
অফিসের কাজের চাপে চেয়ার থেকে এক মিনিট ওঠার সময় থাকে না অনেকেরই। কর্পোরেট দুনিয়ায় ডেটলাইন শেষ করার যে গিমিক, সেই ইঁদুর দৌড়ে সামিল হয়ে সকলের অবস্থা প্রায় প্রেশার কুকারের মতো।

ফলে মানসিক চাপের মাঝে একটু সুরাহা মিলতেই সুখ টানের নেশায় নেমে পড়েন হর্তাকর্তা থেকে সাধারণ কর্মচারীরা। একটানা বসে থাকার কারণে শরীরে বাসা বাধে নানা কঠিন রোগ। শুধু তাই নয়, ওবেসিটি থেকে হরমোন জনিত রোগ ও মানসিক রোগের শিকার হন প্রতি বছর।

লক্ষ্যপূরণ ও সময়সীমার জালে শরীরের উপর যে হারে চাপ সৃষ্টি হয়, তার ধারণা বহু মানুষের মধ্যেই নেই। এব্যাপারে সচেতন নন অধিকাংশই। প্রাইভেট থেকে সরকারি, সব ক্ষেত্রেই এই লক্ষণ দেখা যায়। চেয়ারে একটানা বসে থাকার ফলে সারাদিনে একমিনিটও ল্যাপটপ বা মনির থেকে চোখ সরাতে পারেন না।

অস্বাস্থ্যকর জীবনযাত্রা ইতিমধ্যেই জীবন গ্রাস করে ফেলেছে। ব্যায়ামের রুটিন মানেন বহু মানুষ। ফলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা এক জায়গায় বসে থাকার ফলে বেড়ে চলেছে হার্ট, কিডনি, ফুসফুস ও স্থূলতাজনিত রোগের মাত্রা বেড়েই চলেছে। শুধু তাই নয়, চোখের স্বাস্থ্য নিয়েও চলে অবহেলা। সার্বিকভাবে স্বাস্থ্যের উপর চলে দেদার অত্যাচার।

ডাক্তার ও বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রচিদিন ৪ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে একজায়গায় বসে থাকলে, কোনও রকম শারীরিক কসরত না হলে ধূমপানের থেকেও মারাত্মক আকার ধারণ করছে আপনার স্বাস্থ্য। স্থূলতাপ কারণে মানুষের শরীরে বাসা বাঁধছে শত শত কঠিন রোগ।

দীর্ঘক্ষণ বসে থাকার ফলে মৃত্যুর ঝুঁকি বাড়ছে ধীরে ধীরে। পাশাপাশি ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, পেটের অ্যাডিপোসিটি (স্থূলতা), উচ্চতর এলডিএল কোলেস্টেরল ও ট্রাইগ্লিসারাইডস, হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক, ক্যান্সার ও অকাল মৃত্যুর ঝুঁকি বাড়ছে। ফলে এখনই ব্যবস্থা না নিলে আপনির জীবনের আয়ু ধীরে ধীরে কমতে শুরু করেছে। এমনটাই মত ডাক্তারদের।

দীর্ঘক্ষণ বসে থাকার খারাপ প্রভাব মোকাবেলা করার জন্য প্রতিদিন ৬০-৭৫মিনিট মাঝারি থেকে তীব্র শারীরিক কসরত (যেমন দ্রুত হাঁটা, দৌড়ানো বা সাইকেল চালানো) করা প্রয়োজন। এছাড়া অফিসে থাকাকালীন, প্রতি ৩০-৪৫ মিনিটের বসার পরে ৫ মিনিটের দাঁড়ানো বা হাঁটার বিরতি নেওয়ার পরামর্শ দেন চিকিত্সকরা।

এছাড়া অতি ব্যস্ততার মধ্যেও শরীরকে ফিট রাখতে দাঁড়িয়ে ডেস্কে কাজ করতে পারেন, দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় মিটিং করুন, কফি বিরতি করুন, বিরতি নিয়ে অল্প হাঁটাচলা করতে পারেন। যেমন টিভি, মোবাইল ফোন, অন্যান্য ইলেকট্রনিক গ্যাজেট দেখার সময়, এবং প্রতিদিন ৪৫-৬০ মিনিট হাঁটার জন্য একটি রুটিন ঠিক করুন।