
জন্মাষ্টমী (Janmashtami) এলেই বাঙালির রান্নাঘরে তালের মিষ্টি সুবাস ভেসে আসে। গোপাল পুজোয় তালের বড়া না হলে যেন আনন্দটাই অসম্পূর্ণ থেকে যায়। কিন্তু অনেকেই আক্ষেপ করেন, কষ্ট করে বড়া বানানোর পর তা শক্ত হয়ে যায়, আবার কখনও মুখে দিলে তেতো ভাব লাগে। সঠিক নিয়ম আর উপকরণের মাপ জানা থাকলে এই সমস্যা একেবারেই হবে না।
তালের বড়া বানানোর জন্য প্রথমেই উপকরণগুলো সঠিকভাবে গুছিয়ে নেওয়া দরকার।
প্রয়োজনীয় উপকরণ:
পাকা তালের শাঁস – ১ কাপ
গুড় বা চিনি – ৩/৪ কাপ (তালের মিষ্টি বুঝে)
গমের আটা বা চালের গুঁড়ো – ১/২ কাপ
নারকেল কোরা – ১/৪ কাপ
ঘি – ১ চা চামচ
বেকিং পাউডার – এক চিমটি
নুন – এক চিমটি
ভাজার জন্য তেল – পরিমাণমতো
তৈরির সহজ প্রণালী:
তালের বড়ার আসল ম্যাজিক লুকিয়ে থাকে তালের শাঁস বের করার মধ্যে। বড়া বানাতে সব সময় একদম পাকা ও সুগন্ধি তাল বেছে নিন। কাঁচা বা আধপাকা তাল ব্যবহার করলে বড়ায় তেঁতো ভাব চলে আসে। তাল থেকে শাঁস বের করে একটি ছাঁকনি বা সুতির কাপড় দিয়ে ভালো করে ছেঁকে নিন, যাতে আঁশগুলো আটকে যায়। এতে বড়া যেমন মসৃণ হবে, তেমনই কাটবে তেঁতো ভাব।
একটি পাত্রে তালের শাঁসের সঙ্গে চিনি বা গুড়, আটা বা চালের গুঁড়ো, নারকেল কোরা, এক চিমটি নুন, সামান্য ঘি এবং বেকিং পাউডার একসাথে ভালো করে মেখে নিন। চালের গুঁড়ো ব্যবহার করলে বাইরের অংশ কিছুটা মুচমুচে হয়, আর আটা দিলে বড়া বেশি নরম থাকে। মিশ্রণটি খুব ঘন বা খুব পাতলা করবেন না, মাঝারি রাখুন। এবার পুরো মিশ্রণটি ঢেকে অন্তত ৩০ মিনিট রেখে দিন। এতে সব উপকরণ ভালোভাবে মিশে মিশ্রণটি ফুলে উঠবে।
কড়াইতে তেল মাঝারি আঁচে গরম করে নিন। খুব বেশি আঁচে ভাজলে বড়ার ভেতর কাঁচা থেকে যাবে, আবার কম আঁচে ভাজলে বড়া শক্ত হয়ে যাবে। এবার হাত দিয়ে ছোট ছোট গোল আকারে মিশ্রণ তেলে ছেড়ে মাঝারি আঁচে লালচে করে ভেজে তুলুন। কড়াই থেকে তুলে কিচেন টিস্যুতে রেখে স্বাভাবিকভাবে ঠান্ডা হতে দিন। গরম অবস্থায় বড়ায় চাপ দিলে তা শক্ত হয়ে যায়। ব্যাস, এই সহজ পদ্ধতিতে নাড়ুগোপালের জন্য বানিয়ে নিন পারফেক্ট তালের বড়া। ছোট থেকে বড় সবাই চেটেপুটে খাবে!