
অচেনা রাস্তা হোক বা নিত্যদিনের অফিস যাতায়াত, বাড়ি থেকে বেরনোর পর গুগল ম্যাপস আমাদের সবচেয়ে ভরসার সঙ্গী হয়ে উঠেছে। তবে আপনি কি কখনও ভেবে দেখেছেন, প্রতি মুহূর্তে অ্যাপটি কীভাবে জ্যামের খবর বলে দেয়? এর পিছনে কোনও উপগ্রহের সরাসরি নজরদারি নেই, বরং রয়েছে এক অত্যাধুনিক প্রযুক্তির নিখুঁত হিসেব।
এর পিছনে কোনও ম্যাজিক নেই, বরং স্মার্টফোনের লোকেশন ডেটা এবং আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বা এআই একসঙ্গে মিলে এই জটিল কাজ করে থাকে। আপনি নিশ্চয়ই খেয়াল করেছেন ম্যাপের রাস্তাগুলো কখনও সবুজ, কখনও হলুদ আবার কখনও লাল রঙের দেখায়। সবুজ মানে রাস্তা পরিষ্কার, আর হলুদ বা লাল মানেই বুঝবেন সামনে গাড়ির গতি কমে গিয়েছে বা বেশ ভিড় রয়েছে।
এই রিয়েল-টাইম প্রযুক্তির সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হল আপনার পকেটে থাকা স্মার্টফোন এবং তার লোকেশন সিগন্যাল। রাস্তার ওপর দিয়ে যাওয়া অসংখ্য স্মার্টফোনের লোকেশন এবং তাদের গতিবিধি একসঙ্গে বিশ্লেষণ করে গুগল বুঝতে পারে গাড়ির গতি ঠিক কেমন। যখন অনেকগুলো ডিভাইস একসঙ্গে ধীরে চলতে শুরু করে, তখন ম্যাপ নিজে থেকেই বুঝে যায় যে সেই নির্দিষ্ট রাস্তায় ট্রাফিক জ্যাম তৈরি হয়েছে।
তবে শুধু বর্তমান পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে গুগল ম্যাপস ট্রাফিক আপডেট দেয় না, এর সঙ্গে পুরনো ডেটাও সমান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ধরুন, কোনও নির্দিষ্ট রাস্তায় সোমবার সকালে অফিসের সময় রোজ জ্যাম থাকে, তখন গুগল সেই পুরোনো হিসেব মিলিয়ে বর্তমান পরিস্থিতি যাচাই করে নেয়। এই দুইয়ের মেলবন্ধনের ফলে আপনি নির্দিষ্ট গন্তব্যে পৌঁছনোর আগেই সঠিক সময়ের একটা পরিষ্কার ধারণা পেয়ে যান।
অনেক সময় এমন হয় যে, কোনও রাস্তায় পর্যাপ্ত সংখ্যক স্মার্টফোন ইউজার নেই, তখন গুগলের পক্ষে সরাসরি লাইভ আপডেট দেওয়া একটু কঠিন হয়ে পড়ে। এই ধরনের পরিস্থিতিতে গুগল মূলত পুরনো ট্রাফিকের প্যাটার্ন এবং অন্যান্য উপলব্ধ ডেটার ওপর নির্ভর করে গাড়ির গতি অনুমান করে। পাশাপাশি বিভিন্ন সরকারি ট্রাফিক কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্যের সঙ্গে মিলিয়ে রাস্তার বর্তমান অবস্থা বোঝার চেষ্টা করা হয়।
রাস্তার মাঝে হঠাৎ কোনও দুর্ঘটনা, রাস্তা মেরামতির কাজ বা অন্য কোনও কারণে পথ বন্ধ থাকলে ট্রাফিক অনুমানে প্রভাব পড়তে পারে। গুগলের মতে, স্থানীয় ট্রাফিক পুলিশ এবং অ্যাপ ব্যবহারকারীদের রিয়েল-টাইম ফিডব্যাক এই ধরনের আকস্মিক পরিবর্তনগুলো বুঝতে অত্যন্ত সাহায্য করে। ইউজারদের দেওয়া এই সরাসরি তথ্য ম্যাপের অ্যালগরিদমকে আরও দ্রুত এবং নিখুঁতভাবে কাজ করতে সাহায্য করে।
একটা কথা পরিষ্কারভাবে জেনে রাখা ভালো যে, গুগল ম্যাপ কিন্তু আলাদা করে প্রতিটি গাড়ির ওপর নজরদারি চালায় না। ম্যাপে আমরা যে রঙিন লাইনগুলো দেখি, তা মূলত ব্যাপক ডেটা বিশ্লেষণের একটা গ্রাফিক্যাল রূপ মাত্র। তাই অনেক সময় রাস্তার আসল পরিস্থিতির সঙ্গে ম্যাপের তথ্য পুরোপুরি নাও মিলতে পারে, বিশেষ করে যখন লাইভ সিগন্যালের অভাব থাকে।
প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতার কারণে বা রাস্তায় হঠাৎ কোনও অস্বাভাবিক পরিবর্তন এলে সিস্টেমের পক্ষে অনেক সময় সঠিক পরিস্থিতি বুঝতে কিছুটা সময় লাগে। তবুও প্রতিদিনের যাতায়াতকে সহজ করতে এবং সঠিক রাস্তা বেছে নিতে গুগল ম্যাপের এই আধুনিক প্রযুক্তি আমাদের প্রতিনিয়ত সাহায্য করে। তাই সম্পূর্ণ অন্ধের মতো নির্ভর না করলেও, বর্তমান ডিজিটাল যুগে এই অ্যাপটি আমাদের যাতায়াতের এক অপরিহার্য অংশ হয়ে উঠেছে।