
ফ্রিজ খুললেই কি একটা বিদঘুটে গন্ধ সোজা নাকে এসে ধাক্কা মারে? কিংবা পেছনের দেওয়ালে বরফের পাহাড় জমে গিয়ে কাঁচা সবজি নিমেষেই নষ্ট হয়ে যাচ্ছে? লাখ টাকার দামী দামী স্মার্ট ফ্রিজ ব্যবহার করেও এই একটা সমস্যা থেকে কিছুতেই রেহাই মিলছে না? তবে জানলে অবাক হবেন, বাথরুমের ওই একটা সাধারণ টয়লেট পেপারই (Toilet Paper) এই চিরন্তন ঝামেলা থেকে এক্কেবারে মুক্তি দিতে পারে!
শুনতে অবাক লাগলেও, এর পেছনের কারণটা কিন্তু পুরোপুরি বৈজ্ঞানিক। সারাদিনে যখনই বারবার ফ্রিজের দরজা খোলা-বন্ধ করা হয়, অমনি বাইরের গরম ও স্যাঁতসেঁতে হাওয়া ভেতরে ঢুকে পড়ে। ভেতরের কড়া ঠান্ডা আর বাইরের বাতাসের আর্দ্রতা মুখোমুখি হলেই ভেতরে জমা হতে থাকে প্রচুর জলীয় বাষ্প। পরে সেটাই ফ্রিজের দেওয়ালে শক্ত বরফের স্তর তৈরি করে। আর একই সঙ্গে ঢাকা না দেওয়া হরেক পদের খাবারের কটু গন্ধও ওই আর্দ্র হাওয়ার ওপর ভর করে গোটা ফ্রিজে ছড়িয়ে পড়ে।
ঠিক এখানেই আসল কামাল দেখায় ওই কাগজের রোল। টয়লেট পেপারের গায়ে থাকে লাখ লাখ সূক্ষ্ম ছিদ্র, যা স্পঞ্জের থেকেও দ্রুত জলীয় বাষ্প শুষে নিতে পারে। ফ্রিজের একদম পেছনের কোণে একটি শুকনো রোল বসিয়ে রাখলেই কেল্লাফতে! এটি বাতাসের বাড়তি আর্দ্রতা নিজের ভেতর টেনে নেয়। ফলে একদিকে যেমন দেওয়ালে নতুন করে শক্ত বরফ জমে না, তেমনই খাবারের দুর্গন্ধকেও এক লহমায় সরিয়ে দেয়। আর বরফ না জমলে ফ্রিজের মোটরের ওপর থেকেও বাড়তি ধকল কমে, ফলে কারেন্টের বিলও নিয়ন্ত্রণে থাকে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, একটু বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে যত্ন নিলে একটা সাধারণ ফ্রিজ অনায়াসে ২০ বছর পর্যন্ত টিকে থাকে। আর ফ্রিজের এই আয়ু বাড়ানোর খেলাতেই সবচেয়ে কাজের হাতিয়ার হতে পারে এই ঘরোয়া টোটকা। শুধু খেয়াল রাখবেন, রোলটি যেন সব সময় ফ্রিজের পেছনের অংশে রাখা থাকে। আর প্রতি তিন সপ্তাহ অন্তর, কিংবা রোলটি বেশি ভিজে গেলে নতুন একটা পেপার রোল আগেরটার জায়গায় রেখে দেবেন, তাতেই ফ্রিজ থাকবে একদম ঝকঝকে ও ফ্রিজের খাবারও থাকবে এক্কেবারে টাটকা!