
ব্রেইন ফগ (Brain Fog) শব্দটা হয়তো আপনার কাছে নতুন লাগতে পারে, কিন্তু ঘটনাটা কিন্তু আমাদের অনেকের সাথেই রোজ ঘটে। ভাবুন তো, কাজের প্রয়োজনে অন্য ঘরে ঢুকলেন, কিন্তু সেখানে গিয়েই থমকে গেলেন, কেন এসেছিলেন যেন? কিংবা বন্ধুদের সাথে কথা বলতে বলতে হঠাৎ কথার খেই হারিয়ে ফেললেন? কাজের জায়গায় খুব সহজ একটা হিসেব মেলাতেও মাথা কাজ করছে না? সপ্তাহের শুরুতেই যদি এমন মাথা ফাঁকা ফাঁকা লাগে, তবে বুঝে নিন আপনি একা নন। এই সমস্যা হয় অনেকেরই।
বিজ্ঞানীরা এই অবস্থাকেই সহজ ভাষায় বলেন ‘ব্রেইন ফগ’ বা মস্তিষ্কের ধোঁয়াশা। এটা কিন্তু নিজে কোনও রোগ নয়। সোজা কথায়, আপনার শরীর আর মন যখন খুব ক্লান্ত হয়ে পড়ে, তখন আপনার মস্তিষ্ক আপনাকে সিগন্যাল দেয় যে, “ভাই, আমি আর পারছি না, এবার একটু জিরিয়ে নাও!”
কেন এমন হয়?
দিনের পর দিন অতিরিক্ত মানসিক চাপ, ঘুম কম হওয়া, মেয়েদের বয়সের সাথে সাথে শরীরে নানা হরমোনের পরিবর্তন, কিংবা লং কোভিডের মতো শরীর দুর্বল করা অসুখের কারণে এমনটা হতে পারে।
তবে ভয় পাওয়ার কিছু নেই। ইংল্যান্ডের বিখ্যাত চিকিৎসক ডক্টর থারাকা বলছেন, সামান্য কিছু নিয়ম মানলেই এই সমস্যা কেটে যাবে।
কী কী নিয়ম মেনে চলবেন?
১. নিজেকে দোষ দেবেন না: হুট করে কিছু ভুলে গেলে নিজেকে অপদার্থ ভাববেন না। মনকে বলুন, আপনি অসুস্থ বা ব্যর্থ নন, আপনার ব্রেন শুধু একটু ক্লান্ত। দরকার হলে কাজের গতি কমান, অন্যদের সাহায্য নিন।
২. কাজের একটা নির্দিষ্ট রুটিন বানান: প্রতিদিন সকালে উঠে “আজ কী করব?”, এই চিন্তা করতেই মাথার অনেকটা শক্তি খরচ হয়ে যায়। তাই আগের দিনই ঠিক করে রাখুন পরদিনের কাজ।
৩. কাজের ফাঁকে ৫ মিনিটের ব্রেক দিন: একটানা ঘণ্টার পর ঘণ্টা কাজ করবেন না। একটা কাজ শেষ করে অন্য কাজ শুরু করার মাঝে ৫ থেকে ১০ মিনিটের বিরতি নিন। একটু হেঁটে আসুন, হাত-পা টানটান করুন বা চোখ বন্ধ করে বসে থাকুন।
৪. সব কথা মাথায় রাখবেন না: কাল কী কেনাকাটা করবেন বা কাকে ফোন করবেন, সব মাথায় জমা করে রাখলে মাথা তো জ্যাম হবেই! খাতা বা মোবাইলের নোটে লিখে রাখুন।
ডক্টর থারাকা ব্রেন ভালো রাখার জন্য একটা সহজ ফর্মুলা দিয়েছেন, যার নাম SWANS:
S (Sleep/ঘুম): রাতে অন্তত ৭ থেকে ৯ ঘণ্টা গভীর ঘুম ভীষণ দরকার।
W (Water/জল): জল কম খেলে মাথা কাজ করা বন্ধ করে দেয়। তাই সাথে সবসময় জলের বোতল রাখুন।
A (Activity/শরীরে গতি আনা): সারাদিন বসে না থেকে একটু হাঁটাহাঁটি করুন। এতে মস্তিষ্কে রক্তের চলাচল বাড়ে।
N (Nutrition/ভালো খাবার): প্যাকেটজাত বিস্কুট বা ফাস্টফুড কমিয়ে ডিম, মাছ, বাদামের মতো তাজা খাবার খান। এগুলো মস্তিষ্কের বুদ্ধি বাড়াতে সাহায্য করে।
S (Stress/মানসিক চাপ কমানো): হাঁপিয়ে উঠলে লম্বা শ্বাস নিন, নিজের পছন্দের গান শুনুন বা বই পড়ুন।
শরীর যেমন বিশ্রাম চায়, আপনার মনের ভেতরের এই মেমোরি চিপটারও একটু বিশ্রামের দরকার হয়। তাই কাজের চাপে নিজের ওপর অত্যাচার না করে নিজেকে একটু সময় দিন, দেখবেন মাথা আবার আগের মতো চটপটে হয়ে উঠেছে!