
গ্রীষ্ম হোক বা বর্ষা, জীবনে কখনও না কখনও ফোঁড়ার সমস্যায় জেরবার হননি এমন মানুষের সংখ্যা নেহাতই হাতে গোনা। ঘাম, ধুলোবালি আর দূষণের জেরে ত্বকের নানা সমস্যার মধ্যে ফোঁড়া অবশ্যই একেবারে উপরের দিকে থাকে। এটা যেমন যন্ত্রণাদায়ক, তেমনই অস্বস্তিকর। দেখতে ছোট হলেও একেবার হলে এর তীব্র ব্যথায় প্রাণ একেবারে ওষ্ঠাগত হওয়ার জোগাড় হয়। কিন্তু একটু সচেতন হলে এবং রোজকার লাইফস্টাইলে সামান্য কিছু স্বাস্থ্যকর পরিবর্তন আনলেই এই সমস্যা থেকে খুব সহজেই মুক্তি পাওয়া যায়।
ফোঁড়া হলে ঘাবড়ে না গিয়ে প্রাথমিক উপশম হিসেবে কিছু সহজ ঘরোয়া টোটকা কাজে লাগাতে পারেন। এর মধ্যে সবচেয়ে জাদুকরী ও আরামদায়ক উপায় হল গরম সেঁক। দিনে তিন-চারবার একটি পরিষ্কার নরম সুতির কাপড় হালকা গরম জলে ভিজিয়ে ১০-১৫ মিনিট সেঁক দিন। উষ্ণ সেঁকে ত্বকে রক্ত চলাচল বাড়ে। পুঁজ দ্রুত এক জায়গায় জড়ো হয়ে নিজে থেকেই ফেটে যায়। তবে ভুলেও নখ দিয়ে ফোঁড়া ফাটানো বা খোঁটাখুঁটি করবেন না, এতে সংক্রমণ আরও গভীরে ছড়িয়ে পড়তে পারে।
ফোঁড়া ফেটে গেলে অ্যান্টিসেপটিক দিয়ে জায়গাটি আলতো করে পরিষ্কার করে নিন। তবে ফোঁড়ার আকার বড় হলে, ব্যথা মাত্রাছাড়া হলে বা জ্বর এলে অবশ্যই চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া উচিত। তবে ফোঁড়া থেকে মুক্তি পেতে দৈনন্দিন পরিচ্ছন্নতার কোনও বিকল্প নেই। বাইরে থেকে ঘরে ফিরলে অবশ্যই নিজেকে ভালো করে পরিষ্কার করা দরকার। ত্বকে জমে থাকা ঘাম ও ধুলোবালি ভালোভাবে পরিষ্কার করে স্নান করাটা রোজকার রুটিনে রাখতেই হবে।
ত্বককে সুস্থ রাখতে সবসময় পরিষ্কার, আরামদায়ক ও ঢিলেঢালা সুতির পোশাক পরার চেষ্টা করুন, যাতে আপনার ত্বক মন খুলে শ্বাস নিতে পারে। কারণ, ঘাম বসে থাকার সুযোগ না পেলে ব্যাকটেরিয়া বাসা বাঁধতে পারে না। সেই সঙ্গে নিজের ব্যবহৃত তোয়ালে, রেজার বা বিছানার চাদর একান্তই নিজের রাখুন, অন্যের সঙ্গে শেয়ার করা এড়িয়ে চলুন। একইসঙ্গে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা মজবুত থাকলে ফোঁড়ার মতো সমস্যা এমনিতেই দূরে থাকে। তাই প্রতিদিনের খাবারে ভিটামিন সি ও জিঙ্ক সমৃদ্ধ তাজা ফলমূল এবং পর্যাপ্ত সবুজ শাকসবজি রাখা আবশ্যিক। ত্বককে ভেতর থেকে হাইড্রেটেড রাখতে সারাদিনে প্রচুর পরিমাণে জল পান করুন।