
মাছ, মাংস কিংবা পনির, ছুটির দিন হোক বা বিশেষ কোনও অনুষ্ঠানে খাবার পাতে সাধারণত এই সমস্ত খাবারই জায়গা পায়। কিন্তু রবিবারের দুপুরে যদি ধোঁয়া ওঠা গরম ভাতের সঙ্গে পাতে পড়ে কচুর কোর্মা? প্রথম পাতেই মন জয় হয়ে যাবে সবার! অনেকে হয়তো বলবেন কচু খেলে তো গলা চুলকায়! কিন্তু রান্না যদি করেন সঠিক নিয়মে, তবে চিকেন মটন কষাও তার স্বাদের কাছে হার মানবে। গলাও চুলকাবে না।
নিউট্রিশনিস্ট ও স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, কচুতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে আয়রন ও ফাইবার। যারা রক্তাল্পতা বা অ্যানিমিয়ার সমস্যায় ভুগছেন, তাদের জন্য এটি দারুণ এক পথ্য। আর গলা চুলকানোর ভয়? তার সমাধানও খুব সহজ। রান্নার সময় সামান্য লেবুর রস বা টক দই ব্যবহার করলেই চুলকানোর ভয় পুরোপুরি কেটে যায়।
কচুর কোর্মা বানাতে কী কী লাগবে?
প্রধান উপকরণ: শোলা কচু ৫০০ গ্রাম (খোসা ছাড়িয়ে আধ ইঞ্চি গোল চাকা করে কাটা), পেঁয়াজ কুচি বা বাটা আধ কাপ, আদা বাটা ১ চা-চামচ, রসুন বাটা ১ চা-চামচ।
মশলা ও ফোড়ন: তেজপাতা ২টো, হলুদ গুঁড়ো আধ চা-চামচ, লঙ্কা গুঁড়ো ১ চা-চামচ, ধনে গুঁড়ো ১ চা-চামচ, জিরে গুঁড়ো আধ চা-চামচ, গরম মশলা গুঁড়ো এক-তৃতীয়াংশ চা-চামচ।
গ্রেভির আসল স্বাদ: টক দই ২ টেবিল চামচ, কাজুবাদাম বাটা ২ টেবিল চামচ, নারকেলের দুধ ২ কাপ, পেঁয়াজ বেরেস্তা ১/৪ কাপ, কাঁচা লঙ্কা ৪-৫টি।
অন্যান্য: রান্না করার জন্য তেল, ঘি, নুন ও চিনি স্বাদমতো।
রান্নার সহজ ধাপ:
১) প্রথমে কেটে রাখা কচুর টুকরোগুলো নুন ও সামান্য হলুদ দিয়ে জলে আধ সেদ্ধ করে জল ঝরিয়ে নিন।
২) কড়াইয়ে অল্প তেল দিয়ে কচুর টুকরোগুলো হালকা ভেজে তুলে রাখুন। এবার কড়াইয়ে বাকি তেল ও ঘি গরম করে তেজপাতা ফোড়ন দিন।
৩) একে একে পেঁয়াজ বাটা, আদা-রসুন বাটা এবং সব গুঁড়ো মশলা সামান্য জল দিয়ে ভালো করে কষিয়ে নিন।
৪) মশলা থেকে তেল ছাড়তে শুরু করলে ফেটিয়ে রাখা টক দই ও কাজুবাদাম বাটা দিয়ে দিন। এরপর ভেজে রাখা কচুগুলো দিয়ে ভালো করে নেড়েচেড়ে নিন।
৫) এবার দিয়ে দিন নারকেলের দুধ, পরিমাণমতো নুন, চিনি ও কাঁচা লঙ্কা। কড়াই ঢাকনা দিয়ে কম আঁচে ১০ থেকে ১২ মিনিট ফুটতে দিন।
ঝোল ঘন হয়ে এলে ওপর থেকে সুগন্ধি গরম মশলা, এক চামচ ঘি আর মুচমুচে পেঁয়াজ বেরেস্তা ছড়িয়ে নামিয়ে নিন। তৈরি হয়ে গেল পুরনো কলকাতার ঐতিহ্যবাহী নিরামিষ কচুর কোর্মা!