
প্লাস্টিকের টুল (Plastic Stool) নিশ্চয়ই আপনার বাড়িতেও রয়েছে? বসার ঘর, বারান্দা কিংবা চায়ের ঠেক, যেখানেই যান না কেন, প্লাস্টিকের এই টুল আমরা রোজই ব্যবহার করি। কিন্তু কখনও কি বসে বসে খেয়াল করেছেন, এই টুলের ঠিক মাঝখানে একটা ছোট্ট গোল ফুটো কেন থাকে?
যদি ভেবে থাকেন ওটা শুধু আঙুল গলিয়ে এক হাত দিয়ে তোলার জন্য, তবে কিন্তু আপনি একা নন! অনেকেই ভাবেন এটা নিছক একটা হাতল বা ডিজাইনের অঙ্গ। কিন্তু সত্যিটা জানলে আপনি চমকে যাবেন। এই সাধারণ ফুটোটির পেছনে লুকিয়ে আছে এক আশ্চর্য বৈজ্ঞানিক কারণ।
টুলগুলো আটকে যায় না কেন?
জায়গা বাঁচাতে আমরা প্রায়ই একটা টুলের ওপর আরেকটা টুল সাজিয়ে স্তূপ করে রাখি। যদি মাঝখানে ওই ছিদ্রটি না থাকত, তবে কী হত বলুন তো? ওপরের টুলটা নিচের টুলে বসার সঙ্গে সঙ্গে মাঝের হাওয়া আটকে গিয়ে এক ধরনের suction বা ভ্যাকিউমের মতো চাপের পার্থক্য তৈরি হতে পারত। তখন দুটো টুল আলাদা করতে তুলনামূলক বেশি সমস্যা হত। মাঝের এই ফুটো থাকায় বাতাস চলাচল করতে পারে, ফলে টুল দুটো সহজেই আলাদা করা যায়।
ভাঙন ঠেকায় এই গোল নকশা
আপনার মনে প্রশ্ন জাগতেই পারে, মাঝখানে ফুটো করলে টুল তো দুর্বল হয়ে যাওয়ার কথা! কিন্তু এই ছিদ্রের গোল আকৃতিরও একটি বৈজ্ঞানিক সুবিধা রয়েছে। খেয়াল করেছেন কখনও, এই ফুটোটি কিন্তু চারকোনা নয়, গোল হয়? কারণ চারকোনা ছিদ্রের তীক্ষ্ণ কোণায় চাপ বা stress concentration তুলনামূলক বেশি হতে পারে, যার ফলে সেই অংশে ফাটল তৈরি হওয়ার ঝুঁকি বাড়তে পারে। গোল ছিদ্রে এমন তীক্ষ্ণ কোণ থাকে না।
তৈরির সময় প্লাস্টিক বাঁকা হয় না
প্লাস্টিক গলিয়ে ছাঁচে ফেলে এই টুল তৈরি করা হয়। যদি পুরোটা নিরেট থাকত, তবে একই পরিমাণ প্লাস্টিক ব্যবহার করে টুল তৈরি করতে বেশি উপাদান লাগত এবং টুলটিও অনেক ভারী হয়ে যেত। মাঝের ফাঁকা অংশ থাকায় কম প্লাস্টিক ব্যবহার করে তুলনামূলক হালকা ও ব্যবহারযোগ্য নকশা তৈরি করা যায়। পাশাপাশি, প্লাস্টিকের তৈরি টুলে এমন ফাঁপা বা খোলা নকশা তৈরির ফলে উৎপাদনের সময় উপাদানের ব্যবহারও নিয়ন্ত্রণ করা যায়।
তাছাড়া জল পড়লে সঙ্গে সঙ্গে গড়িয়ে নেমে যায়, ধুয়ে দিলেও চটপট শুকিয়ে যায়। ভাবুন তো, চোখের সামনে থাকা এত সাধারণ একটা গোল ফুটোর মধ্যে কত বড় বুদ্ধিমত্তা লুকিয়ে রয়েছে!