
এয়ার কন্ডিশনার (Air Conditioner) চালিয়ে অলস দুপুরে সোফায় পিঠ ঠেকিয়ে সিগারেটে একটা সুখটান, অনেকের কাছেই এটা বেশ আরামের। বাইরে যাওয়ার অলসতায় ঘরের ভেতরেই দেশলাই কাঠি বা লাইটার জ্বালিয়ে ফেলছেন? কিন্তু এই ক্ষণিকের ভালোলাগা যে জীবনযাত্রায় কতটা বড় ধাক্কা দিতে পারে, তা বোধহয় ধারণার বাইরে। শুধু শরীর নয়, এই অভ্যাস নিঃশব্দে শেষ করে দিচ্ছে সাধের যন্ত্রটিকেও, বাড়িয়ে দিচ্ছে বড়সড় দুর্ঘটনার ঝুঁকি।
কম্প্রেসরের ওপর চাপ
বদ্ধ ঘরে এসি চললে ভেতরের বাতাসই বারবার রিসাইকেল হতে থাকে। এই সময়ে সিগারেটের ধোঁয়ায় থাকা চটচটে নিকোটিন সরাসরি শুষে নেয় এসির ফিল্টার ও এভাপোরেটর কয়েল। ফলে ভেতরের সূক্ষ্ম যন্ত্রাংশে একটি চটচটে কালচে আস্তরণ তৈরি হয়ে গিয়েছে। এই আস্তরণ বাইরের ধুলোবালিকে আরও বেশি করে টেনে নেয়। ফলাফল? এসির ঠান্ডা করার ক্ষমতা একবারে কমে যায়। ফিল্টার জ্যাম হয়ে যাওয়ার কারণে কম্প্রেসরের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে, যা বিদ্যুৎ বিল নিমেষেই বাড়িয়ে দেয় আকাশছোঁয়া। সাধের এসিটির আয়ুও এতে হু হু করে কমে যায়।
‘থার্ড-হ্যান্ড স্মোকিং’
ক্ষতি কিন্তু এখানেই শেষ নয়। এসির ব্লোয়ারের ধাক্কায় সেই নিকোটিনযুক্ত বাতাস পুনরায় ঘরে ফিরে আসে। সোফা, পর্দা, কুশন ও দেওয়ালে স্থায়ীভাবে জমতে থাকে সেই বিষাক্ত কণা। চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় একে বলা হয় ‘থার্ড-হ্যান্ড স্মোকিং’। এসি বন্ধ করলেও ঘর থেকে এক ধরনের ভ্যাপসা দুর্গন্ধ বের হতে থাকে, যা কোনও রুম ফ্রেশনার দিয়েও দূর করা যায় না। এই পরিবেশ গর্ভবতী মহিলা ও শিশুদের স্বাস্থ্যের জন্য চরম বিপজ্জনক। এই ভুল কখনও করা উচিত নয়।
এসি ব্লাস্ট ও অগ্নিকাণ্ডের মারাত্মক ঝুঁকি
সবচেয়ে বড় ভয়ের কারণ হল আকস্মিক বিস্ফোরণ। বর্তমানের আধুনিক এসিগুলোতে R32 বা R290-এর মতো গ্যাস ব্যবহার করা হয়, যা অত্যন্ত দাহ্য। কোনও কারণে যদি ইনডোর ইউনিট বা পাইপ থেকে এই রেফ্রিজারেন্ট গ্যাস লিক হয়, তবে জ্বলন্ত দেশলাই, লাইটার বা সিগারেটের সামান্য আগুন থেকে মুহূর্তের মধ্যে পুরো ঘরে আগুন লেগে যেতে পারে। কম্প্রেসরের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ার কারণেও যে কোনও দিন এসি ব্লাস্ট করার মতো মারাত্মক দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
তাই জীবনযাত্রায় এইটুকু বদল আনাই এখন বুদ্ধিমানের কাজ। এসি ঘরে ধূমপান করার অভ্যাস ত্যাগ না করলে বড় আর্থিক ক্ষতি ও প্রাণসংশয় এড়ানো কঠিন। সুস্থ থাকতে এবং নিজের ঘরকে সুরক্ষিত রাখতে এই ক্ষতিকর অভ্যাসে আজই রাশ টানা দরকার।