Kim Jong Un: ভারতের বন্দে ভারত, জাপানের বুলেটের থেকে কতটা আলাদা কিমের এই ট্রেন?

Kim Jong Un: নিরাপত্তা থেকে বিলাসিতা সব দিক থেকেই এই ট্রেন বিশেষ। প্রতিটি কোচ বুলেটপ্রুফ, এবং সবচেয়ে আশ্চর্যেয় বিষয় হল এই ট্রেন ছোটে মাত্র ৫৯ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টা বেগে। আর কী রয়েছে সেই ট্রেনে?

Jan 07, 2025 | 4:26 PM

1 / 9
তাঁর ভয়ে কাঁপে গোটা বিশ্ব। কিম জং উন, উত্তর কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট এবং সর্বময় কর্তা। তাঁকে নিয়ে রহস্যের শেষ নেই। সারা বিশ্বের সঙ্গেও সম্পর্ক খুব একটা ভাল এমনটা নয়। কেবল রাশিয়া এবং চিনের সঙ্গে গাঢ় সম্পর্ক। এ হেন কিম জং উন যে বাহনে চেপে সফর করবেন তাও যে অত্যাধুনিক এবং অনন্য হবে এটাই স্বাভাবিক।

তাঁর ভয়ে কাঁপে গোটা বিশ্ব। কিম জং উন, উত্তর কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট এবং সর্বময় কর্তা। তাঁকে নিয়ে রহস্যের শেষ নেই। সারা বিশ্বের সঙ্গেও সম্পর্ক খুব একটা ভাল এমনটা নয়। কেবল রাশিয়া এবং চিনের সঙ্গে গাঢ় সম্পর্ক। এ হেন কিম জং উন যে বাহনে চেপে সফর করবেন তাও যে অত্যাধুনিক এবং অনন্য হবে এটাই স্বাভাবিক।

2 / 9

নিরাপত্তার কারণেই এমনিতে খুব একটা সফর করেন না তিনি। তবু যখন সফর করেন তখন প্লেনে চড়তে পছন্দ করেন না। বদলে নিজের বিশেষ ট্রেনে চেপেই যাতায়াত বেশি পছন্দের তাঁর। তাঁর এই ট্রেনটিও রহস্যে ভরা। নিরাপত্তা থেকে বিলাসিতা সব দিক থেকেই এই ট্রেন বিশেষ। প্রতিটি কোচ বুলেটপ্রুফ, এবং সবচেয়ে আশ্চর্যেয় বিষয় হল এই ট্রেন ছোটে মাত্র ৫৯ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টা বেগে। আর কী রয়েছে সেই ট্রেনে?

3 / 9

কিম জং উন তাঁর বাবা কিম জং ইলের কাছ থেকে উত্তরাধিকার সূত্রে এই বিলাসবহুল ট্রেন পেয়েছেন। ট্রেনের নিরাপত্তায় দায়িত্বে রয়েছে সশস্ত্র, উচ্চ প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত স্পেশাল ফোর্স। আসলে উত্তর কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট বিমান ভ্রমণকে ভয় পায় বলেও মনে করেন অনেকে।

4 / 9

মনে করা হয় তাঁর বাবা এবং দাদাও বিমানে চড়তে ভয় পেতেন। কিমের আগেও, এই দুই কোরিয়ার নেতা বেশি ভ্রমণ এড়িয়ে চলতেন। খুব প্রয়োজন না হলে দেশের বাইরেও যেতেন না। বিদেশ সফরের সময় যথাসম্ভব নিজের ট্রেনে যাতায়াত করতেই পছন্দ করতেন তাঁরা। বাবা কিম জং ইল এবং দাদা কিম ইল সাং এই ট্রেনে চড়েই চিন এবং রাশিয়া সফরে যেতেন।

