
ব্যস্ত জীবনের ক্লান্তি আর মানসিক চাপ (Mental stress) থেকে মুক্তি পেতে অনেকেই অনেক কিছু করেন। কিন্তু জানেন কি, দিনের শেষে মাত্র কয়েক মিনিট প্রকৃতির সঙ্গে কাটালে নিমেষেই ভালো হয়ে যেতে পারে শরীর ও মন? দিগন্তে সূর্য ডুবে যাওয়ার সেই চেনা দৃশ্যই আসলে আমাদের সুস্থতার এক মস্ত বড় ওষুধ। সারাদিনের দৌড়ঝাঁপের পর গোধূলির এই রঙিন আলো কেবল চোখের আরাম দেয় না, বরং মনকে ভেতর থেকে শান্ত করে। মনোবিজ্ঞানী ও স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রতিদিন নিয়ম করে সূর্যাস্ত দেখলে আমাদের ভেতরে এক দারুণ ইতিবাচক পরিবর্তন আসে।
‘বিবিসি’-র এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রকৃতির এই সুন্দর দৃশ্য আমাদের মস্তিষ্ককে কিছুক্ষণের জন্য জিরিয়ে নেওয়ার সুযোগ করে দেয়। সারাদিন অফিসের কাজ, রাস্তার জ্যাম আর অনবরত মোবাইলের স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে আমাদের চোখ আর মাথা যখন ক্লান্ত হয়ে পড়ে, ঠিক তখনই ম্যাজিকের মতো কাজ করে বিকেলের এই শান্ত আকাশ। এটি আমাদের শরীরের ভেতরের ঘড়ি বা ‘সার্কাডিয়ান রিদম’-কে ঠিক রাখতে সাহায্য করে। সন্ধ্যায় আলো কমে আসার সঙ্গে সঙ্গে শরীর নিজে থেকেই বুঝতে পারে যে এবার বিশ্রামের সময় হয়েছে। ফলে, যাঁদের রাতে সহজে ঘুম আসতে চায় না, নিয়মিত খোলা আকাশের নিচে সূর্যাস্ত দেখলে তাঁদের ঘুমের সমস্যা অনেকটাই কমে যায়।
মনোবিজ্ঞানের ভাষায় এই অনুভূতিকে বলা হয় ‘অ’ (Awe)—যার সহজ অর্থ হলো এক পরম বিস্ময়। যখন কেউ বিশাল আকাশের নিচে সূর্যকে ধীরে ধীরে ডুবে যেতে দেখেন, তখন নিজের রোজকার ছোটখাটো সমস্যা বা দুশ্চিন্তাগুলোকে আচমকাই খুব ছোট মনে হয়। এই অনুভূতি মনকে শান্ত করে এবং মন থেকে খারাপ চিন্তা দূর করে দেয়। একই সঙ্গে, এটি আপনাকে ডিজিটাল দুনিয়া অর্থাৎ মোবাইল-ল্যাপটপ থেকে কিছুক্ষণের জন্য দূরে সরিয়ে রাখে, যা চোখের ক্লান্তি কমাতেও এই সময়ের জুড়িমেলা ভার।
নদীর পাড়, পাহাড়ের চূড়া কিংবা নিজের বাড়ির ছাদ, যেখানেই হোক না কেন, প্রতিদিনের এই ১০-১৫ মিনিটের নীরবতা আসলে নিজেকে ভালো রাখার একটা সহজ উপায়। প্রকৃতির এই নিয়মের সঙ্গে যখন আমরা নিজেদের মিলিয়ে নিই, তখন মনের সব ক্লান্তি ধুয়ে মুছে সাফ হয়ে যায় এবং পরের দিনের কাজের জন্য নতুন করে এনার্জি পাওয়া যায়।