
বাঙালি হেঁশেলে ডাল বা অন্য কোনও কিছু সেদ্ধ করার জন্য প্রেসার কুকারের জুড়ি মেলা ভার, কিন্তু সিটি পড়ার সঙ্গে সঙ্গেই চারপাশ দিয়ে জল গলগলিয়ে বেরিয়ে আসার সমস্যায় পড়তে হয় কমবেশি সকলকেই। ডালের স্টার্চ ও প্রোটিন গরম জলের সঙ্গে মিশে যে ফেনা তৈরি করে, তা কুকারের ভেতরের বাষ্পের চাপে দ্রুত ওপরের দিকে উঠে এসে হুইসেলের মুখ দিয়ে বাইরে ছিটকে পড়ে। এর ফলে একদিকে যেমন সাধের রান্নাঘর নোংরা হয়ে একশা হয়, তেমনই গ্যাসের বার্নারের ভেতরেও আঠালো জল ঢুকে গিয়ে এক মারাত্মক ঝামেলার সৃষ্টি করে। Gemini Ai

এই বিরক্তিকর সমস্যার এক দারুণ ও ম্য়াজিকাল সমাধান লুকিয়ে রয়েছে একটি অতি সাধারণ পাত্রের ব্যবহারে, যা নিমেষের মধ্যে এই সমস্যার অবসান ঘটায়। প্রেসার কুকারে ডাল সেদ্ধ করার সময় ভেতরের ডাল ও জলের ফেনা যখন দ্রুত ওপরের দিকে উঠতে শুরু করে, তাই সেখানে একটি ছোট্ট স্টিলের বাটি বসিয়ে দিলে মুশকিল আসান হয়। এই বাটিটি মূলত একটি স্পেস ডিভাইডার হিসেবে কাজ করে এবং বুদবুদগুলোকে মাঝপথেই ভেঙে দিয়ে ফেনার উচ্চতা এক ধাক্কায় অনেকটা কমিয়ে দেয়, ফলে খাবার আর ভেন্ট পাইপ দিয়ে বাইরে বেরোতে পারে না। Gemini Ai

এই বাটি ফর্মুলার পাশাপাশি রান্না করার সময় আরও একটি অত্যন্ত সহজ অথচ দারুণ কার্যকরী ঘরোয়া কৌশল অনায়াসে কাজে লাগাতে পারেন। ডাল বা রাজমা সেদ্ধ করার সময় কুকারের জলের মধ্যে মাত্র এক চামচ তেল কিংবা খাঁটি ঘি মিশিয়ে দিন। তেল বা ঘিয়ের উপস্থিতি ডালের স্টার্চ ও প্রোটিনের রাসায়নিক বিক্রিয়ায় তৈরি হওয়া ফেনাকে নিমেষের মধ্যে ভেঙে দেয় এবং বড় বুদবুদ তৈরি হতে বাধা দেয়। Gemini Ai

যেকোনও ডাল রান্না করার অন্তত আধ ঘণ্টা আগে যদি ভালো করে ধুয়ে পরিষ্কার জলে ভিজিয়ে রাখা যায়, তবে রান্নার সময় ফেনা হওয়ার প্রবণতা অনেকটাই কমে যায়। জল শোষণ করার কারণে ডালগুলো আগে থেকেই নরম হয়ে থাকে, যার ফলে ওভেনে বসানোর পর এগুলো খুব দ্রুত এবং অত্যন্ত সহজে সেদ্ধ হয়ে যায়। এর ফলে কুকারের ভেতরে অতিরিক্ত বাষ্পের চাপ তৈরি হতে পারে না এবং স্টার্চের ফেনা উথলে ওঠার সুযোগই পায় না। Gemini Ai

অনেকেরই অভ্যাস থাকে কুকার একেবারে ওপর পর্যন্ত কানায় কানায় ভর্তি করে জল দেওয়ার, যা এই জল ছিটকে বাইরে আসার অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে গণ্য করা হয়। কুকারের ভেতরে থাকা ডাল বা সবজির পরিমাণের ওপর ভিত্তি করেই সবসময় সঠিক মাপে জল মেপে দেওয়া উচিত। রান্নার সুবিধার্থে এবং বাষ্পের সঠিক চলাচলের জন্য খেয়াল রাখতে হবে যেন জলসহ সমস্ত উপাদান মিলে কুকারের মোট আয়তনের অর্ধেকের বেশি অংশ কখনওই ভর্তি না হয়ে যায়। Meta Ai

রান্না চাপানোর পর প্রথম সিটিটি পড়ার সঙ্গে সঙ্গেই গ্যাসের আঁচ সম্পূর্ণ কমিয়ে দেওয়া অত্যন্ত জরুরি একটি ধাপ, যা অনেকেই অবহেলা করে যান। একটানা হাই ফ্লেমে বা বেশি আঁচে রান্না করতে থাকলে কুকারের ভেতরের চাপ ও ফেনা দুটোই মারাত্মকভাবে বেড়ে যায় এবং জল বাইরে ছিটকে আসে। এর পাশাপাশি প্রেসার কুকারের ভেতরের বাষ্প যেন সঠিক নিয়মে বেরোতে পারে, তার জন্য এর হুইসেল এবং প্রেশার ভালভ নিয়মিত পরিষ্কার রাখা আবশ্যক। Meta Ai

রান্না বসানোর আগে একটি সাধারণ টিস্যু পেপার সামান্য জল দিয়ে ভিজিয়ে নিয়ে সেটিকে কুকারের হুইসেলের চারপাশের গোল অংশে ভালো করে জড়িয়ে রাখুন। এর ফলে সিটি পড়ার সময় যদি সামান্য ডাল-জল বাইরে বেরিয়েও আসে, তবে সেই ভিজে টিস্যু পেপার পুরো জলটা শুষে নেবে এবং কুকারের গা বা রান্নাঘর নোংরা হবে না। Meta Ai

তাহলে আর দেরি না করে আজ থেকেই রান্নাঘরে এই ছোটখাটো অথচ ভীষণ স্মার্ট ও বৈজ্ঞানিক কৌশলগুলো পরীক্ষা করে দেখে নিন। বাটি থিয়োরি হোক বা এক চামচ তেলের ম্যাজিক, এই টোটকাগুলো মেনে চললে রান্নার সময় মূল্যবান সময় যেমন বাঁচবে, তেমনই খাটনিও কমবে। প্রতিদিনের রান্নাবান্নাকে ঝঞ্ঝাটহীন ও আনন্দদায়ক করে তুলতে এবং আপনার সাধের মডিউলার কিচেনকে একদম দাগহীন ও ঝকঝকে রাখতে এই টিপস বেশ কাজের। Meta Ai