
খাওয়ার পর শেষপাতে আসে চাটনি। কখনই খাবারের শুরুতেই চাটনি পরিবেশন করা হয় না। শুক্তো বা তেতো দিয়ে খাওয়া শুরু হয়। এরপর শাকভাজা বা অন্য কোনও ভাজা। তারপর ডাল, তরকারি, মাছ খেয়ে একেবারের সমাপ্তিতে থাকে একটুখানি চাটনি। ডাল-তরকারির মত বাটিভরে চাটনি খাওয়া হয় না, দু-এক চামচ হলেই খাওয়া হয়ে যায়। শীতের দিনে চাটনির বিকল্প হিসেবে থাকে আচার। কুলের আচার, আমের আচার, লঙ্কা, রসুন, এঁচোড় দিয়ে কত রকমেরই আচার বানানো হয়। আচার খেতে যে বেশ ভাল লাগে তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই। খাবারের স্বাদ বাড়ানোর পাশাপাশি চাটনি আমাদের শরীরের জন্যেও বেশ ভাল। পরোটার সঙ্গে অনেকেই রায়তা বা সস খান তেমনই পছন্দের ভাজা খাবারের সঙ্গে কোনও একরকম ডিপ থাকে। এই প্রত্যেকটির কিন্তু স্বাস্থ্য উপকারিতা রয়েছে।
আজকাল পুষ্টিবিদরাও বলছেন শেষপাতে চাটনি খেতে। আর এই চাটনির অনেক রকম স্বাস্ব্য উপকারিতাও রয়েছে। চাটনি শুধু খাবারের স্বাদ বাড়ায় না একই সঙ্গে পুষ্টিগুণ বাড়াতেও সাহায্য করে। পুষ্টিবিদ রুজুতা দিয়েকার যেমন বলেছেন, চাটনির মধ্যে মশলা, বিভিন্ন রকম ফাইবার, ফাইটোনিউট্রিয়েন্টস থাকে। যা শরীরের জন্য খুবই ভাল। সব কিছু একসঙ্গে মিশিয়ে চাটনি তৈরি হয়। যদি টমেটোর চাটনি হয় তাহলে ওর সঙ্গে আমসত্ত্ব, খেজুর, কিশমিশ এসব মেশে। থাকে পাঁচফোড়নও। এর স্বাস্থ্যউপকারিতা অনেকটাই।
চাটনির মধ্যে ফাইবার অনেক বেশি থাকে। তা কাঁচা আম, আমড়া, করমচা, চালতা যাই হোক না কেন। এটি আমাদের হজম প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করে। ফলে অন্ত্রের উপর কোনও বাড়তি বোঝা থাকে না। মলত্যাগ অনেক বেশি সহজ হয়। তাটনির মধ্যে তাই আলুবোখরা, আখরোট, চিনেবাদাম, আপেলের টুকরো ব্যবহার করতে পারলে খুব ভাল হয়।
চাটনির মধ্যে অনেকটা পরিমাণ অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে। যা আমাদের ডিটক্সে সাহায্য করে। সেই সঙ্গে কোষকে ক্ষতিকর উপাদানের থেকে রক্ষা করে। সহজে সংক্রমিত হতে দেয় না। ধনে, পুদিনা বা কারিপাতার চাটনি অনেকেই খান। এর সঙ্গে প্রয়োজনীয় ভেষজ মেশে। সঙ্গে সরষে, হলুদ, গোলমরিচ আর বিভিন্ন মশলা তো আছেই। তাই এই চাটনির স্বাদ এত ভাল হয়। চাটনির মধ্যে প্রয়োজনীয় ভিটামিন, খনিজ থাকে। যা আমাদের হার্ট ভাল রাখতে সাহায্য করে। চাটনি অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে ভরপুর। সঙ্গে থাকে প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন সি। যা শরীরে রোগ প্রতিরোধক ক্ষমতা বাড়ায়। চাটনিতে লেবুর রস, কাঁচা আম কিংবা টমেটো ব্যবহার করলে এর উপকারিতাও দ্বিগুণ হয়।