
বিড়াল রাস্তা কাটলে নাকি বিপদ হয়! এই অন্ধবিশ্বাস অনেকের। সেই বিশ্বাস থেকেই এখনও কোনও বিড়াল যদি হঠাৎ রাস্তা পার করে, তাহলে অনেকে দাঁড়িয়ে যান।
তবে এই অন্ধবিশ্বাসের কি আদৌ কোনও ভিত্তি আছে? কেনই বা বিড়াল রাস্তা কাটলে লোকজন বা গাড়ি দাঁড়িয়ে পড়ে?
বিড়াল রাস্তা কাটলে বিপদ হয়-এই ধরনের বিশ্বাসের সপক্ষে কোনও বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। যাত্রার সময় বিড়াল রাস্তা পার করলে কোনও দুর্ঘটনা বা খারাপ ঘটনা ঘটে, এমন কোনও প্রমাণ নেই।
এবার প্রশ্ন উঠতেই পারে যে তাহলে অতীতে কেন এই নিয়ম বা বিশ্বাস অনুসরণ করতেন সকলে? এর নেপথ্যে রয়েছে একটি ব্যাখ্যা।
আগেকার দিনে আজকের মতো ভালো রাস্তা, রাস্তার আলো ছিল না। দ্রুতগামী কোনও যানবাহনও ছিল না। মানুষ পায়ে হেঁটে বা গরুর গাড়িতে চেপে বন, ঝোপঝাড় ও নির্জন এলাকার মধ্য দিয়ে যাতায়াত করত।
এই ধরনের জায়গা দিয়ে যাতায়াতের সময় বন্যপ্রাণী, সাপ বা অন্যান্য বিপদ সম্পর্কে সতর্ক থাকা প্রয়োজন ছিল। বিড়ালরা সাধারণত তাদের চারপাশে সামান্যতম শব্দ বা গতিবিধিতেই দ্রুত প্রতিক্রিয়া দেখায়, কারণ তাদের কান তীক্ষ্ণ।
যদি কোনও বিড়াল স্বাভাবিকভাবে হাঁটার পরিবর্তে হঠাৎ ভয়ে এদিক-ওদিক ছোটাছুটি করে, তখন মনে করা হত যে আশেপাশে কোনও বিপজ্জনক প্রাণী থাকতে পারে।
সেই সময় মানুষ বিশ্বাস করত যে বিড়ালের এমন আচরণ বিপজ্জনক। তাই জঙ্গল এবং নির্জন পথ দিয়ে যাওয়ার সময় মনে করা হত যে বিড়ালের হঠাৎ ছুটে আসার পিছনে কোনও কারণ থাকতে পারে।
সেই কারণেই হঠাৎ কোনও বিড়ালকে রাস্তা পার করতে দেখলে চারপাশে বিপদ আছে কি না, তা পর্যবেক্ষণ করার জন্য এক মুহূর্তের জন্য থেমে যেতেন।
সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই সতর্কতামূলক অভ্যাসটি বিশ্বাসে রূপান্তরিত হয়েছে যে রাস্তার মধ্যে হঠাৎ বিড়াল চলে এলে, তা খারাপ ইঙ্গিত।
তবে গাড়ি চালানোর সময়, বিশেষ করে বন বা ঝোপঝাড়ের মাঝখান থেকে গাড়ি চালালে, কোনও প্রাণী এগিয়ে এলে, গাড়ির গতি কমিয়ে দেওয়া উচিত যাতে দুর্ঘটনা না হয়।