
সারাক্ষণ মোবাইলে বুঁদ। একটু ফাঁকা সময় পেলেই রিলস ঘাটেন। শুধু তরুণ প্রজন্ম নয়, বাড়ির প্রবীণ সদস্যরাও ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় কাটাচ্ছেন স্মার্টফোনে। একা থাকার একঘেয়েমি কাটাতে মোবাইল এখন তাঁদের অন্যতম প্রধান সঙ্গী। কিন্তু যুবকদের মতোই পঞ্চাষ ঊর্ধ্ব বা তার বেশি বয়সের বাবা-মায়েরা এখন ফেসবুক-ইনস্টাগ্রামের রিলস দেখা কিংবা মোবাইলে লুডো খেলার নেশায় মত্ত হয়ে উঠছেন। যা বিশেষজ্ঞদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে।
সব সময় ফোন ব্যবহার করা কি ক্ষতিকর?
ডক্টর মেঘা আগরওয়াল কিন্তু অন্য কথা বলছেন। কোনও প্রবীণ মানুষ ফোনে বেশি সময় কাটান, এতে আতঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন নেই। কিছু ক্ষেত্রে ফোন ব্যবহার তাঁদের মস্তিষ্কের জন্য ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। যেমন- আত্মীয় বা বন্ধুদের সঙ্গে মোবাইলে লুডো খেলা, কাছের মানুষের সঙ্গে ভিডিয়ো কলে যোগাযোগ রাখলে ।এই ধরনের কাজ প্রবীণদের মস্তিষ্ককে সচল (Active) রাখতে সাহায্য করে। বিশেষ করে যাঁরা বাড়িতে একা থাকেন তাঁদের একাকিত্ব দূর করে।
তাহলে ফোন নিয়ে সমস্যা ঠিক কোথায়?
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সমস্যা তখনই শুরু হয় যখন ফোন ঘাঁটাই একমাত্র কাজ হয়ে দাঁড়ায়। ঘণ্টার পর ঘণ্টা শুধু রিলস বা শর্ট ভিডিয়ো স্ক্রোল করা, মোবাইল দেখতে দেখতে বিকালের হাঁটা (Walk) বন্ধ করে দেওয়া, পরিবারের বাকি সদস্যদের সাথে কথা না বলা, রাতে অনেক রাত পর্যন্ত জেগে ফোন ঘাঁটা। এই অভ্যাসগুলো শুরু হলেই প্রবীণদের স্বাস্থ্যের ওপর এর মারাত্মক কুপ্রভাব পড়তে থাকে। অতিরিক্ত স্ক্রোলিংয়ের ফলে শারীরিক সক্রিয়তা কমে যায়, ঘুমের দফারফা হয় এবং কোনও বিষয়ে মনোযোগ দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। অনেক সময় অনবরত ভিডিও দেখার পরও তাঁরা মনের ভেতরে একাকীত্ব বা খিটখিটে ভাব অনুভব করতে পারেন।