
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের থেকে ট্রেন্ডটা শুরু হয়েছিল। সোনারপুরে আক্রান্ত কর্মীদের সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে নিগৃহীত হতে হয়েছিল তাঁকে। জনরোষ আছড়ে পড়েছিল তাঁর ওপর। প্রচুর ডিম ছোড়া হয়েছিল বিক্ষুব্ধ জনতার মাঝ থেকে।

ভোট পরবর্তী নতুন বাংলায় এটাই 'ডিম থেরাপি'র প্রথম এপিসোড। সেই অধ্যায়ে নবতম সংযোজন সব্যসাচী দত্ত। তার আগে অবশ্য জেলার বিভিন্ন প্রান্তে একাধিক নেতার গ্রেফতারিতে ডিম ছুড়েছে জনতা। 'ডিম খেয়েছেন' বর্ষীয়ান সাংসদ সৌগত রায় থেকে শুরু করে জয়প্রকাশ মজুমদারও। এবার সব্যসাচী।

সোমবার মধ্যরাতে গ্রেফতার করা হয়েছে সব্যসাচী দত্তকে। বিধাননগর পুরসভার প্রাক্তন চেয়ারম্যান সব্যসাচীর বিরুদ্ধে তোলাবাজির অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার সকালে তাঁকে আদালতে পেশ করা হয়। থানার বাইরে সকাল থেকে বিক্ষুব্ধ জনতার ভিড়। ডিমের ক্রেট নিয়ে হাজির জনতা। এবারের অবশ্য ছিল অভিনবত্ব। নিয়ে আসা হয়েছিল কলাপাতায় গোবর।

থানার থেকে বার করার সময়েই 'অ্যাটাক'। সব্যসাচীকে যতটা সম্ভব ঘিরে রেখেছিলেন পুলিশ কর্মীরা। কিন্তু কোথায় কী! সব্যসাচীকে দেখা মাত্রই উঠল রব, সঙ্গে ধেয়ে আসতে থাকে একের পর এক ডিম। পত্ পত্ করে ফাটতে থাকে ডিম। আর সব্যসাচীকে আগলাতে গিয়ে 'সফট কর্নার' হয়ে যান পুলিশ কর্মীরাও।

পুলিশের কাজ অপরাধীকে জনরোষের হাত থেকে রক্ষা করা। তাই অভিষেক হোন কিংবা সব্যসাচী, সব ক্ষেত্রেই পুলিশকে ঢাল হয়ে দাঁড়াতে হচ্ছে পুলিশকে। আর ক্ষুব্ধ জনতার ডিম-বর্ষণ লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে এসে লাগছে পুলিশ কর্মীদের গায়েই। মঙ্গলবারও বিধাননগর থানার বাইরে ধরা পড়ল এই ছবি।

সাদা উর্দিতে লাগে ডিমের কুসুমের দাগ। সঙ্গে পচা ডিমের উৎকট গন্ধও। এমনও ছবি ধরা পড়ে, অতর্কিতে ডিম এসে লাগতেই ভয়ে পেয়ে গিয়েছেন পুলিশ কর্মী। সেই পোশাকেই সারাদিন ডিউটিতে অবিচল পুলিশ কর্মীরা। শুধু তাই নয়, সব্যসাচীকে যখন গাড়ির ভিতর তুলছিল পুলিশ, তখনও ক্ষ্যান্ত হননি ক্ষুব্ধ জনতা। ডিম ছুড়েছেন, আর সেই ডিম গিয়ে পড়ে গাড়ির সিটে। গাড়ির সিটও ডিমে-টমেটোয় মাখামাখি!

অনেকে বলছেন, জনরোষ থাকতেই পারে। এতদিনে নেতাদের বিরুদ্ধে পুঞ্জীভূত ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ হতেই পারে। কিন্তু তাতে বিপর্যস্ত হচ্ছেন পুলিশকর্মীরাও।

বিজেপি মুখপাত্র দেবজিৎ সরকার অবশ্য বলেছেন, "এই জিনিস যে হতে পারে, কোনও রাজনৈতিক নেতাকে মানুষ পচা ডিম, গোবর ছুড়ছে, তা দেখতে হচ্ছে। যদিও দলের পক্ষে থেকে আমরা কোনও ভাবে অসাংবিধানিক শারীরিক কিংবা মানসিক আঘাত বরদাস্ত করি না। মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত কাজের বহিঃপ্রকাশ। তবে এই কাজ সমর্থন করে না দল।"