
জ্বর (Fever) শরীরে কামড় বসালেই যেন সবথেকে আগে উধাও হয়ে যায় মুখের স্বাদ আর খিদে। বিরিয়ানি তো দূর অস্ত, সাধের মিষ্টিও তখন তেতো মনে হয়। কিন্তু কখনও ভেবে দেখেছেন কি, যখন রোগ প্রতিরোধের জন্য শরীরের সবচেয়ে বেশি শক্তির প্রয়োজন, ঠিক তখনই কেন আমাদের খিদে মরতে বসে? অনেকেই একে সাধারণ দুর্বলতা ভেবে ভুল করেন, তবে চিকিৎসকদের মতে, এর পিছনে রয়েছে শরীরের এক দারুণ বৈজ্ঞানিক ডিফেন্স মেকানিজম।
গুরুগ্রামের সিকে বিড়লা হাসপাতালের ইন্টারনাল মেডিসিন বিভাগের প্রধান ড. রবীন্দ্র গুপ্ত এই বিষয়ে একটি অত্যন্ত জরুরি তথ্য শেয়ার করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, যখনই শরীরে কোনও ব্যাকটেরিয়া বা ভাইরাস আক্রমণ করে, তখন তার সঙ্গে লড়াই করার জন্য আমাদের শরীর ‘সাইটোকাইন’ (Cytokines) নামের এক ধরনের কেমিক্যাল তৈরি করে। এই সাইটোকাইন সরাসরি আমাদের মস্তিষ্কের ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র বা ‘হাঙ্গার সেন্টার’-কে কিছুক্ষণের জন্য স্তব্ধ করে দেয়।
শরীর আসলে এই সময় চরম বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দেয়। খাবার হজম করতে শরীরের প্রচুর শক্তির প্রয়োজন হয়। জ্বর এলে শরীর সেই শক্তি নষ্ট না করে, পুরো এনার্জিটা সংক্রামক জীবাণুর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সঁপে দিতে চায়। সহজ কথায়, হজমের এনার্জি বাঁচিয়ে তা ইমিউনিটি বাড়াতে খরচ করা হয়। এছাড়া ইনফেকশনের কারণে আমাদের স্বাদ ও গন্ধ পাওয়ার ক্ষমতা সাময়িকভাবে কমে যায়, যার ফলে খাবার মুখে দিলেই বিস্বাদ লাগে। অনেক সময় লিভারে সংক্রমণের ফলেও খিদে পুরোপুরি চলে যায়।
তবে খিদে না লাগলেও এই সময় খালি পেটে থাকা একেবারেই উচিত নয় বলে সতর্ক করেছেন পারস হেলথের চিকিৎসক ড. আর. আর. দত্ত। তিনি জানান, জ্বরের সঙ্গে লড়াই করতে শরীরের পুষ্টির প্রয়োজন আগের চেয়ে অনেক বেড়ে যায়। দীর্ঘক্ষণ না খেয়ে থাকলে শরীর আরও দুর্বল হয়ে পড়বে এবং সুস্থ হতে অনেক বেশি সময় লাগবে।
তাই এই অবস্থায় জোর করে ভারী খাবার না খেয়ে অল্প অল্প করে বারবার হালকা খাবার খাওয়া উচিত। চিকিৎসকদের মতে, এই সময়ে ডায়েটে মুগ ডালের পাতলা খিচুড়ি, ওটস বা ডালিয়া, গরম ভেজিটেবল স্যুপ, ডাবের জল এবং পর্যাপ্ত পরিমাণে জল ও ইলেকট্রোলাইট রাখা জরুরি। যদি গলা ব্যথা না থাকে তবে দইও খাওয়া যেতে পারে। তবে খেয়াল রাখবেন, যদি বেশ কয়েকদিন ধরে জ্বর না কমে এবং খাওয়ার ইচ্ছা একেবারেই চলে যায়, তবে আর দেরি না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।