
ট্রেনে তো কম-বেশি সবাই চড়েন। দেশের নানা প্রান্তে যাওয়া যায় ট্রেনে চেপে, এতটাই বড় ভারতীয় রেল নেটওয়ার্ক। তবে আপনি কি জানেন, শুধু ফ্লাইট বা বিমান নয়, ট্রেনে চেপেও বিদেশ যাওয়া যায়?

ভারতের বুকেই রয়েছে এমন বেশ কয়েকটি স্টেশন, যেখান থেকে পড়শি দেশে পৌঁছে যাওয়া যায়। সেই দেশের ভিতরেও ট্রেন পৌঁছে যায়। পশ্চিমবঙ্গেই এমন অন্তত তিনটি স্টেশন আছে। কোনগুলি জানেন?

ভারতের জয়নগর রেলওয়ে স্টেশন থেকে নেপালগামী ট্রেন ছাড়ে। এটি বিহারের মধুবনি জেলায় অবস্থিত। একে দেশের শেষ রেলওয়ে স্টেশন হিসেবে গণ্য করা হয়। এখান থেকে নেপালের জনকপুরের জন্য সরাসরি ট্রেন পাওয়া যায়।

নেপাল স্টেশনটি ভারতীয় স্টেশনের পাঁচিলের বাইরে অবস্থিত। নেপালে পৌঁছানোর জন্য একটি ওভারব্রিজ রয়েছে। এই স্টেশনে পৌঁছে, চেক ইনের পর যাত্রীরা সরাসরি নেপালগামী ট্রেনে উঠতে পারেন।

বিহার-নেপাল সীমান্তের কাছে অবস্থিত রক্সৌল জংশনও নেপালগামী যাত্রীদের জন্য একটি প্রধান ট্রানজিট পয়েন্ট হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এটি নেপালের প্রধান প্রবেশদ্বার হিসেবেও পরিচিত। ভারতের বিভিন্ন অংশের সঙ্গে নেপালকে সংযোগকারী ট্রেনগুলো এখান থেকেই ছাড়ে।

পশ্চিমবঙ্গের পেট্রাপোল রেলওয়ে স্টেশন ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে অবস্থিত প্রধান পরিবহন কেন্দ্র। ব্রিটিশ আমলে নির্মিত এই স্টেশনটি একটি ব্রডগেজ লাইনের মাধ্যমে বাংলাদেশের খুলনার সঙ্গে সংযুক্ত। এখান থেকে বন্ধন এক্সপ্রেস চলাচল করত। তবে এই ট্রেনে চেপে বাংলাদেশ ভ্রমণের জন্য পাসপোর্ট এবং ভিসার প্রয়োজন হয়।

পশ্চিমবঙ্গের উত্তর দিনাজপুর জেলায় অবস্থিত রাধিকাপুর রেলওয়ে স্টেশনটিও ভারত-বাংলাদেশ রেল পরিবহনের একটি কেন্দ্রস্থল। দুই দেশের মধ্যে মালবাহী ও যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচল করে। এটি একটি সীমান্ত চৌকি হিসেবেও কাজ করে।

হলদিবাড়ি রেলওয়ে স্টেশন বাংলাদেশ সীমান্ত থেকে মাত্র ৪ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। চিলাহাটি স্টেশনের মাধ্যমে দুই দেশ সংযুক্ত। ভারত থেকে ঢাকাগামী ট্রেন এই পথেই আসে এবং মানুষ ব্যবসা-বাণিজ্য ও যাতায়াতের জন্য এটি ব্যবহার করে।

আটারি হল ভারত-পাকিস্তান রেল নেটওয়ার্কের বৃহত্তম এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ স্টেশন। আগে এই রুট দিয়ে ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে সমঝোতা এক্সপ্রেস চলাচল করত, যা ভারতের আটারি থেকে পাকিস্তানের লাহোর পর্যন্ত যেত।

এই স্টেশনটি ভারত-পাকিস্তান সীমান্তের খুব কাছে অবস্থিত এবং এটিকে পাকিস্তানে প্রবেশের প্রধান প্রবেশদ্বার হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তবে এখন আর এই স্টেশন দিয়ে ট্রেন চলে না।