাখি আত্মহত্যা করে ভারতের জাতিঙ্গা গ্রামে। মানুষের না হয় বিবিধ কারণ থাকে, কিন্তু পাখিরা আত্মহত্যা কেন করে? এই গ্রামেই বা করে কেন? আজ জানাব সেই কথাই

কিন্তু এমন ঘটনা বছরের পর বছর ধরে ঘটে চলেছে অসমের ডিমা হাসাও জেলার জতিঙ্গা গ্রামে।

জাতিঙ্গা হল অসমের একটি পাহাড়ি অঞ্চল। এখান মূলত সাঁওতালদের বাস। এই এলাকা ‘পাখিদের মৃত্যু উপত্যকা’ হিসাবে পরিচিত। প্রতিবছর সেপ্টেম্বর থেকে নভেম্বর মাসে ঘটে পাখিদের আত্মহত্যার ঘটনা। অদ্ভুত ব্যাপার, শত শত পাখি রহস্যজনকভাবে মৃত্যুর মুখে ঢলে পড়ে। কিন্তু কেন?

ঠিক কী ঘটে?

গ্রামবাসীরা বলেন, বিশেষ করে অমাবস্যার রাতে যখন পুরো এলাকা ঘন কুয়াশা এবং মেঘে ঢেকে যায়, সেই সময় বিভিন্ন প্রজাতির পাখি, যেমন কিংসফিশার, টাইগার বিটার্ন, লিটল এগ্রেট, এমারেল্ড ডোভ, এমনকী স্থানীয় মাছরাঙা গোছের পাখিরাও গ্রামের দিকে উড়ে আসে। দিকবিদিকশূন্য হয়ে তারা তীব্র গতিতে উড়ে এসে গাছের ডাল,খুঁটির উপর আছড়ে পড়ে। তারপর মারাত্মক আহত হয় এবং মারা যায়। মূলত সন্ধে ৭টা থেকে ১০টার মধ্যে এমন ঘটনা তারা ঘটায়।

স্থানীয় মানুষজন কী বিশ্বাস করেন?

এলাকার মানুষজন আগে ভাবতে কোনও অপশক্তির নজর লাগে, সেই জন্য এই পাখিরা আত্মহত্যা করে। কেউ কেউ আবার এমনও বলে থাকে, আকাশে থাকা ‘দুষ্টু বা খারাপ আত্মারা’ এই পাখিদের নামিয়ে আনে।

বিশেষজ্ঞরা কী বলছেন?

এরপর দীর্ঘদিন চলতে থাকা এই রহস্য ভেদে এরপর নেমে পড়েন পক্ষী বিশেষজ্ঞদের একাংশ। বিখ্যাত পক্ষীবিদ আনোয়ারউদ্দিন চৌধুরী দাবি, বর্ষার সময় অসমের নিচু অঞ্চলগুলি প্লাবিত হওয়ায় পাখিদের প্রাকৃতিক বাসস্থান ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ফলে তারা অন্য জায়গায় যাওয়ার চেষ্টা করে। আর পথের মাঝে পড়ে জাতিঙ্গা।

মূলত পাহাড়ি উপত্যকায় সেপ্টেম্বর থেকে নেভেম্বর মাসে প্রায়ই তীব্র বেগে বাতাস বয়। এর জেরে ছোট কিংবা অনভিজ্ঞ পাখিরা দিক হারিয়ে ফেলে। এরপর গ্রামে জ্বলতে থাকা আলো,সার্চলাইট দেখে সেদিকে উড়ে আসে। আর তখনই বাঁশের খুঁটি,গাছগাছালি বা ঘরের দেওয়ালের সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে আঘাতপ্রাপ্ত হয়, প্রাণ হারায়।

কোনও কোনও বিশেষজ্ঞ এও বলেছেন, ওই এলাকার জলের চৌম্বকীয় বৈশিষ্ট্যে কিছু সাময়িক পরিবর্তন ঘটে। যা পাখিদের স্বাভাবিক ভারসাম্য ও দিকনির্ণয় ক্ষমতা গুলিয়ে দেয়।

তবে, জানেন কী জতিঙ্গাতেই শুধু পাখিদের এই অদ্ভুত আচরণ দেখা যায় এমনটা নয়, এই ঘটনা দেখা যায় ফিলিপিন্স ও মালয়েশিয়ার মতো দেশেও।

 

 

Loading...
Unable to load recommendations.
Follow Us