
বাজারে নতুন কোনও প্রসাধনী এলেই মনে হয় একবার ব্যবহার করে দেখি। বিউটি ব্লগারদের দেখে কিনেও ফেলেন নিত্যনতুন প্রসাধনী। আর হাতের মুঠোয় অনলাইন শপিং অ্যাপ থাকায় নতুন প্রডাক্ট ট্রাই করার জন্য বেশি ঝক্কি পোহাতে হয় না। তাই একটা ব্র্যান্ডের পণ্যে কাজ না দিলে, দ্রুত পরিবর্তন করে ফেলতে পারেন। তাছাড়া ফেসমাস্ক থেকে শুরু করে সিরাম, লিপ স্ক্রাব, হেয়ার প্যাক প্রসাধনীর ছড়াছড়ি। শুধু নখের যত্নেরই হাজার খানেক পণ্য পেয়ে যাবেন। আর মুখের দেখভালের জন্য হাজারো পণ্য পেয়ে যাবেন। কিন্তু ক্লিনজার, টোনার আর ময়েশ্চারাইজার মাখলেই কাজ শেষ হয়ে যায়।
আজকাল ত্বকের যত্নে ‘সিটিএম’ গুরুত্ব সবচেয়ে বেশি। দিনে অন্তত পক্ষে দু’বার ক্লিনজ়ার, টোনার এবং ময়েশ্চারাইজ়ার ব্যবহার করেই যথেষ্ট। এই তিন ধাপেই লুকিয়েই সুন্দর ও স্বাস্থ্যোজ্জ্বল ত্বকের রহস্য।
ক্লিনজিং: ত্বক উপর জমতে থাকে ঘাম, তেল, ধুলো, জীবাণু। এগুলো পরিষ্কার না করলে ত্বকের জেল্লা হারায়। পাশাপাশি বাড়ে ব্রণ, র্যাশের সমস্যা। আবার যদি মেকআপ করার অভ্যাস থাকে, তখনও আরও বেশি করে ত্বক পরিষ্কার করা দরকার। ত্বকের যত্নে সবসময় মাইল্ড ক্লিনজার ব্যবহার করুন। প্রথমবার মুখ ধুলেই যে সমস্ত ময়লা পরিষ্কার হয়ে যাবে, এমন নয়। প্রয়োজনে ডবল ক্লিনজিং করুন। এমন ফেসওয়াশ বা ক্লিনজার বেছে নেবেন, যা ত্বকের পিএইচ স্তরের ভারসাম্য ও আর্দ্রতা নষ্ট করবে না।
টোনার: ত্বকের পিএইচ স্তরের ভারসাম্য বজায় রাখতে গেলে মুখ ধোয়ার পর টোনার ব্যবহার করতেই হবে। মুখ ধোয়ার রোমকূপের মুখ খুলে যায়। এই ওপেন পোরসের সমস্যা দূর করার জন্য মুখে টোনার স্প্রে করা জরুরি। তুলোর বলে টোনার নিয়েও মুখে বুলিয়ে নিতে পারে। এতে অবশিষ্ট তেল, ময়লাও পরিষ্কার হয়ে যাবে। ত্বকের যত্নে সবসময় অ্যালকোহল ফ্রি টোনার বেছে নিন।
ময়েশ্চারাইজার: গরমকালেও ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করবেন। এমনকি তৈলাক্ত ত্বক হলেও ময়েশ্চারাইজার মাখতে হবে। টোনার ব্যবহারের পর ময়েশ্চারাইজার মেখে নিন। ময়েশ্চারাইজার ত্বকের আর্দ্রতা বজায় রাখে। প্রয়োজনে অয়েল-ফ্রি ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করুন। ত্বকের ধরন অনুযায়ী ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করাই ভাল। কিন্তু এই ধাপ কখনওই এড়িয়ে যাওয়া উচিত নয়। বরং, এই ‘সিটিএম’ মেনে চললে আর কোনও প্রসাধনী ব্যবহারের প্রয়োজন নেই।