
কলকাতা: দিনভর কাজের ব্যস্ততার পর আমরা সবাই-ই রাতের বেলা শুয়ে শুয়ে ইনস্টাগ্রাম (Instagram), ফেসবুক (Facebook), ইউটিউব শর্টস (Youtube Shorts) দেখি। ধীরে ধীরে এটাই আমাদের অভ্যাস হয়ে গিয়েছে। কেউ রিল দেখেন, কেউ কোনও ট্রেন্ডিং ভিডিও, কেউ বা কোনও বন্ধুর পোস্ট – সব মিলিয়ে ফোন ঘাঁটতে ঘাঁটতে আমাদের যে কখন গভীর রাত হয়ে যায়, টের পাওয়া যায় না। তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন, ঘুমানোর ঠিক আগে বিছানায় শুয়ে শুয়ে ফোন ঘাঁটা শরীর ও মনের ওপর গুরুতর প্রভাব ফেলতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, স্মার্টফোনের স্ক্রিন থেকে নির্গত নীল আলো মস্তিষ্কে মেলাটোনিন হরমোনের উৎপাদন কমিয়ে দেয়। এই হরমোনই শরীরকে ঘুম পাড়ায়। ফলে রাতের বেলা ঘুম আসতে দেরি হয় ও ঘুমের গুণমানও খারাপ হতে পারে। অনেকেই মনে করেন, মাত্র ১০-১৫ মিনিট ফোন ঘাঁটছেন কিন্তু এর অ্যালগোরিদম (Algorithm) এমন ভাবেই তৈরী যে ব্যবহারকারীরা দীর্ঘ সময় ধরে স্ক্রল করেন। এর ফলে ঘুমের ঘাটতি হয়, দেরি করে ঘুম হয় ও সকালে উঠতে দেরি হয়।
মানসিক স্বাস্থ্যের উপর প্রভাব –
শুধু ঘুম নয়, রাত অবধি ফোন ঘাঁটার ফলে মনেও প্রভাব পড়ে। রাতের বেলা অন্যের সাফল্য, লাইফস্টাইল দেখে নিজের জীবনের সোনে তুলনা করেন অনেকে, যার প্রভাব তাঁদের মানসিক স্বাস্থ্যে পড়ে। এছাড়া অন্ধকার ঘরে উজ্জ্বল স্ক্রিনের দিকে দীর্ঘক্ষণ তাকিয়ে থাকলে চোখের শুষ্কতার মতো রোগ দেখা দিতে পারে।
কী বলছেন বিশেষজ্ঞরা?
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, ঘুমানোর অন্তত ৩০ থেকে ৬০ মিনিট আগে স্মার্টফোন, অন্য কোনও ডিজিটাল ডিভাইস ব্যবহার করা উচিত না। পরিবর্তে সফট মিউজিক, বই পড়া, মেডিটেশন বা শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়ামের মতো অভ্যাস গড়ে তোলা উচিত।
সুস্থ ঘুমের জন্য কয়েকটি টিপস –
১ – ঘুমানোর এক ঘন্টা আগে ফোন ব্যবহার বন্ধ রাখুন।
২ – বিছানায় শুয়ে সোশ্যাল মিডিয়া দেখবেন না।
৩ – প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমান।
৪ – রাতে কফিজাতীয় পানীয় কম খান।
৫- শোবার ঘর অন্ধকার করে ঘুমান।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ফোন ব্যবহার সম্পূর্ণ বন্ধ করার প্রয়োজন নেই। তবে কখন ও কতক্ষন ব্যবহার করছেন, তার উপর নির্ভর করছে আপনার মানসিক স্বাস্থ্য, ঘুম ও সুস্থতা। তাই রাত জেগে রিল দেখার অভ্যাস থাকলে এখনই সতর্ক হওয়া দরকার।