5 / 9

পঞ্চাশের দশকে শুরুতে সোভিয়েত নেতা জোসেফ স্ট্যালিন কিম জং উনের ঠাকুরদা কিম সাংকে একটি ট্রেন উপহার দিয়েছিলেন। পরবর্তীতে, ১০৫০ সালে কোরিয়ান যুদ্ধের সময়, সুং এই ট্রেনটিকে তাঁর সদর দফতর হিসাবে ব্যবহার করেছিন। এখান থেকে দক্ষিণ কোরিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধের কৌশল তৈরি করেন। অপূর্ব সুন্দর কাঠের অন্দরসজ্জার সঙ্গে এই ট্রেন শীঘ্রই কিম পরিবারের রাজকীয় ট্রেন হয়ে ওঠে।

6 / 9

তিন প্রজন্ম ধরে চলা এই ট্রেনটি প্রায় ২৫০ মিটার দীর্ঘ। সবকটি কোচ বুলেটপ্রুফ। এমনকি বিস্ফোরণেও কোনও ক্ষতি হয় না। ট্রেনটিতে আছে আধুনিক রাডার, যে ট্র্যাকে ট্রেনটি যাত্রা করবে তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য উন্নত ব্যবস্থা। ট্রেনের মেঝে এবং দেওয়ালে বিস্ফোরণ থেকে বাঁচার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা রয়েছে।

7 / 9

২০০৪ সালে, উত্তর কোরিয়ার ইয়ংচনে রেললাইনে ল্যান্ডমাইন বিস্ফোরণে ১৫০ জনেরও বেশি মানুষ মারা যায়। বিস্ফোরণের আগে ট্রেনটি ওই লাইন দিয়ে গিয়েছিল, তারপরে ট্রেনের নিরাপত্তা আরও আঁটসাঁট করা হয়। দেশের অভ্যন্তরে যেখানেই এই ট্রেন যায়, তার প্রায় এক দিন আগে লাইন চেক শুরু হয়, সেই রুটটি অবরুদ্ধ করে দেওয়া হয়। বর্তমানে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এই ট্রেন ছাড়ার আগে একই ট্র্যাকে আরেকটি প্রাইভেট ট্রেন ছাড়া হয়। পিছনে থাকে কিমের রাজকীয় ট্রেন, পরে অন্য একটি ট্রেন। এই সব ট্রেনে অতিরিক্ত নিরাপত্তার ব্যবস্থা থাকে। এই ট্রেনগুলিও সম্পূর্ণ বুলেটপ্রুফ। এমনকি কিম জনের সম্পূর্ণ গাড়িও ঢুকে যায় ওই ট্রেনে।

8 / 9

কিম জং উন নিজের বিলাসবহুল জীবন যাত্রাড় জন্যও পরিচিত। এই ট্রেনে ২২টি কোচ রয়েছে। প্রতিটি কোচে বড় বড় বাথরুম এমনকি ডাইনিং স্পেস রয়েছে। এই সাধারণত কিমের পরিবারের সদস্য বা কিম নিজে সফর করেন। সঙ্গে থাকে পলিটব্যুরোর কর্মকর্তা এবং সামরিক বাহিনীর দল। এই ট্রেনে রয়েছে অতিথিদের জন্য রান্না করার বন্দোবস্ত। বিশ্বের নানা প্রান্তের থেকে সুযোগ্য শেফেরা রান্না করেন এই ট্রেনে।

9 / 9

শোনা যায় কেবল নিরাপত্তাই নয়, বিনোদনের ব্যবস্থা রয়েছে। দীর্ঘ যাত্রার সময় কিমের যাতে একঘেয়েমি না লাগে তাই মনোরঞ্জনের নৃত্যশিল্পীদের একটি দল সহ অনান্য বিনোদনের ব্যবস্থা রয়েছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে এঁদের লেডি কন্ডাক্টর বলেও উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়াও ট্রেনে আরও অনেক বিলাসবহুল বন্দোবস্ত আছে। মোটমাট বিশেষ এই ট্রেনকে চলমান রাজপ্রাসাদ বললেও ভুল বলা হবে না।

Loading...
Unable to load recommendations.
Follow Us