
গরম থেকে বাঁচতে এখন প্রায় প্রতিটি বাড়িতেই এয়ার কন্ডিশনার বা এসি অপরিহার্য হয়ে গিয়েছে। কিন্তু এই যন্ত্রটি ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমরা এমন কিছু সাধারণ ভুল করি, যার জেরে সেটি দ্রুত খারাপ হওয়ার দিকে এগিয়ে যায়। সঠিক নিয়ম মেনে না চললে অকালেই বিকল হতে পারে আপনার সাধের এসি। Getty Images
অনেকেই মনে করেন এসির তাপমাত্রা ১৮ ডিগ্রিতে রাখলে ঘর সবচেয়ে দ্রুত ঠান্ডা হয়, যা সম্পূর্ণ ভুল ধারণা। বিশেষজ্ঞদের মতে, ২৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসে এসি চালালে ঘরের পরিবেশ আরামদায়ক থাকে এবং কম্প্রেসরের ওপর অহেতুক চাপ পড়ে না। এই নিয়মটি মেনে চললে আপনার ইলেকট্রিক বিলও অনেকটা কম আসবে। Getty Images
গরমকাল আসার আগে অনেকেই নিয়ম করে এসির সার্ভিসিং করান না, যা যন্ত্রের স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। সারা বছর বন্ধ থাকার ফলে ভেতরে প্রচুর ধুলো জমে যায়, যা এসির ঠান্ডা করার ক্ষমতাকে একধাক্কায় কমিয়ে দেয়। তাই গরমের শুরুতে পেশাদারদের সঙ্গে যোগাযোগ করে সার্ভিসিং করানো ভীষণ জরুরি। Getty Images
এসি চালানোর সময় ঘরের দরজা বা জানলা সামান্য খোলা থাকলে বাইরের গরম হাওয়া ভেতরে প্রবেশ করে। এর ফলে ঘর ঠান্ডা করতে মেশিনের অতিরিক্ত সময় লাগে এবং কম্প্রেসরের আয়ু দ্রুত কমে যায়। তাই এসি অন করার আগে ঘরের চারপাশ সম্পূর্ণ সিল করা আছে কি না, তা দেখে নেওয়া হল অত্যন্ত জরুরি। Getty Images
অনেকেই সাধারণত ঘরের ভেতরের ইউনিট পরিষ্কার রাখলেও বাইরের আউটডোর ইউনিটের দিকে কখনও নজর দেন না। আউটডোর ইউনিটে ধুলো বা ময়লা জমে গেলে হাওয়া চলাচলে বাধা তৈরি হয়, ফলে কুলিং সিস্টেম ব্যাহত হয়। তাই রোদ-বৃষ্টি থেকে বাঁচাতে নিয়মিত বাইরের অংশটিও পরিষ্কার রাখা সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ একটি কাজ। Getty Images
একটানা দীর্ঘক্ষণ এসি চালিয়ে রাখা যন্ত্রের জন্য মোটেই ভালো লক্ষণ নয়। ঘর পর্যাপ্ত ঠান্ডা হয়ে যাওয়ার পর কিছুক্ষণ মেশিনটি বন্ধ রাখা উচিত, যাতে কম্প্রেসর কিছুটা বিশ্রাম নেওয়ার সুযোগ পায়। এর ফলে এসির কর্মক্ষমতা দীর্ঘদিন পর্যন্ত অটুট থাকে এবং ভেতরের যন্ত্রাংশ সহজে খারাপ হয় না। Getty Images
অনেকেই ঘরে সিলিং ফ্যান ও এসি একসঙ্গে চালান না, অথচ এই যুগলবন্দি ঘরকে দ্রুত ঠান্ডা করতে দারুণ সাহায্য করে। ফ্যানের হাওয়া এসির ঠান্ডা বাতাসকে ঘরের প্রতিটি কোণায় সমানভাবে ছড়িয়ে দিতে অনুঘটকের মতো কাজ করে। এতে মেশিনের ওপর থেকে অতিরিক্ত চাপ কমে এবং খুব কম সময়েই আরাম পাওয়া যায়। Getty Images
নিয়মিত এসির এয়ার ফিল্টার পরিষ্কার না করলে ভেতরে ব্যাকটেরিয়া ও ফাঙ্গাস জন্ম নিতে পারে, যা স্বাস্থ্যের জন্যও মারাত্মক ক্ষতিকর। প্রতি দুই সপ্তাহ অন্তর ফিল্টারটি বের করে পরিষ্কার জলে ধুয়ে নিলে এই সমস্যা থেকে খুব সহজেই মুক্তি মেলে। এই ছোট ছোট বিষয়গুলি মাথায় রাখলে কোনও সমস্যা ছাড়াই আপনার এসি দীর্ঘদিন পরিষেবা দিতে পারবে। Getty Images