
গরমের মরসুমে বাঙালির ঘরে ঘরে শসার চাহিদা থাকে তুঙ্গে। সালাড থেকে শুরু করে বিকেলের মুড়ি মাখা, সব কিছুতেই এই হাইড্রেটিং ফলটি অপরিহার্য। তবে বাজার থেকে সাধ করে কিনে আনা শসা যদি মুখে দিয়েই তেঁতো লাগে, তাহলে মনটাই খিটখিটে হয়ে যায়। তাই দোকানে দাঁড়িয়ে না কেটেই কীভাবে বুঝবেন শসাটি মিষ্টি নাকি তেঁতো, তার কিছু অব্যর্থ কৌশল জেনে নিন। Gemini Ai
ভালো এবং মিষ্টি শসা চেনার অন্যতম প্রধান চাবিকাঠি হল এর গায়ের রং এবং খোসা পরীক্ষা করা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সবসময় গাঢ় সবুজ রঙের এবং পাতলা খোসাযুক্ত শসা বেছে নেওয়ার চেষ্টা করবেন। যদি শসার খোসায় কোনও ধরনের হলদে ভাব বা বড় হলুদ দাগ চোখে পড়ে, তবে বুঝবেন সেটি অতিরিক্ত পেকে গিয়েছে এবং এমন শসা তেঁতো হওয়ার আশঙ্কা অনেক বেশি থাকে। Gemini Ai
বাজারে গিয়ে অনেকেই বেছে বেছে খুব বড় কিংবা অতিরিক্ত মোটা শসা ব্যাগে পুরে নেন, যা একেবারেই ভুল পদ্ধতি। শসা কেনার সময় সবসময় মাঝারি আকারের, সোজা এবং একদম সমান গঠনের শসাগুলো খুঁটিয়ে বেছে নেওয়া উচিত। এই ধরনের সুষম আকৃতির মাঝারি শসা সাধারণত প্রাকৃতিকভাবেই মিষ্টি হয় এবং এগুলোর মধ্যে তেঁতো ভাব থাকার সম্ভাবনা প্রায় থাকে না বললেই চলে। Gemini Ai
শসা কতটা সতেজ ও মিষ্টি, তা বুঝতে এর দুই প্রান্ত বা মাথা দুটো হালকা পরীক্ষা করে দেখতে পারেন। শসার দুই দিকে নিজের নখ দিয়ে সামান্য চাপ দিয়ে দেখুন, যদি সেই অংশটি অতিরিক্ত নরম বা পচপচে বলে মনে হয়, তবে বুঝবেন সেটি অনেক পুরনো। টাটকা এবং ভালো মানের শসা সবসময় বেশ শক্ত ও টানটান থাকে, যা সহজে তেঁতো হয় না। Gemini Ai
শসার বোঁটা বা ডাঁটার দিকের অংশটি তেঁতো হওয়ার পেছনে মূল ভূমিকা পালন করে, কারণ কাকারবিটাসিন নামের যৌগটি এখানেই বেশি জমে। শসা কেনার আগে ডাঁটার চারপাশের অংশটি ভালো করে লক্ষ্য করুন, যদি ওই অংশটি বিবর্ণ, হলদে বা ফ্যাকাশে দেখায়, তবে সেই শসা এড়িয়ে চলাই বুদ্ধিমানের কাজ হবে। সতেজ বোঁটাযুক্ত শসার স্বাদ সাধারণত ভালো হয়ে থাকে। Gemini Ai
হাতে নিয়ে ওজন পরীক্ষা করার মাধ্যমেও শসার গুণগত মান এবং সতেজতা খুব সহজেই আন্দাজ করা সম্ভব। একটি ভালো ও রসালো শসা তার নিজস্ব আকৃতির তুলনায় হাতে নিলে বেশ কিছুটা ভারী বা নিরেট মনে হবে। অন্য দিকে, যে সমস্ত শসা ওজনে অত্যন্ত হালকা লাগে, সেগুলো ভিতর থেকে ফাঁপা, শুকনো কিংবা তেঁতো হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল থাকে। Gemini Ai
যদি কোনও কারণে অসাবধানতাবশত তেঁতো শসা বাড়িতে চলেই আসে, তবে তা খাওয়ারও একটি বিশেষ ঘরোয়া উপায় রয়েছে। শসাটি কাটার সময় প্রথমে এর দুই প্রান্ত কিছুটা অংশ কেটে বাদ দিন, তারপর সেই কাটা টুকরোটি দিয়ে শসার বাকি অংশে গোল করে কিছুক্ষণ ঘষতে থাকুন। কিছুক্ষণের মধ্যেই দেখবেন সাদা ফেনার মতো পদার্থ বেরোচ্ছে, যা ধুয়ে ফেললে তেঁতো ভাব অনেকটাই কমে যায়। Gemini Ai
শসার এই তেঁতো ভাব দূর করার পর যদি সামান্য তিঁতকুটে ভাব অবশিষ্ট থাকে, তবে তা সালাডে অন্য উপকরণের সঙ্গে মিশিয়ে ব্যবহার করতে পারেন। লেবুর রস, বিট নুন, চাট মশলা কিংবা টক দইয়ের সঙ্গে মিশিয়ে নিলে শসার অবশিষ্ট তেঁতো স্বাদ আর আলাদা করে বোঝা যায় না। এই সহজ ঘরোয়া টিপসগুলো মাথায় রাখলে বাজারে গিয়ে শসা কিনে ঠকে যাওয়ার ভয় আর থাকবে না। Gemini Ai