
শিশুর দাঁত কিড়মিড় করা (Teeth Grinding in Children) বা ঘুমের ঘোরে আচমকা অদ্ভুত শব্দ করা কি আপনার রাতের ঘুম উড়িয়ে দিচ্ছে? মাঝরাতে সন্তানের কাছ থেকে আসা এই কিড়মিড় শব্দ শুনে অবচেতন মনেই বেশিরভাগ বাবা-মা ধরে নেন, বাচ্চার পেটে নির্ঘাত কৃমি হয়েছে! কিন্তু আপনার এই চিরাচরিত চেনা ধারণার আড়ালে লুকিয়ে নেই তো অন্য কোনও বড় অসুখ? চিকিৎসা বিজ্ঞান বলছে, যাকে অনেকেই কেবল পেটে কৃমি হওয়া ভেবে ঘরোয়া টোটকায় ভরসা রাখেন, তা আসলে ‘ব্রাক্সিজম’ (Bruxism) নামের একটি জটিল সমস্যা হতে পারে। চিকিৎসক ডক্টর স্বদেশ মান্না (MBBS, DA, FIC) সমাজমাধ্যমে জানিয়েছেন, শিশুদের এই দাঁত কিড়মিড় করার পেছনে কেবল কৃমি নয়, বরং মানসিক চাপ থেকে শুরু করে শ্বাসকষ্টের মতো একাধিক গোপন শারীরিক ও মানসিক সমস্যার থাকতে পারে। ডাক্তারি পরিভাষায় ব্রাক্সিজম হলো ঘুমের মধ্যে বা জেগে থাকা অবস্থায় সম্পূর্ণ অবচেতনভাবে দাঁতে দাঁত ঘষা। বিভিন্ন চিকিৎসাবিজ্ঞান সংক্রান্ত সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, ৫ থেকে ৬ বছর বা তার কম বয়সী শিশুদের মধ্যে প্রায় ১৫ থেকে ৪০ শতাংশই জীবনের কোনও না কোনও সময়ে এই সমস্যার মুখোমুখি হয়।
ডক্টর স্বদেশ মান্না বেশ কিছু কারণ উল্লেখ করেছেন
দাঁত ও চোয়ালের স্বাভাবিক বিকাশ: এই বয়সে শিশুদের চোয়াল ও দাঁতের গঠন অত্যন্ত দ্রুত পরিবর্তিত হতে থাকে। সেই নতুন শারীরিক বদলের সঙ্গে মানিয়ে নিতে গিয়ে অনেক শিশু ঘুমের ঘোরে অজান্তেই দাঁত ঘষতে শুরু করে।
মানসিক চাপ ও আধুনিক জীবনযাত্রা: বর্তমান যুগে শিশুদের অতিরিক্ত ‘স্ক্রিন টাইম’ এবং পড়াশোনার তীব্র প্রতিযোগিতা বড়দের মতো ছোট ছোট বাচ্চাদের মনেও মারাত্মক স্ট্রেস তৈরি করছে। ডক্টর মান্না সতর্ক করে বলেন, “বাচ্চাদের ক্ষেত্রে এটাও একটা এস্কেপ রুট, মানে ওই দুশ্চিন্তা থেকে বাঁচার একটা রাস্তা।”
শ্বাসকষ্ট ও গলার সমস্যা: বাচ্চার এই যন্ত্রণাদায়ক অভ্যাসের পেছনে লুকিয়ে থাকতে পারে ‘অবস্ট্রাক্টিভ স্লিপ অ্যাপনিয়া’ বা গলার ভেতরের গ্রন্থি ‘অ্যাডেনয়েড’-এর অস্বাভাবিক বৃদ্ধি, যার কারণে ঘুমের মধ্যে শিশুরা জোরে জোরে নাক ডাকে।
কৃমি নিয়ে ভ্রান্ত ধারণা: কৃমির সঙ্গে এর সম্পর্ক চিকিৎসাবিজ্ঞানের চোখে অত্যন্ত ক্ষীণ। ভুল ধারণা ভেঙে দিয়ে ডক্টর মান্না স্পষ্ট জানান, “দাঁত কিড়মিড়ি করা মানেই কৃমি – এই কথাটা কিন্তু ঠিক নয়, এটা ক্লিয়ার করে জেনে রাখুন।”
কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন?
যদি বাচ্চার ব্রাক্সিজমের মাত্রা অতিরিক্ত বেড়ে যায় এবং নিচের লক্ষণগুলো প্রকাশ পায়, তবে বিষয়টিকে হালকাভাবে নেওয়া যাবে না:
বাবা-মায়েদের কী কী করা উচিত?