
জুতো এবং মোজার দুর্গন্ধ (Shoe And Sock Odor) অনেকের কাছেই একটা চরম অস্বস্তির কারণ। সারাদিন অফিস বা বাইরে কাটিয়ে বাড়িতে ঢুকলেন। জুতো খুলতেই এমন একটা গন্ধ বেরল যে, ঘরে টেকা দায়! ভাবুন তো, বন্ধু বা আত্মীয়ের বাড়িতে গিয়ে জুতো খুলতে গিয়ে যদি এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়, তবে কতটা লজ্জায় পড়তে হয়!
গরম বা বর্ষাকালে বাতাসে আর্দ্রতা বেশি থাকে। তাই এই সময়ে ঘামও বেশি হয়। আর ঘাম জমে পায়ে ব্যাকটেরিয়া জন্মায়। সেখান থেকেই এই বিকট গন্ধ ছড়ায়। কখনও কখনও রোজ ভালো করে সাবান দিয়ে মোজা কাচলেও এই নাছোড়বান্দা গন্ধ যেতে চায় না। তখন মনে হয়, দামি পারফিউম বা ডিওডোরেন্ট ব্যবহার করা ছাড়া আর কোনও উপায় নেই। কিন্তু ঘরোয়া কিছু সহজ টোটকাতেই এই সমস্যার সমাধান করা সম্ভব। এর জন্য রোজ মোজা কাচারও দরকার পড়বে না।
কী কী করবেন?
ট্যালকম পাউডার
রোজ মোজা পরার আগে পায়ের তলায় ভালো করে ট্যালকম পাউডার লাগিয়ে নিতে পারেন। পাউডার ঘাম শুষে নিতে সাহায্য করে। ফলে পায়ে ঘাম অনেক কম হয়। আর ঘাম কম হলে ব্যাকটেরিয়ার বংশবৃদ্ধিও কমে যায়। এই ছোট্ট একটি কাজ আপনাকে সারাদিন পায়ের দুর্গন্ধ থেকে মুক্তি দিতে পারে।
মুশকিল আসানে ভিনিগার
অনেক সময় বার বার কাচার পরেও মোজার গন্ধ যায় না। এই জেদি গন্ধ তাড়াতে ভিনিগার দারুণ কাজ করে। মোজায় সামান্য ভিনিগার স্প্রে করে কিছুক্ষণ রেখে দিন। তারপর শুকিয়ে নিন। ভিনিগারের জাদুতে দুর্গন্ধ পুরোপুরি দূর হয়ে গিয়েছে দেখবেন। এটি খুব সহজেই মোজার ব্যাকটেরিয়া আর গন্ধ, দুটোই নিমেষে গায়েব করে দেয়।
কড়া রোদ আর খোলা হাওয়া
কাজের চাপে রোজ মোজা কাচার সময় পান না? তাহলে এই সহজ উপায়টি আপনার জন্য। মোজাগুলো খোলা হাওয়ায় এবং কড়া রোদে শুকোতে দিন। রোদ প্রাকৃতিক জীবাণুনাশক হিসেবে কাজ করে। কড়া রোদের তাপে মোজার ভেতরের ব্যাকটেরিয়া মরে যায়। এতে দুর্গন্ধ দূর হয় এবং মোজা একেবারে নতুনের মতো সতেজ হয়ে ওঠে।
সুস্থ পায়ের জন্য আরও কিছু টিপস
এর সঙ্গে আরও কয়েকটি ছোট বিষয় মাথায় রাখা দরকার। যেমন, পায়ে খুব ঘাম হলে সিন্থেটিক মোজা পরা একেবারে এড়িয়ে চলুন। তার বদলে সুতির মোজা পরার অভ্যাস করুন। সুতির মোজা ঘাম ভালো টানে। এছাড়া পায়ের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে মোজা নিয়মিত পরিষ্কার করা দরকার। আর সব থেকে জরুরি কথা হল, একই মোজা মাসের পর মাস পরবেন না। বিশেষজ্ঞরা বলেন, প্রতি তিন থেকে চার মাস অন্তর পুরনো মোজা বদলে ফেলা উচিত।