
সকালের এক কাপ চা কিংবা শিশুর পুষ্টির গ্লাস, রোজকার ডায়েটে দুধ ছাড়া আমাদের চলেই না। তবে পাতলা ভাব ঢাকতে কিংবা ঘন দেখাতে দুধে মারাত্মক ডিটারজেন্ট মেশানোর মতো বিপজ্জনক ভেজাল ক্রমশ বাড়ছে। অজান্তেই বিষাক্ত রাসায়নিক পেটে ঢুকে শরীরের বড় ক্ষতি করছে কি না, তা নিয়ে অনেকেই চিন্তিত থাকেন। Free Pik
এই বিপদ থেকে সাধারণ মানুষকে বাঁচাতে সহজ সমাধান সামনে এনেছে ফুড সেফটি অ্যান্ড স্ট্যান্ডার্ডস অথরিটি অব ইন্ডিয়া (FSSAI)। কোনও জটিল ল্যাব টেস্ট নয়, ঘরে বসেই মাত্র কয়েক সেকেন্ডে খাঁটি দুধ চেনার এক বৈজ্ঞানিক উপায় দেখিয়েছে এই খাদ্য সুরক্ষা সংস্থা। রান্নাঘরে থাকা সামান্য কিছু জিনিস দিয়েই এই পরীক্ষা নিখুঁতভাবে করা সম্ভব। Getty Images
পরীক্ষাটি করতে প্রথমে একটি পরিষ্কার ও স্বচ্ছ কাচের গ্লাসে বা টেস্ট টিউবে মাত্র ৫ থেকে ১০ মিলিলিটার দুধের নমুনা নিন। এরপর গ্লাসের মুখ হাত দিয়ে ভালো করে চেপে ধরে দুধের নমুনাটি বেশ জোরে ঝাঁকাতে থাকুন। ঝাঁকানোর ঠিক পর মুহূর্তেই তরলের উপরিভাগে কী ঘটছে, তা অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে লক্ষ্য করুন। Free Pik
দুধটি ঝাঁকানোর পর যদি দেখেন খুব দ্রুত ফেনা মিলিয়ে যাচ্ছে বা একেবারেই কোনও বুদ্বুদ জমছে না, তবে বুঝবেন দুধটি সম্পূর্ণ খাঁটি। খাঁটি দুধের স্বাভাবিক ঘনত্বের কারণে ঝাঁকালে ভেতরে যাওয়া বাতাসের পকেট স্থায়ী হতে পারে না। ফলে ওপরের ফেনা মুহূর্তের মধ্যে মিলিয়ে গিয়ে স্বাভাবিক রূপ ফিরে পায়। Free Pik
অন্যদিকে ঝাঁকানোর পর যদি তরলের ওপর ঘন ও দীর্ঘস্থায়ী ফেনা বা বুদ্বুদের স্তর জমে থাকে, তবে বুঝতে হবে এতে ডিটারজেন্ট রয়েছে। ডিটারজেন্ট বা সাবানের রাসায়নিক দুধের সারফেস টেনশন নাটকীয়ভাবে কমিয়ে দেয়। এর ফলে বাতাস তরলের ভেতর আটকে যায় এবং সাবানের মতো ঘন ফেনা দীর্ঘ সময় নষ্ট না হয়ে টিকে থাকে। Getty Images
ডিটারজেন্ট মেশানো দুধ নিয়মিত শরীরে গেলে পেটের মারাত্মক সংক্রমণ, লিভার ও কিডনির বড় ধরনের ক্ষতি হতে পারে। রাসায়নিকের উপস্থিতি দুধের স্বাভাবিক প্রোটিন নষ্ট করে দেয় এবং শরীরে বিষক্রিয়া তৈরি করে। তাই বাজার থেকে দুধ কেনার পর সামান্যতম সন্দেহ হলেও সঙ্গে সঙ্গে এই সহজ পরীক্ষাটি করে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ। Getty Images
ভেজাল এড়াতে খোলা দুধের বদলে সবসময় নামী ও বিশ্বাসযোগ্য ব্র্যান্ডের সিলপ্যাক প্যাকেট কেনাই সবচেয়ে নিরাপদ পদক্ষেপ। প্যাকেট কেনার আগে অবশ্যই সবুজ রঙের FSSAI লোগো এবং বৈধ ১৪ অঙ্কের লাইসেন্স নম্বর যাচাই করে নিন। প্যাকেটের গায়ে উৎপাদন তারিখ, মেয়াদের সময় ও উপাদানের তালিকা স্পষ্ট লেখা আছে কি না দেখে তবেই কিনুন। Getty Images
দুধের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে সাধারণ প্লাস্টিক প্যাকেটের চেয়ে টেট্রা প্যাক কার্টনকে অগ্রাধিকার দেওয়া অনেক বেশি স্বাস্থ্যকর। প্লাস্টিকের পাউচ বাইরে চলাচলের সময় অতিরিক্ত গরমে সহজেই নষ্ট হয় এবং জীবাণুর সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। বায়ুরোধী টেট্রা প্যাক দুধের প্রাকৃতিক গুণ বজায় রেখে দীর্ঘ সময় পর্যন্ত রাসায়নিক বিক্রিয়া ও পচন আটকে রাখে। Getty Images