
পুষ্টিতে ভরপুর কলা (Banana) যেমন শরীরের শক্তি বাড়াতে দারুণ কাজ করে, তেমনই এর খোসাটি রূপ বদলে দিতে পারে আপনার প্রিয় বাগানের। তবে অনেকেই খোসা ছাড়িয়ে সোজা ফেলে দেন আবর্জনায়। আর যারা একটু সচেতন, তারা কলার খোসা সরাসরি গাছের গোড়ায় বা টবে দিয়ে দেন। কিন্তু আপনি কি জানেন, গাছের মাটিতে কলার খোসা দেওয়ার আগে যদি তা কিছুক্ষণ ফ্রিজে রেখে জমিয়ে নেওয়া যায়, তবে তার গুণ বেড়ে যায় দ্বিগুণ?
আজকাল পরিবেশবান্ধব ও প্রাকৃতিক উপায়ে বাগান করার ঝোঁক বাড়ছে সর্বত্র। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কলার খোসা ফেলে না দিয়ে ফ্রিজে জমিয়ে রাখাই হল মাটি উর্বর করার সবচেয়ে স্মার্ট উপায়। ফ্রিজের অতি ঠান্ডা আবহাওয়া কলার খোসার ভেতরের প্রাকৃতিক সব পুষ্টিগুণ এক নিমেষে আটকে ফেলে। এর ফলে খোসা নষ্ট হয় না এবং এর সব ভালো উপাদান পুরোপুরি অক্ষুণ্ণ থাকে।
শুধু পুষ্টি জোগানোই নয়, এই ঠান্ডা কিন্তু খোসার গড়নও বদলে দেয়। ফ্রিজ থেকে বের করার পর বরফজমা খোসা খুব সহজে ছোট ছোট টুকরো করে কেটে নেওয়া যায়। ফলে এটি টবের মাটির সঙ্গে মেশানো অনেকটাই সহজ হয়ে ওঠে, যা সাধারণ কাঁচা খোসার ক্ষেত্রে বেশ ঝামেলার হয়।
তবে শুধু কলার খোসা নয়। এর সঙ্গে আরও দুটো সহজ ঘরোয়া উপাদান মেশালে তৈরি হয় দুর্দান্ত এক জৈব সার। ডিমের খোসা গুঁড়ো করে এবং কফির গুঁড়ো কলার খোসার টুকরোর সঙ্গে মিশিয়ে নিন। ব্যাস, তৈরি হয়ে গেল একশো শতাংশ খাঁটি প্রাকৃতিক সার। এই মিশ্রণ মাটির গঠন উন্নত করে এবং ইন্ডোর বা আউটডোর, যেকোনও গাছের দ্রুত বৃদ্ধিতে জাদুকরী ভূমিকা নেয়।
আর অন্যদিকে, ফল হিসেবে কলা তো এমনিতেই দুর্দান্ত! ভিটামিন বি এবং পটাশিয়ামে ভরপুর কলা প্রতিদিনের খাবারের তালিকায় রাখা অত্যন্ত জরুরি। পুডিং তৈরি হোক বা ফলের স্যালাড, যেকোনওভাবেই এটি সহজেই খাওয়া যায়।
তাই এবার থেকে কলা খাওয়ার পর খোসাটি ফেলে না দিয়ে সোজা চালান করে দিন ডিপ ফ্রিজে। অল্প এই পরিশ্রমে আপনার বাগানের গাছগুলো পাবে এক নতুন জীবন আর মাটির স্বাস্থ্যও থাকবে একবারে পাকা।