
কব্জিতে বা আঙুলের চামড়ার নিচে মাঝে মধ্যেই ছোট মাংসপিণ্ড দেখা যায়? টিপলে যদি মনে হয় ভেতরে জেলি ভরা রয়েছে, তবে অনেকেই থেমে যান। ভয়ে ভাবেন, ভেতরে কোনও মারাত্মক টিউমার বা ক্যানসার বাসা বাঁধল না তো? কিন্তু চিকিৎসাবিজ্ঞান বলছে, এই ভয় পাওয়ার কোনও কারণ লেই। কারণ এটি কোনও ক্যানসার বা টিউমার নয়, এটি আসলে একধরণের সাইনোভিয়াল সিস্ট (Synovial Finger Cyst)।
সহজ কথায়, আমাদের হাত আর আঙুলের জোড় বা জয়েন্টগুলোকে সহজে নাড়াচাড়া করার জন্য ভেতরে একধরনের পিচ্ছিল তরল থাকে। একে বলা হয় সাইনোভিয়াল ফ্লুইড। এটি অনেকটা সাইকেলের চেইনে দেওয়া গ্রিজ বা তেলের মতো কাজ করে, যাতে এক হাড়ের সঙ্গে অন্য হাড়ের ঘষা না লাগে। কিন্তু কোনও কারণে এই তরল যদি থলির মতো এক জায়গায় জমতে শুরু করে, তখনই তা চামড়ার নিচে ফুলে ওঠে।
কেন তৈরি হয় এই থলি?
পুরনো চোট: আঙুলে বা কব্জিতে আগে কখনো ছোটখাটো আঘাত লেগে থাকলে এবং তা ঠিকমতো না সারলে এমনটা হতে পারে।
বারবার চাপ পড়া: একই জায়গায় বারবার আঘাত বা চাপ লাগলে জয়েন্টের ভেতর থেকে তরল বেরিয়ে সিস্ট তৈরি হতে পারে।
হাড়ের ক্ষয় ও বাতের সমস্যা: যাঁদের অস্টিয়োআর্থ্রাইটিস বা হাড়ের ক্ষয় রয়েছে, তাঁদের ক্ষেত্রে এই সমস্যা হওয়ার ঝুঁকি বেশি থাকে।
সাধারণত এই সিস্ট আঙুল, কব্জি বা কনুইয়ে বেশি দেখা যায়। তবে ক্ষেত্রবিশেষে এটি হাঁটু বা গোড়ালিতেও হতে পারে। অনেক সময় ছোট মার্বেলের গুটির মতো দেখায়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এই সিস্ট ক্ষতিকর নয়। তাই সাধারণ অবস্থায় এতে ইনফেকশন বা সংক্রমণ না হলে কোনও ওষুধ খাওয়ারও প্রয়োজন পড়ে না।
তবে মনে রাখা জরুরি, সিস্টটি যদি আকারে অনেক বড় হয়ে যায়, আঙুল নাড়াচাড়া করতে অসুবিধা তৈরি করে, কিংবা লাল হয়ে ফেটে রক্ত-পুঁজ বেরোতে থাকে, তবে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে ছোট্ট একটি অস্ত্রোপচার করিয়ে নেওয়াই ভালো। কারণ কখনও কখনও এটি বাতের ব্যথা বা রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিসেরও প্রাথমিক লক্ষণ হতে পারে।