
এবারের 'একুশ' ছন্নছাড়া! ব্যতিক্রমও বটে। কারণ এবারের একুশে তৃণমূল বিঁধল তৃণমূলকেই। এতদিন তৃণমূলের একুশের মঞ্চ থেকে নির্ধারিত হত প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে লড়বার স্ট্র্যাটেজি। আর এবার বিড়লা তারামণ্ডলের সামনে মমতা শিবির বনাম গান্ধী মূর্তির পাদদেশে ঋতব্রত শিবিরের বক্তব্যে শান দিয়েছে 'আসল তৃণমূল' প্রমাণের চেষ্টাই।

বক্তব্যের শুরু থেকেই ঋতব্রত চেষ্টা করেছেন, কীভাবে এই শিবিরকেই 'আসল তৃণমূল' প্রমাণ করা যায়। বললেন, "মুখ্য নির্বাচন কমিশনার, কমিশনের ফুল বেঞ্চের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছি। কেন আমরা আসল তৃণমূল, তা যথাযথ প্রমাণ দিয়েছি। আমরা কমিশনের ওপর ভরসা রাখি। আমরা আশাবাদী তৃণমূল কংগ্রেসের নাম-প্রতীক-তৃণমূলের যা কিছু আছে, তা অরূপ রায়ে নেতৃত্বে তৃণমূল কংগ্রেস পাবে।" পাশাপাশি ঘোষণা করলেন একুশের জুলাইয়ের শহিদ পরিবারদের আর্থিক সাহায্যের কথাও। বললেন, "কমিশন যদি আমাদের সপক্ষে সিদ্ধান্ত দেয়, প্রথম কাজ পার্টির বিপুল টাকা, অঙ্ক কষে দেখেছি এটা সম্ভব, প্রতিটা একুশে জুলাইয়ের শহিদ পরিবারের অ্যাকাউন্টে প্রতি মাসে অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেসের অ্যাকাউন্ট থেকে ১০ হাজার টাকা করে পৌঁছে যাবে।"

সরাসরি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে আক্রমণ শানালেন তিনি। বেঁধে দিলেন ডেডলাইনও। মদন বললেন, "অভিষেক এটা ঠিক, ডায়মন্ড হারবারে চমকেছিস, এটা ঠিক হিংসাতে স্বাস্থ্য সাথীকে রুখতে সেবাশ্রয় করেছিস, এটা জেনে রাখ, তোর চমকানিতে সিপিএম চমকাতে পারে, তোর চমকানিতে দুটো তৃণমূলের ভাল কর্মী গ্রামে চমকাতে পারে। আজকের সভাকে চমকানোর ক্ষমতা তোর নেই। অভিষেক এক ঘণ্টা সময় দিয়েছে, আমি ২ ঘণ্টা সময় দিয়ে গেলাম। ২ ঘণ্টার মধ্যে তুই এই জনসভায় এসে বল, আমি আমার অন্যায় স্বীকার করছি। আমার ভুল স্বীকার করছি। আমার জন্য গোটা পার্টিটা শেষ হয়ে গিয়েছে।" সরাসরি মমতাকে চ্যালেঞ্জ, "আমি অন্য কাউকে নয়, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বলছি, অভিষেক ১ ঘণ্টা সময় দিয়েছে, আপনাকে আমরা ১ মাস সময় দিচ্ছি। আপনি অভিষেকের হাত ছেড়ে দিয়ে, তৃণমূলের ছেলেদের হাত ধরুন। আপনার দলটা তৃণমূলের পার্টি।"

দীর্ঘদিন পর স্বমহিমায় অনুব্রত। তিনি বলেন, "তৃণমূল ভয় পায় না। যারা চুড়ুম বুড়ুম করছেন, করবেন না। দলটার নাম তৃণমূল। মানুষের পাশে থাকে। খেটে খাওয়া মানুষের পাশে থাকে। এর পরের বার দেখবেন তৃণমূল বিরাট একটা আকার নেবে।"

নাম করে বিঁধলেন না। বললেন "যাঁরা লিফটে উঠে রাজনীতি করছেন, তাঁরা শেষ কথা বলবেন না। যাঁরা প্যারাসুট থেকে নেমে রাজনীতি করছেন, তাঁরা শেষ কথা বলবেন না। শেষ কথা বলবে, রক্ত ঝরিয়ে প্রাণ ঝরিয়ে আন্দোলন করেছেন, করবেন, তাঁরাই শেষ কথা বলবেন। আমি ধন্যবাদ জানাই এখনকার মুখ্যমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানাই। একুশে জুলাইয়ের ফাইল, কমিশনের রিপোর্ট আজকে উদ্ঘাটিত হয়েছে। সেদিন যাঁরা গুলিবিদ্ধ হয়েছেন, তাঁদের পরিবার বিচার পাবেন। পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণও পাবেন।"