
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যে দফতরগুলো নিজের হাতে রেখেছিলেন, স্বরাষ্ট্র ও পার্বত্য বিষয়ক দফতর, ভূমি ও ভূমি সংস্কার দফতর, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ দফতর, তথ্য ও সংস্কৃতি দফতর, কর্মীবর্গ ও প্রশাসনিক সংস্কার দফতর, উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দফতর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্বরাষ্ট্র ও পার্বত্য বিষয়ক দফতর, ভূমি ও ভূমি সংস্কার দফতর, ত্রাণ এবং পুনর্বাসন, বিদ্যুৎ, তথ্য সংস্কৃতি, কর্মীবর্গ ও প্রশাসনিক সংস্কার দফতর।

অর্থ: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ক্যাবিনেটে দীর্ঘ সময় পূর্ণাঙ্গ অর্থমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন অর্থনীতিবিদ ড. অমিত মিত্র। ২০১১ সালে প্রথমবার তৃণমূল সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত তিনি এই পদে ছিলেন। এরপর থেকে অর্থমন্ত্রকের পূর্ণ দায়িত্ব মূলত মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিজের হাতেই রয়েছে এবং স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত রাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে ড. চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য তাঁকে সহায়তা করেছেন। অর্থমন্ত্রী করা হয়েছে স্বপন দাশগুপ্তকে। সূত্রের খবর, প্রথম থেকেই স্বপনকে অর্থমন্ত্রী হিসেবেই বেশি পছন্দ বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের। শপথের অনেক আগে শিক্ষা বিভাগের কর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন তিনি। তখন অবশ্য অন্য জল্পনা দানা বেঁধেছিল।

শিল্প: মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী-র নেতৃত্বাধীন পশ্চিমবঙ্গ সরকারের নতুন মন্ত্রিসভায় শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রকের পূর্ণাঙ্গ দায়িত্ব পেয়েছেন বর্ষীয়ান নেতা তাপস রায়। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শেষ মন্ত্রিসভায় (তৃতীয় তৃণমূল সরকার) শিল্প, বাণিজ্য ও শিল্প পুনর্গঠন দফতরের দায়িত্বে ছিলেন ডাঃ শশী পাঁজা।

শিক্ষা: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃতীয় মন্ত্রিসভায় ব্রাত্য বসু: ২০১১ সালে গঠিত প্রথম মন্ত্রিসভায় তিনি প্রথম শিক্ষামন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৬ সালে গঠিত দ্বিতীয় মন্ত্রিসভায় তিনি স্কুল শিক্ষা ও উচ্চ শিক্ষা উভয় বিভাগেরই পূর্ণমন্ত্রী ছিলেন পার্থ চট্টোপাধ্যায়। ২০২১-২০২৬ পূর্ণাঙ্গ শিক্ষামন্ত্রী ছিলেন ব্রাত্য বসু। শুভেন্দু অধিকারীর ক্যাবিনেটে স্কুলশিক্ষামন্ত্রীর দায়িত্বে উত্তরবঙ্গের বিজেপি নেতা তথা রাজ্য বিজেপির প্রাক্তন সাধারণ সম্পাদক দীপক বর্মণ। উচ্চশিক্ষা দফতর জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়ের হাতে। সঙ্গে প্রযুক্তিগত শিক্ষা-স্কিল ডেভেলপমেন্ট।

পর্যটন: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ক্যাবিনেটে এই দায়িত্বে ছিলেন বাবুল সুপ্রিয় এবং ইন্দ্রনীল সেন। শুভেন্দু অধিকারীর ক্যাবিনেটে শঙ্কর ঘোষের হাতে রয়েছে পর্যটন দফতর। পাশাপাশি বিধানসভা বিধায়ক মন্ত্রীও তিনি।

