ঘুমের ঘোরে অনেকেরই একটা অদ্ভুত অভিজ্ঞতা হয়। সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখা যায়, বালিশের একটা পাশ ভিজে একেবারে একাকার! বড়দের ক্ষেত্রে এই পরিস্থিতি যেমন অস্বস্তিকর, তেমনই লজ্জার। অনেকে ভাবেন, এটা বোধহয় কেবলই একটা সাধারণ বিষয়। কিন্তু চিকিৎসকেরা বলছেন অন্য কথা। ঘুমের মধ্যে এভাবে অনবরত মুখ থেকে লালা ঝরা (Drooling) সবসময় স্বাভাবিক নাও হতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে এটি শরীরের কোনও বড় সমস্যার আগাম সতর্কবার্তা।
কৈলাশ দীপক হাসপাতালের বক্ষরোগ ও ঘুম বিশেষজ্ঞ (Consultant Chest Physician, Pulmonary and Sleep Medicine) ড. লভলীন শর্মা (Dr. Loveleen Sharma) এই বিষয়ে এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য শেয়ার করেছেন। তাঁর মতে, আমরা যখন গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন থাকি, তখন আমাদের মুখ এবং মুখের চারপাশের পেশি বা মাসলগুলো সম্পূর্ণ শিথিল বা রিল্যাক্স হয়ে যায়। এই অবস্থায় কেউ যদি চিত হয়ে না শুয়ে, একপাশে কাত হয়ে বা পেটের ওপর ভর দিয়ে উপুড় হয়ে শোন, তবে মুখের লালা স্বাভাবিকভাবে গিলে ফেলা সম্ভব হয় না। ফলে তা সহজেই বাইরে বেরিয়ে আসে। মাঝেসাঝে এমনটা হওয়া একেবারেই সাধারণ বিষয়।
তবে সমস্যা তখনই, যদি এই ঘটনা রোজকার অভ্যাসে পরিণত হয়। বিশেষজ্ঞের মতে, হঠাৎ করে লালা পড়ার পরিমাণ অস্বাভাবিক বেড়ে গেলে তা অবহেলা করা ঠিক নয়। ঠান্ডা লাগা কিংবা কোনও অ্যালার্জির কারণে যদি নাক বন্ধ হয়ে যায়, তখন মানুষ বাধ্য হয়ে মুখ দিয়ে শ্বাস নিতে শুরু করে। এর ফলেও লালা বেশি বের হয়।
এর চেয়েও বড় কারণ হতে পারে ‘স্লিপ অ্যাপনিয়া’ (Sleep Apnea)। এটি এমন একটি জটিল সমস্যা, যেখানে ঘুমের মধ্যে বারবার মানুষের শ্বাস আটকে যায় এবং আচমকা দমবন্ধ হয়ে ঘুম ভেঙে যায়। এছাড়া খাবার গিলতে সমস্যা হওয়া কিংবা স্নায়ু ও পেশির কোনও সুপ্ত জটিলতা থাকলেও এমন উপসর্গ দেখা দিতে পারে।
তাহলে কখন চিকিৎসকের কাছে যাওয়া জরুরি? ড. শর্মা জানাচ্ছেন, লালা পড়ার সঙ্গে যদি রাতে প্রচণ্ড নাক ডাকার সমস্যা থাকে, ঘুমে শ্বাসকষ্ট হয়, কথা বলার ধরনে আচমকা বদল আসে কিংবা শরীরে দুর্বলতা দেখা দেয়, তবে অবিলম্বে ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
এই সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে শোওয়ার পজিশন বদলে পিঠের ওপর ভর দিয়ে সোজা হয়ে শোওয়ার অভ্যাস করা যেতে পারে। পাশাপাশি মুখের ভেতরের পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং নাকের ব্লকেজ থাকলে তার চিকিৎসা করানো দরকার।