
জিনসের প্যান্টের কথা উঠলেই চোখের সামনে নীল রং ভেসে ওঠে। কারণ এই কাপড়ের বেশির ভাগ পোশাকের রংই নীল। কখনও ভেবে দেখেছেন কি এর কারণ কী? আজকাল বাজারে বিভিন্ন রঙের জিনস পাওয়া যায়। কিন্তু আদি যুগ থেকে নীল রঙের জিনসেরই কদরই বেশি। এই পোশাকের ইতিহাস জানলেই স্পষ্ট হবে এর কারণ।
জিনস কয়েক শতকের পুরনো পোশাক। বর্তমানে সেই জিনস ফ্যাশানের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ হয়ে উঠলেও এই পোশাকের আদি যুগে এর সঙ্গে ফ্যাশনের কোনও সম্পর্ক ছিল না। এক সময়ে এটি শ্রমিকদের পোশাক ছিল। যে ফ্যাব্রিক বা কাপড় থেকে জিনস তৈরি হয়েছিল, তাকে ফরাসি ভাষায় বলা হয় ‘সেরগে’। এটিই নাম দেয়া হয় ‘সেরগে ডি নিমস’। এটিই পরে সংক্ষিপ্ত হয়ে ‘ডেনিম’-এ রূপান্তরিত হয়। এর পরে ধীরে ধীরে গোটা ইউরোপে ডেনিম জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।
ইতিহাস বলছে, ১৮৫০ সাল নাগাদ লেভিস স্ট্রাউস নামের এক জার্মান ব্যবসায়ী ক্যালিফোর্নিয়ায় জিনস বিক্রি করা শুরু করেন। সেখানকার কয়লাখনি শ্রমিকদের এই জিনস বেশ পছন্দ হয়। এই কাপড় বাকি কাপড়ের তুলনায় অনেকটাই মোটা, সহজে ছিঁড়ে যায় না। সেই সময়ে আমেরিকায় এই জিনস শুধুমাত্র শ্রমিকরাই পরতেন। প্রথমে ডেনিম অনেক রঙের হত। কিন্তু পরে দেখা গেল, শ্রমিকদের অন্য জামাকাপড় ময়লা হয়ে গেলেও নীল জিনস নোংরা কম হত। সেই কারণে নীল রংকেই এই পোশাকের জন্য বেছে নেওয়া হল। এর পর হলিউডের বিভিন্ন ছবিতে নীল জিনসকে ফ্যাশন হিসেবে দেখানো শুরু হল। ধীরে ধীরে গোটা আমেরিকায় জিনস পরার প্রবণতা ছড়িয়ে পড়ে। আস্তে আস্তে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বাজার দখল করে জিনস। এবং এখনও বেশির ভাগ জিনসের রংই নীল রাখা হচ্ছে।