
টাকা জমানো কতটা প্রয়োজন, তা নতুন করে বলার দরকার রাখে না। সুরক্ষিত বিনিয়োগের ক্ষেত্রে সেরা অপশন গুলির মধ্যে অন্যতম হল পোস্ট অফিসের স্কিম।

সরকারের সুরক্ষার গ্যারান্টি থাকে এই স্কিমে। আবার বিনিয়োগে তুলনামূলকভাবে অনেক ভালো রিটার্নও পাওয়া যায়। পোস্ট অফিসে সামান্য টাকা বিনিয়োগ করেই কীভাবে বিপুল রিটার্ন পেতে পারেন, জানেন?

পোস্ট অফিসে ন্যূনতম বিনিয়োগ করেই রেকারিং ডিপোজিট বা আরডি করা যায়। মাত্র ১০০ টাকা দিয়ে পোস্ট অফিসে আরডি অ্যাকাউন্ট খোলা যায়। যাদের অনলাইন ব্যাঙ্কিংয়ের সুবিধা আছে, তারা মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে সহজেই বাড়ি থেকে বিনিয়োগ শুরু করতে পারেন।

পোস্ট অফিসে রেকারিং ডিপোজিটের ক্ষেত্রে সাধারণত ৫ বছর মেয়াদ হয়। এই প্রকল্পের ৫ বছরের মেয়াদ পূরণের পরও আরও ৫ বছর মেয়াদ বাড়িয়ে দেওয়া যায়। ১০ বছরে বিনিয়োগকারীরা চক্রবৃদ্ধি সুদের হারে লাভ পায়। এই প্রকল্পে প্রতি তিন মাস অন্তর সুদ গণনা করা হয়।

যদি আপনি প্রতিদিন ৩৩৩ টাকা করে জমাতে পারেন, তাহলে প্রতি মাসে আপনার প্রায় ১০,০০০ টাকা জমা হবে। যদি আপনি এই টাকা আরডি-তে (RD) বিনিয়োগ করেন, তাহলে ৫ বছরে আপনার মোট বিনিয়োগ হবে ৬ লক্ষ টাকা।

পাঁচ বছর মেয়াদপূর্তির পর, আপনি সুদসহ ৭ লক্ষ ১৩ হাজার ৬৫৯ টাকা পাবেন। এর মধ্যে ১ লক্ষ ১৩ হাজার ৬৫৯ টাকা পাবেন সুদ হিসাবে। যদি আপনি এই স্কিমটির মেয়াদ আরও ৫ বছরের জন্য বাড়িয়ে দেন, তবে ১০ বছরে আপনার মোট বিনিয়োগ হবে ১২ লক্ষ টাকা।

১০ বছর পর, চক্রবৃদ্ধি সুদের হারে আপনার হাতে আসবে ১৭ লক্ষ ৮ হাজার ৫৪৭ টাকা। অর্থাৎ আপনি শুধুমাত্র সুদ হিসেবেই ৫ লক্ষ ৮ হাজার ৫৪৭ টাকা পাবেন।

এই স্কিমে বিনিয়োগকারীদের জন্য আরও কিছু দারুণ সুবিধা রয়েছে। অ্যাকাউন্ট খোলার এক বছর পর যদি কোনও জরুরি পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়, তাহলে আপনি আরডি অ্যাকাউন্টে থাকা টাকার ৫০ শতাংশ পর্যন্ত লোন নিতে পারবেন। সুরক্ষিত বিনিয়োগের জন্য তাই পোস্ট অফিসের রেকারিং ডিপোজিট সেরা অপশন হয়ে উঠতে পারে।