
নতুন পার্সেল হাতে পাওয়ার পর কি সবার আগে বাবল র্যাপ ফাটানোর জন্য হাত নিশপিশ করে? ভেতরের জিনিসের চেয়ে ওই প্লাস্টিকের বুদবুদগুলো ফাটাতেই বেশি উৎসাহী থাকেন অনেকেই! তবে শুনলে অবাক হবেন, জিনিসপত্রের সুরক্ষার জন্য কিন্তু আদৌ এই বস্তুটির জন্ম হয়নি। Getty Images
গল্পটা শুরু হয়েছিল ১৯৫৭ সালে, যখন অ্যালফ্রেড ফিল্ডিং এবং মার্ক চাভানেস নামের দুই ইঞ্জিনিয়ার নতুন কিছু বানাচ্ছিলেন। তাঁরা এমন এক ধরনের থ্রি-ডি ওয়ালপেপার তৈরি করতে চেয়েছিলেন, যা ছুঁলে একটু উঁচু-নিচু আর খসখসে অনুভূতি হবে। এই কাজের জন্য তাঁরা দু’টো প্লাস্টিকের পর্দার মাঝে হাওয়া ভরে একসঙ্গে আটকে দেন। Getty Images
একবার ভাবুন তো, বসার ঘরের দেওয়ালে প্লাস্টিকের বুদবুদ লাগানো থাকলে দেখতে ঠিক কেমন লাগবে? স্বাভাবিকভাবেই দেওয়াল সাজানোর ওয়ালপেপার হিসেবে বাজারে এটা চরম ফ্লপ হল। কিন্তু ওই দুই বুদ্ধিমান আবিষ্কারক ঠিকই বুঝেছিলেন, বাবল র্যাপের ভেতরে আটকে থাকা এই বাতাসের নিশ্চয়ই অন্য কোনও চমকপ্রদ ব্যবহার রয়েছে। Getty Images
১৯৬০ সালে তাঁরা এই নতুন জিনিসের পেটেন্ট পেয়ে যান এবং বেশ গালভরা করে এর নাম রাখা হয় 'এয়ার ক্যাপ'। নাম তো দেওয়া হল, কিন্তু বাণিজ্যিকভাবে এটাকে ঠিক কী কাজে লাগানো যায়, তা নিয়ে তাঁরা রীতিমতো ফাঁপরে পড়েছিলেন। এরপর ঠিক হল, গ্রিনহাউসের ভেতর গাছপালাকে ঠান্ডার হাত থেকে বাঁচাতে এটি ইনসুলেশন হিসেবে ব্যবহার করা হবে। Getty Images
বাবল র্যাপের পকেটে থাকা হাওয়া তাপমাত্রার ওঠানামা থেকে গাছকে বাঁচাবে বলে মনে করা হলেও, বাস্তবে এই আইডিয়াও চরম ব্যর্থ হল। পর পর দু’বার ধাক্কা খাওয়ার পর হঠাৎ তাঁদের মাথায় এক দারুণ বুদ্ধি খেলে যায়। তাঁরা বুঝতে পারেন, মালপত্র এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় পাঠানোর সময় এই জিনিসটি তো দারুণ কুশনের কাজ করতে পারে! Getty Images
ঠিক সেই সময়েই আইবিএম কোম্পানি বাজারে তাদের নতুন ১৪০১ কম্পিউটার নিয়ে আসে। সেই মহার্ঘ বস্তু সুরক্ষিতভাবে পাঠাতে এই বাবল র্যাপ ব্যবহার শুরু করে তারা। এরপর আর তাঁদের পিছন ফিরে তাকাতে হয়নি, কারণ ততদিনে দুনিয়া বুঝে গিয়েছে প্যাকেজিংয়ের জন্য এর জুড়ি মেলা ভার। Getty Images
কাঁচের জিনিস বা দামি ইলেকট্রনিক্সের সঙ্গে এই বাবল র্যাপ জড়িয়ে দিলে ছোট ছোট বুদবুদগুলো সরাসরি আঘাত লাগতে দেয় না। বাইরে থেকে কোনও ধাক্কা লাগলে এই হাওয়ার পকেটগুলো স্প্রিংয়ের মতো সেই আঘাত অনায়াসেই নিজের ওপর নিয়ে নেয়। Getty Images
জোরে চাপ দিলে বুদবুদের গায়ে থাকা পাতলা প্লাস্টিক ফেটে গিয়ে যে পপ শব্দ হয়, তা আমাদের অদ্ভুত একটা প্রশান্তি দেয়। তাই এখন আর শুধু জিনিসপত্র মোড়কের মধ্যে এর কাজ আটকে নেই, বাবল ফাটানোর শব্দ অনেকের কাছে স্ট্রেস-রিলিফের মতো কাজ করে। এক কথায়, মন ভালো করতে এই বাবল র্যাপের জুড়ি মেলা সত্যিই ভার! Getty Images