
বর্ষাকালে চারপাশ জলে ডুবে গেলে শুকনো জায়গা খুঁজতে সাপ প্রায়ই ঘরের মধ্যে ঢোকে। উত্তরাখণ্ডের বাগেশ্বর বা কাপকোটের মতো পাহাড়ি গ্রামে এই সমস্যা দূর করতে এক ঘরোয়া টোটকা মানা হয়। তাঁরা শুকনো পেঁয়াজের খোসা ঘরের কোণে ও দরজার মুখে রেখে দেন। লোকবিশ্বাস হল, পেঁয়াজের কড়া গন্ধের কারণে সাপ ঘরের সীমানায় ঢুকতে ভয় পায়। Getty Images

পাহাড়ি এলাকায় বহু বছর ধরে লোকপ্রথা হিসেবে এই টোটকা মেনে চলা হচ্ছে। তখনকার দিনে সাপ তাড়ানোর আধুনিক স্প্রে বা কেমিক্যাল না থাকায় মানুষ এসব প্রাকৃতিক উপায়ের ওপরই ভরসা করতেন। অনেকে পেঁয়াজের খোসার সঙ্গে নিম পাতা ও ছাইও মিশিয়ে রাখতেন। মনে করা হত, এই সব কড়া গন্ধযুক্ত উপাদানের ঠেলায় বিষধর সরীসৃপ দূরে থাকবে। Getty Images

শুকনো পেঁয়াজের খোসা যেমন সস্তা, তেমনই সহজে পাওয়া যায়। তবে কেবল টোটকার ওপর ভরসা করে হাত গুটিয়ে বসে থাকলে চলবে না। এর পাশাপাশি বাড়ির চারপাশ পরিষ্কার রাখাও খুব দরকার। উঠোন বা ঘরের কোণে শুকনো কাঠ, ইট বা আবর্জনার স্তূপ জমতে দেওয়া যাবে না। এসব অন্ধকার জায়গাই সাপ লুকিয়ে থাকতে পারে Getty Images

সাপ খুব সহজে চারপাশের কম্পন ও আর্দ্রতা টের পায়। আর বাড়িতে যদি ইঁদুরের উপদ্রব থাকে, তবে খাবারের লোভে সাপের আসা নিশ্চিত। তাই ঘরের ইঁদুর তাড়ানো, স্যাঁতসেঁতে ভাব কমানো আর দেয়াল বা মেঝের ফাটল বুজিয়ে ফেলা সবচেয়ে বেশি জরুরি। এই কাজগুলো করলেই সাপের আসার রাস্তা বন্ধ করা সম্ভব। Getty Images

গ্রামাঞ্চলে রাতে চলাফেরার সময় সব সময় সঙ্গে টর্চ রাখা উচিত। এ ছাড়া চাল- গম বা অন্যান্য খাবার এয়ারটাইট পাত্রে গুটিয়ে রাখা দরকার যাতে ইঁদুর না ধরে। দরজার নিচের ফাঁক বন্ধ করা এবং ঝোপঝাড় ছেঁটে ফেলার মতো ছোট ছোট সচেতনতাই কিন্তু বড় বিপদ থেকে বাঁচায়। Getty Images

হঠাৎ ঘরে বা ঘরের কাছে সাপ দেখলে একদম ভয় পাবেন না। সেটিকে ধরা বা মারার মতো ভুল চেষ্টা না করে নিরাপদ দূরত্বে চলে যান। এর পর দ্রুত বন দফতর বা সাপ উদ্ধারকারী দলকে খবর দিন। সব সাপ কিন্তু বিষাক্ত হয় না, তাই অযথা আতঙ্কিত না হয়ে শান্ত থাকাই বুদ্ধিমানের কাজ। Getty Images

বর্ষার সময়ে সামান্য অসাবধানতাও বড় ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। উত্তরাখণ্ডের গ্রামে পেঁয়াজের খোসা ব্যবহারের রেওয়াজ থাকলেও বিজ্ঞান বলে পরিচ্ছন্নতাই আসল প্রতিরোধ। বাড়িঘর শুকনো ও পরিষ্কার রাখলে এবং চারপাশ ইঁদুরমুক্ত করতে পারলে সাপ এমনিতেই আর বাড়ির দিকে ঘেষবে না। Getty Images

যদি কাউকে সাপ ছোবল মারে, তবে ভুলেও পেঁয়াজের খোসা বা ঝাড়ফুঁকের মতো টোটকায় সময় নষ্ট করবেন না। রোগীকে সোজা সরকারি হাসপাতালে নিয়ে যান। একমাত্র অ্যান্টি-ভেনম ইনজেকশন ও সঠিক ডাক্তারি চিকিৎসাই সাপে কাটা রোগীর প্রাণ বাঁচাতে পারে। Getty Images