
কলকাতা : আও সিখাউ, তুম্হে আন্ডে কা ফান্ডা/ইয়ে নেহি পেয়ারে কোই মামুলি বান্দা – বহু বছর আগে একটি সিনেমায় ব্যবহার করা হয়েছিল এই গান। ডিম নিয়ে বিতর্কের শেষ নেই। মুরগি আগে না ডিম আগে – এমন প্রশ্ন যেমন ধাঁধায় ছুঁড়ে দেওয়া হয়, তেমনই রাজ্য রাজনীতিতে বর্তমানে চর্চায় রয়েছে এই সাদা-হলুদ পদার্থটি। আগে মনে করা হতো, ডিম স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর কারণ এতে বেশি কোলেস্টেরল আছে। কিন্তু এখন বিশেষজ্ঞরা বলেন, বেশিরভাগ সুস্থ মানুষের জন্য প্রতিদিন একটি ডিম খেলে অসুবিধে নেই। ডিমে রয়েছে উচ্চমানের প্রোটিন, পাশাপাশি থাকে ভিটামিন A, D, E, B12, ফোলেট ও রিবোফ্লাভিনের মতো পুষ্টিকর উপাদান। ডিমের কুসুমেই বেশিরভাগ পুষ্টি থাকে। একটি কুসুমে প্রায় ১৮০ মিলিগ্রাম কোলেস্টেরল থাকায় বহু বছর ধরে ডিমকে নিয়ে সন্দেহ করা হয়।
প্রতিদিন একটি ডিম খেলে কী হয়?
হার্ভার্ড হেলথের বিশেষজ্ঞদের মতে, বেশিরভাগ সুস্থ মানুষের ক্ষেত্রে প্রতিদিন একটি ডিম খেলে হৃদরোগ, স্ট্রোক বা হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ে না। তবে ডিমের পাশাপাশি খাদ্যতালিকায় ফল, সবজি ও গোটা শস্য রাখা জরুরি। ডিমের প্রোটিন মাসল তৈরি ও মেরামতে সাহায্য করে ও অনেক্ষন পেট ভরা রাখতে পারে। এতে রয়েছে কোলিন, যা মস্তিষ্কের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টিকর উপাদান। এছাড়া ডিমের কুসুমে থাকে লুটেইন ও জিয়াজ্যানথিন, যা চোখের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ একটি উপাদান।
কখন ডিম সমস্যা তৈরি করতে পারে?
ডিমকে পুরোপুরি ভাল বা খারাপ হিসেবে দেখার দরকার নেই। কিছু মানুষ খাবার থেকে কোলেস্টেরল বেশি পান। তাঁদের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ডিম খেলে LDL বা ‘খারাপ’ কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়তে পারে। যাঁদের ডায়াবেটিস, প্রি-ডায়াবেটিস বা হাই কোলেস্টেরল আছে, তাঁদের একবার পুষ্টিবিদের পরামর্শ নিয়ে নেওয়া ভাল।
কীভাবে ডিম খাওয়া উচিত?
ডিম খাদ্য হিসেবে সিদ্ধ, পোচ বা অল্প তেলে হালকা ভুজিয়া বানিয়ে নিলে অতিরিক্ত ফ্যাটের ঝুঁকি থাকে না। কেউ চাইলে একটি গোটা ডিমের সঙ্গে এক-দুটি ডিমের সাদা অংশ খেতে পারেন। এতে প্রোটিন বাড়ে, অথচ কুসুমের পরিমাণ কম থাকার ফলে কোলেস্টেরলও তুলনামূলকভাবে কম থাকে। তবে ডিমকে একমাত্র প্রোটিনের উৎস না করে সপ্তাহের বিভিন্ন দিনে ডাল, পনিরও খাওয়া দরকার।