
বাজার থেকে ঝুড়ি ভরে লাল টুকটুকে টমেটো (Tomatoes) কিনে আনলেন, অথচ দু’দিন না যেতেই সেগুলোর হাল দেখে মাথায় হাত? ছাল কুঁচকে একেবারে কালঘাম ছোটানোর দশা! গরমের দিনে রসে টইটম্বুর সতেজ টমেটো দিয়ে রান্না করার যে আনন্দ, টমেটো শুকিয়ে গেলে সেই পুরো মুডটাই অফ হয়ে যায়। কিন্তু জানেন কি, একটা পুচকে ট্রিক খাটালেই এই ঝক্কি থেকে রেহাই মেলা সম্ভব?
টমেটোর এই দ্রুত বুড়িয়ে যাওয়ার নেপথ্যে কাজ করে একটি বিশেষ বিজ্ঞান। আসল কারসাজিটা লুকিয়ে রয়েছে তার মাথার ওপরের ওই ছোট্ট বৃত্তাকার বোঁটার ক্ষতটায়। টমেটোর পাতলা চামড়া ভেতরের রস বেরোতে না দিলেও, গাছ থেকে ছাঁটাই হওয়ার পর ওই বোঁটার ফাঁক দিয়েই ফলের ভেতরের সমস্ত আর্দ্রতা হাওয়ায় উবে যায়। ফলে দেখতে দেখতে ফলটি রসকষহীন, শুকনো টমেটোয় পরিণত হয়।
তাহলে উপায়? মুশকিল আসান করুন এভাবে
উল্টো করে রাখা: বাজার থেকে টমেটো এনে টেবিল বা ঝুড়িতে বোঁটার দিকটা নিচে রেখে সাজান। এতে ফাঁকা ছিদ্রপথটি ঢাকা পড়ে যায় এবং ভেতর থেকে জলীয় বাষ্প সহজে বেরোতে পারে না। ফল থাকে একদম টাটকা।
টেপ ট্রিক: প্রফেশনাল শেফদের পছন্দ এই বুদ্ধিটি! বোঁটার কাটা অংশটিতে এক টুকরো সেলোটেপ আটকে দিন। ব্যাস, আর্দ্রতা পালাবে কোথায়!
পরীক্ষার প্রমাণ: রন্ধন বিশেষজ্ঞ কেনজি লোপেজ-অল্ট পরীক্ষা করে দেখিয়েছেন, বোঁটা নিচে করে রাখা টমেটো তিন দিনে মাত্র ১-২ শতাংশ জলীয় অংশ হারায়। অন্যদিকে সোজা রাখা টমেটোর ক্ষেত্রে সেই অপচয়ের পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ৭ শতাংশ পর্যন্ত!
ফ্রিজের সঠিক ব্যবহার: টমেটো একদম পেকে নরম হওয়ার উপক্রম হলে তবেই ফ্রিজে ঢুকিয়ে দিন। নষ্ট হয়ে যাওয়ার চেয়ে ফ্রিজে রেখে অন্তত তার রসালো ভাবটা কিছুদিন বাঁচিয়ে রাখা ঢের ভালো।
রান্নাঘরে রাখা অতি সাধারণ কিছু উপকরণের সঠিক ব্যবহার জানলেই জীবন অনেক সহজ হয়ে যায়। পরের বার বাজার থেকে ফেরার পরই এই স্মার্ট কৌশলটি কাজে লাগিয়ে দেখুন তো, পার্থক্যটা নিজেই বুঝতে পারবেন!