
ভারতীয় হেঁশেলের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশ হল পেঁয়াজ। প্রায় সব ধরণের তরকারি, স্যালাড এবং বিভিন্ন সুস্বাদু খাবারে এর ব্যবহার অপরিহার্য। রান্নার স্বাদ বাড়ানোর পাশাপাশি পেঁয়াজে রয়েছে ভিটামিন সি, ভিটামিন বি৬, ফোলেট, পটাশিয়াম এবং প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট। আর এই গুণাবলির কারণেই এটিকে সুষম খাদ্যের অংশ বলে মনে করা হয়। তবে গুণী এই সবজিটি কাটতে গেলেই কালঘাম ছোটে অনেকের, কারণ পেঁয়াজ কাটার সঙ্গে সঙ্গেই চোখ দিয়ে জল পড়তে শুরু করে।
পেঁয়াজ কাটলে চোখে জল আসে কেন?
আসলে পেঁয়াজ কাটার সময় কোষগুলি (Cells) ভেঙে যায়, যার ফলে একটি বিশেষ ধরণের গ্যাস নির্গত হয়। এই গ্যাস চোখের উপরিভাগে থাকা জলীয় অংশের (নমি) সংস্পর্শে এলে চোখে হালকা জ্বালাভাব তৈরি করে। আর সেই জ্বালার হাত থেকে চোখকে সুরক্ষিত রাখতে আমাদের মস্তিষ্ক চোখের জল তৈরির গ্রন্থিগুলোকে সক্রিয় করে তোলে। এটি শরীরের একটি অত্যন্ত স্বাভাবিক এবং প্রাকৃতিক প্রতিক্রিয়া।
চোখে জল আসা বন্ধ করার সহজ উপায়:
ফ্রিজে রাখুন: পেঁয়াজ কাটার ১৫ থেকে ২০ মিনিট আগে সেটিকে ফ্রিজে রেখে দিন। ঠান্ডা হওয়ার কারণে পেঁয়াজ থেকে গ্যাস নির্গত হওয়ার প্রক্রিয়াটি অনেকটাই কমে হয়ে যায়।
ধারালো ছুরি ব্যবহার: সবসময় ধারালো ছুরি দিয়ে পেঁয়াজ কাটুন। ভোঁতা ছুরি দিয়ে কাটলে পেঁয়াজের কোষগুলো বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়, যার ফলে বেশি মাত্রায় গ্যাস বের হয়।
হাওয়া চলাচলকারী স্থান: পেঁয়াজ কাটার সময় ঘরের জানালা খুলে রাখুন অথবা এগজস্ট ফ্যান বা চিমনি চালিয়ে রাখুন, যাতে গ্যাসটি দ্রুত বাইরে বেরিয়ে যেতে পারে।
শিকড়ের অংশ শেষে কাটুন: পেঁয়াজের নিচের শক্ত শিকড়ের অংশে গ্যাস তৈরি করার উপাদান সবচেয়ে বেশি থাকে। তাই এই অংশটি কাটার একেবারে শেষে বাদ দিন।
চশমা ব্যবহার: অনেকেই চোখের সুরক্ষার জন্য পেঁয়াজ কাটার সময় চশমা পরা বেশ কার্যকরী বলে মনে করেন।
পেঁয়াজ কাটার সময় কোন ভুলগুলো করবেন না?
ভোঁতা বা নষ্ট ছুরি দিয়ে পেঁয়াজ কাটার ভুল একদম করবেন না।
বন্ধ ঘর বা যেখানে হাওয়া চলাচল করে না, এমন জায়গায় বসে পেঁয়াজ কাটা এড়িয়ে চলুন।
পেঁয়াজ কাটার সময় ভুলেও বারবার হাত দিয়ে চোখ রগড়াবেন না, এতে জ্বালাভাব আরও বেড়ে যেতে পারে।
হাতে পেঁয়াজের রস লেগে থাকলে চোখ ছোঁয়ার আগে হাত সাবান দিয়ে ভালো করে ধুয়ে নিন।
একগাদা পেঁয়াজ একসাথে না কেটে, প্রয়োজন অনুযায়ী অল্প অল্প করে কাটুন।