Eating curd at night: রাতে টকদই খাওয়া কি উচিত? বিশেষজ্ঞরা বলছেন…

Curd dinner side effects: দই খাওয়া শরীরের জন্য ভীষণ ভালো, কিন্তু রাত হলেই কেন শুরু হয় কড়া নিষেধ? অনেকেই বলেন রাতে দই খেলে নাকি বুকে কফ জমে আর শরীর অসুস্থ হয়ে পড়ে। আসলেই কি রাতে টকদই খাওয়া এতটা ক্ষতিকর, নাকি রয়েছে অন্য কোনও কারণ? রইল বিস্তারিত তথ্য।

Eating curd at night: রাতে টকদই খাওয়া কি উচিত? বিশেষজ্ঞরা বলছেন...
কী বলছেন বিশেষজ্ঞরা?Image Credit source: tv9 network

Aug 21, 2026 | 12:09 PM

টক দই (Curd) খাওয়া যে পেটের জন্য কতটা উপকারী, তা আর নতুন করে বলে দিতে হয় না। কিন্তু রাতের খাবারের পাতে এক বাটি দই পড়লেই বাড়ির বড়রা সঙ্গে সঙ্গে বারণ করে ওঠেন। তখন মনে প্রশ্ন জাগাই স্বাভাবিক, দিনে যে খাবার শরীরের জন্য এত ভালো, সূর্য ডুবলেই সেটা হঠাৎ ক্ষতিকর হয়ে যায় কেন?

আসলে এই বারণ কিন্তু আজকের নয়। এর শিকড় লুকিয়ে রয়েছে আয়ুর্বেদের বহু পুরনো এক সংস্কৃত শ্লোকে, ‘নক্তং দধি ন ভুঞ্জীত’। সহজ কথায় যার মানে হল, রাতে দই খাওয়া একেবারেই উচিত নয়। কিন্তু পুরনো দিনের এই নিয়মের পেছনে আসল রহস্যটা কী? আর আজকের বিজ্ঞানই বা কী যুক্তি দিচ্ছে?

আয়ুর্বেদ কেন বারণ করে?

আয়ুর্বেদের প্রধান গ্রন্থ ‘চরক সংহিতা’-তে স্পষ্ট বলা হয়েছে, রাতে দই খাওয়া ঠিক নয়। কারণ দই বেশ ভারী খাবার এবং এটি শরীরে কফের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। সূর্যাস্তের পর আমাদের হজম ক্ষমতা স্বাভাবিকভাবেই কিছুটা কমে যায়। তাই এই সময় দই খেলে পেটের গোলমাল হতে পারে, আবার শরীরে কফ জমে সর্দি-কাশির ধাতও বেড়ে যেতে পারে।

বিজ্ঞান কী বলছে?

আধুনিক পুষ্টিবিদরা অবশ্য একটু অন্যভাবে বিষয়টি দেখেন। তাঁদের মতে, দইয়ে ভরপুর প্রোটিন, ক্যালসিয়াম আর ভালো ব্যাকটেরিয়া থাকে। তাই শুধু ঘড়ির কাঁটা রাত ছুঁয়েছে বলেই দই সবার জন্য বিষ হয়ে যায় না।

রাতে দই খেলেই যে সবার ঠান্ডা লাগবে, এমন কোনও অকাট্য বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। তবে আসল সমস্যাটা হয় সময়ে। দই হজম হতে কিছুটা সময় নেয়। তাই রাতের খাবার খেয়েই সোজা ঘুমিয়ে পড়লে বদহজম, অম্বল বা বুক জ্বালার মতো সমস্যা দেখা দিতেই পারে। বিশেষ করে যাঁদের আগে থেকেই গ্যাসের সমস্যা রয়েছে, তাঁদের পেট ফাঁপার ভয় থেকেই যায়।

রাতে খেতেই হলে কী করবেন?

চরক সংহিতাতেই আবার উপায়ও বাতলে দেওয়া হয়েছে। রাতে যদি একান্তই দই খেতে মন চায়, তবে শুধু সাদা দই না খেয়ে সঙ্গে কিছু ঘরোয়া জিনিস মিশিয়ে নেওয়া ভালো:

  • সামান্য খাঁটি মধু বা অল্প ঘি
  • এক চিমটে গোলমরিচ গুঁড়ো বা বিট নুন
  • একটু ভাজা জিরে গুঁড়ো বা পাতলা মুগ ডালের জল

কাদের একটু সমঝে চলা উচিত?

  • যাঁদের প্রায়ই রাতে খাওয়ার পর বুক জ্বালা বা চোঁয়া ঢেকুর ওঠে।
  • ঠান্ডা জিনিসে যাঁদের চট করে গলা বসে যায় বা সাইনাস-হাঁপানির সমস্যা বাড়ে।
  • যাঁদের রাতে ভারী খাবার খেলে হজম হতে চায় না।

সব মিলিয়ে আসল কথা হল, নিজের শরীরকে বোঝা। রাতে দই খেয়ে যদি কারও কোনও শারীরিক অস্বস্তি না হয়, তবে পরিমিত খাওয়া যেতেই পারে। তবে শুতে যাওয়ার অন্তত ঘণ্টা দুয়েক আগে রাতের খাওয়া শেষ করে নেওয়াই সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ।

Loading...
Unable to load recommendations.
Follow Us