
সকালে ঘুম থেকে উঠেই প্রথম কাজ হয় দাঁত মাজা। দন্ত চিকিৎসকরা বলেন যে দিনে অন্তত দুইবার দাঁত মাজা উচিত। সকালে উঠে এবং রাতে খাবার খাওয়ার পর দাঁত মাজা স্বাস্থ্যকর অভ্য়াস। তবে এরপরও অনেকের মুখে দুর্গন্ধ হয়। কেন এমন হয় জানেন?
মুখের দুর্গন্ধকে হ্যালিটোসিস বলে। এর পিছনে এমন কিছু কারণ থাকে, যা শুধুমাত্র দাঁত ব্রাশ করে দূর করা যায় না। কীভাবে মুখের গন্ধ থেকে মুক্তি পাওয়া যায়, তার সহজ কয়েকটি উপায় রইল এখানে।
মুখে দুর্গন্ধ হওয়ার অন্য়তম কারণ হল নিয়মিত ফ্লসিং না করা। খাবার খাওয়ার পর দাঁতের ফাঁকে যে খাবার আটকে থাকে, তার থেকে ব্যাকটেরিয়ার জন্ম হয়। আটকে থাকা খাবার ধীরে ধীরে পচতে শুরু করে। এর থেকেই দুর্গন্ধ হয়।
মুখে যাতে গন্ধ না হয়, তার জন্য নিয়মিত ফ্লসিং করা উচিত। পাতলা সুতো দিয়ে দাঁতের ফ্লসিং করা উচিত, এতে খাবারের অবশিষ্ট অংশ বেরিয়ে যায়।
যদি নিয়মিত দাঁত মাজা ও ফ্লসিং করার পরও মুখে দুর্গন্ধ থাকে, তাহলে জিভের উপরে থাকা ব্যাকটেরিয়া এর কারণ হতে পারে। সালফার উৎপাদনকারী ব্যাকটেরিয়া জিভের উপরে ও গলার পিছনে দ্রুত বৃদ্ধি পায়। এই ব্যাকটেরিয়াগুলি খাবারের প্রোটিন ভেঙে দুর্গন্ধ ছড়ায়।
কম জলপান করলেও কিন্তু মুখে দুর্গন্ধ হতে পাকে। শরীরে ডিহাইড্রেশন হলে, লালা উৎপাদন কমে যায়। তখন দুর্গন্ধ হতে পারে।
এছাড়া নিয়মিত কফি পান করলেও মুখে দুর্গন্ধ হয়। কারণ ক্যাফেইন লালা উৎপাদন কমিয়ে দেয়। মুখের ভিতরে শুকিয়ে যায়। সেই কারণে দুর্গন্ধ হতে পারে।
বেশি ধূমপান করলেও, মুখের ভিতর শুষ্ক হয়ে যায়। সেই কারণে দুর্গন্ধ হতে পারে। ধূমপান ছেড়ে দিলে, এই দুর্গন্ধও চলে যায়।
পেঁয়াজ, রসুন বেশি খেলেও, মুখে গন্ধ হতে পারে। সেই কারণে এই ধরনের খাবার খাওয়ার পর মুখ ভালোভাবে কুলকুচি করা উচিত।
মুখের গন্ধ কমাতে নিয়মিত দাঁত মাজা, ফ্লসিং করা উচিত। এছাড়া পর্যাপ্ত পরিমাণ জল পান করা উচিত।
এই পদ্ধতিগুলি অনুসরণ করার পরও যদি মুখের দুর্গন্ধ না কমে, তাহলে দন্ত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই ভালো। শরীরের অন্য কোনও সমস্যার কারণেও মুখে দুর্গন্ধ হতে পারে।