
আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে হঠাৎ মাথার মাঝে একটা-দুটো রুপোলি রেখা দেখে চমকে ওঠেননি, এমন মানুষ আজকের দিনে খুঁজে পাওয়া কঠিন। অকালপক্কতা (Premature Greying) বা অল্প বয়সে চুল পেকে যাওয়া ইদানীং তরুণ প্রজন্মের এক বড় মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বয়স বাড়লে চুলের গোড়ায় থাকা মেলানিন কমে যাওয়া এবং চুল সাদা হওয়া অত্যন্ত স্বাভাবিক একটি প্রক্রিয়া। কিন্তু কুড়ি বা তিরিশের কোঠায় পৌঁছানোর আগেই কেন এই দশা হচ্ছে? চিকিৎসা বিজ্ঞান বলছে, এর পেছনে লুকিয়ে রয়েছে সুনির্দিষ্ট কিছু শারীরিক ও মানসিক কারণ। সাম্প্রতিক এক আন্তর্জাতিক গবেষণার সূত্রে বিশেষজ্ঞরা অসময়ে চুল পাকার পেছনে মূলত ৪টি কারণকে চিহ্নিত করেছেন।
১. লাগামহীন মানসিক চাপ বা স্ট্রেস
আধুনিক যান্ত্রিক জীবনে মানসিক চাপ বা স্ট্রেস থেকে মুক্তি পাওয়া প্রায় অসম্ভব। তবে এই দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপ আপনার চুলের রঙের ওপর কতটা মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে, তা হয়তো অনেকেই জানেন না। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অতিরিক্ত মানসিক চাপের কারণে শরীরের স্বাভাবিক হরমোন চক্র ব্যাহত হয়, যা সরাসরি চুলের রঞ্জক উৎপাদনকারী কোষের ওপর থাবা বসায়। এর ফলে অনিদ্রা, উদ্বেগ এবং উচ্চ রক্তচাপের মতো সমস্যা তৈরি হয়, যা পরোক্ষভাবে চুলের বারোটা বাজিয়ে দেয়। তবে আশার কথা হল, সঠিক লাইফস্টাইল ও যোগব্যায়ামের মাধ্যমে স্ট্রেস নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারলে চুলের স্বাভাবিক রঙ কিছুটা হলেও ফিরে আসার সম্ভাবনা থাকে।
২. অটো-ইমিউন রোগ
দ্বিতীয় কারণটি আমাদের শরীরের অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত, যাকে চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় অটো-ইমিউন রোগ বলা হয়। যখন শরীরের নিজস্ব রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা ভুলবশত নিজেরই সুস্থ কোষকে শত্রু ভেবে আক্রমণ করে, তখনই এই জটিলতা দেখা দেয়। এই রোগে আক্রান্ত হলে শরীরের প্রতিরোধী কোষগুলো চুলের মেলানিন উৎপাদনকারী কোষকে ধ্বংস করে দেয়। ফলে চুলের স্বাভাবিক পিগমেন্ট বা রঙ হারিয়ে যায় এবং চুল দ্রুত সাদা হতে শুরু করে।
৩. ভিটামিন বি-১২ এর অভাব
শরীরের শক্তি বাড়াতে এবং রক্তের লোহিত কণিকা সতেজ রাখতে ভিটামিন বি-১২ অপরিহার্য। এই ভিটামিনটি চুলের বৃদ্ধি এবং এর স্বাভাবিক রঙ বজায় রাখতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। লোহিত কণিকার মূল কাজ হল চুলের গোড়াসহ শরীরের সব অংশে সঠিক মাত্রায় অক্সিজেন পৌঁছে দেওয়া। শরীরে ভিটামিন বি-১২ এর ঘাটতি দেখা দিলে চুলের কোষগুলো প্রয়োজনীয় পুষ্টি পায় না। ফলে চুলের গোড়া দুর্বল হয়ে পড়ে এবং অসময়ে চুল পেকে বুড়োটে ভাব চলে আসে।
৪. ধূমপানের অভ্যাস
ধূমপানের সঙ্গে অকালপক্কতার একটি সরাসরি এবং মারাত্মক সম্পর্ক রয়েছে। গবেষণায় দেখা গিয়েছে, যারা নিয়মিত ধূমপান করেন, তাদের ক্ষেত্রে ৩০ বছর বয়সের আগেই চুল পেকে যাওয়ার ঝুঁকি অধূমপায়ীদের তুলনায় বহুগুণ বেশি। ধূমপানের ফলে শরীরের রক্তনালীগুলো সংকুচিত হয়ে যায়, যার ফলে চুলের গোড়ায় রক্ত সঞ্চালন বাধাগ্রস্ত হয়। তামাকের বিষাক্ত উপাদানগুলো চুলের কোষের মারাত্মক ক্ষতি করে, যা দ্রুত চুল পাকার পাশাপাশি চুল ঝরে পড়ার হারও বাড়িয়ে দেয়।