Bollywood: ইরফানের কবরে কোন বিশেষ জিনিস রাখতে চেয়েছিলেন নানা?

Nana Patekar Death: বলিউড হারিয়েছে দুই রত্নকে। ২০২০ সালে ইরফান খান আর ২০২৬ সালে নানা পাটেকর চলে গিয়েছেন। তবে মৃত্যুর আগে ইরফানকে নিয়ে এক অজানা গল্প শুনিয়েছিলেন নানা। ক্যানসার আক্রান্ত অভিনেতার কবরে একটি বিশেষ জিনিস দেওয়ার তীব্র ইচ্ছে ছিল তাঁর। কী সেই অসম্পূর্ণ ইচ্ছে?

Bollywood: ইরফানের কবরে কোন বিশেষ জিনিস রাখতে চেয়েছিলেন নানা?
জানুন বিস্তারিত

Oct 14, 2026 | 8:50 AM

গত ৮ অক্টোবর কার্ডিয়াক অ্যারেস্টে আক্রান্ত হয়ে ৭৫ বছর বয়সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন বর্ষীয়ান অভিনেতা নানা পাটেকর (Nana Patekar)। তাঁর প্রয়াণের শোক এখনও কাটিয়ে উঠতে পারেনি সিনেমাজগৎ। ঠিক এর মাঝেই সোশাল মিডিয়ায় ভাইরাল হল একটি পুরনো ভিডিয়ো। যেখানে আর এক প্রয়াত কিংবদন্তি অভিনেতা ইরফান খানকে নিয়ে মন ছুঁয়ে যাওয়া কথা বলতে শোনা গিয়েছে নানাকে। আজ দুজনেই আর এই পৃথিবীতে নেই। কিন্তু তাঁদের ফেলে যাওয়া স্মৃতি আর সিনেমার অমর চরিত্রগুলো আজও রয়ে গিয়েছে দর্শকদের মনের মণিকোঠায়।

ভাইরাল হওয়া ভিডিয়োটি নানা পাটেকরের ছবি ‘বনবাস’-এর প্রোমোশনের সময়ের। সেখানে পরিচালক বিশাল ভরদ্বাজের সঙ্গে আড্ডায় মেতেছিলেন তিনি। বিশাল সেই আড্ডায় মনে করিয়ে দেন এক দারুণ তথ্য। বলিউডে কেবল নানা এবং ইরফানই সেরা অভিনেতা, সেরা পার্শ্ব অভিনেতা এবং সেরা খলনায়কের পুরস্কার পেয়েছেন। এই কথা শুনে নানা একটুও অহংকার করেননি। বরং তিনি জানান, তাঁর আশেপাশে তখন নাসিরুদ্দিন শাহ বা ওম পুরীর মতো অভিনেতারা কাজ করতেন। ইরফান তখন সবে ইন্ডাস্ট্রিতে আসছেন। কিন্তু মানুষ হিসেবে ইরফান যে কত বড় মনের ছিলেন, সেটাই বারবার স্মরণ করেছেন নানা। ইরফান অনেক বড় স্টার হয়েছিলেন ঠিকই, কিন্তু তাঁর মধ্যে কোনও দিন কোনও অহংকার ছিল না। স্টারডম তাঁকে কখনও গ্রাস করতে পারেনি।

পুরনো দিনের কথা মনে করে আরও একটি দারুণ গল্প শুনিয়েছিলেন নানা। ইরফানের স্ত্রী সুতপা সিকদার একসময় ‘খামোশি’ সিনেমার স্ক্রিপ্ট লেখার কাজ করতেন। সুতপা তখন নানাকে অনুরোধ করতেন, তিনি যেন পরিচালকদের কাছে ইরফানের নাম একটু বলেন। নানা তখন সুতপাকে বলেছিলেন, “একদিন ও এত বড় অভিনেতা হবে যে, ও নিজেই সকলের নাম সুপারিশ করবে। তুমি একদম চিন্তা কোরো না।” নানার সেই কথা অক্ষরে অক্ষরে সত্যি হয়েছিল।

সবচেয়ে আবেগপ্রবণ মুহূর্তটি আসে যখন নানা ইরফানের শেষ দিনগুলোর কথা বলেন। ইরফান যখন খুব অসুস্থ, তখন তাঁর ম্যাড আইল্যান্ডের বাড়িতে গিয়েছিলেন নানা। সেই সময় অসুস্থ ইরফান নানাকে বলেছিলেন যে তাঁর ‘হাসনুহানা’ গাছ খুব পছন্দ। নানা আক্ষেপ করে জানিয়েছিলেন, তিনি ইরফানের কবরে গিয়ে একটা হাসনুহানা গাছ লাগিয়ে আসতে চান। ২০২০ সালের ২৯ এপ্রিল ক্যানসারের সঙ্গে দীর্ঘ লড়াইয়ের পর ইরফান চিরবিদায় নিয়েছেন। আর এবার ২০২৬ সালে চলে গেলেন নানা পাটেকরও। তাঁদের এই অসম্পূর্ণ ইচ্ছে আর হাসনুহানা গাছের প্রতি ভালোবাসার গল্প আজ শুধু ভক্তদের চোখে জল এনে দেয়।

Loading...
Unable to load recommendations.
Follow Us