স্বাস্থ্য: পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেই তাঁর ক্যাবিনেটে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রকের দায়িত্ব পালন করেছেন। তাঁকে এই কাজে সহায়তা করার জন্য প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। শুভেন্দু অধিকারীর ক্যাবিনেটে স্বাস্থ্যমন্ত্রী হয়েছেন চিকিৎসক শারদ্বত মুখোপাধ্যায়। তাঁর হাতে রয়েছে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ দফতর।

তথ্য ও প্রযুক্তি: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ক্যাবিনেটে তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রী ছিলেন বাবুল সুপ্রিয়। তিনি ২০২২ সালের অগাস্ট মাসে তথ্য প্রযুক্তি ও ইলেকট্রনিক্স দফতরের পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। পরবর্তীতে ২০২৬ সালের রাজ্যসভা নির্বাচনে তিনি সাংসদ নির্বাচিত হলে এই দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি নেন। এর আগে ২০২১ সালের মে মাস থেকে ২০২২ সালের জুলাই মাস পর্যন্ত এই দায়িত্বে ছিলেন পার্থ চট্টোপাধ্যায়। তারও আগে, ২০১১ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রথম ও দ্বিতীয় মন্ত্রিসভায় এই দফতরের পূর্ণমন্ত্রী ছিলেন যথাক্রমে পরেশ অধিকারী ও পার্থ চট্টোপাধ্যায়। শুভেন্দু অধিকারীর ক্যাবিনেটে এই দফতরের দায়িত্ব কল্যাণ চক্রবর্তীর হাতে। পাশাপাশি খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ ও উদ্যানবিদ্যা; বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, জৈবপ্রযুক্তি দফতরও তাঁর হাতে রয়েছে।

উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ক্যাবিনেটে (তৃতীয় মন্ত্রিসভা) উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী ছিলেন উদয়ন গুহ। তিনি ২০২২ সালের অগাস্ট মাস থেকে ২০২৬ সালের মে মাসে বর্তমান সরকার পরিবর্তনের পূর্ব পর্যন্ত এই দায়িত্ব পালন করেন। ২০১১ সালে এই দফতরটি গঠিত হওয়ার পর থেকে বিভিন্ন সময়ে এর দায়িত্বে ছিলে। গৌতম দেব (২০১১–২০১৬)রবীন্দ্রনাথ ঘোষ (২০১৬–২০২১)মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (২০২১ থেকে ২০২২ সালের অগাস্ট পর্যন্ত দফতরটি নিজের হাতেই রেখেছিলেন)। এখন উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিক।

নারী ও শিশু কল্যাণ: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ক্যাবিনেটে নারী ও শিশু বিকাশ এবং সমাজকল্যাণ দপ্তরের পূর্ণমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন ডঃ শশী পাঁজা। এছাড়া, ২০২১ সালে গঠিত মন্ত্রিসভায় স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রী হিসেবে এই বিভাগে মালতী রাভা রায়-ও দায়িত্ব পালন করেছিলেন। সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও নতুন মন্ত্রিসভায় পশ্চিমঙ্গের নারী ও শিশু কল্যাণ মন্ত্রী হিসেবে নিযুক্ত হয়েছেন মালতি রাভা রায়।

ক্রীড়া মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শেষ মন্ত্রিসভায় (২০২১-২০২৫) যুব কল্যাণ ও ক্রীড়া মন্ত্রী ছিলেন অরূপ বিশ্বাস। ২০২৬ সালের মে মাসে রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর বর্তমানে বিজেপির নিশীথ প্রামাণিক পশ্চিমবঙ্গের যুব কল্যাণ ও ক্রীড়া দপ্তরের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

সেচ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শেষ মন্ত্রিসভায় (তৃতীয় টার্মে) সেচ ও জলপথ দফতরের পূর্ণমন্ত্রী ছিলেন মানস ভুঁইঞা। শুভেন্দু অধিকারীর মন্ত্রিসভায় সেচ ও জলপথ দফতরের পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রী হলেন অরূপ কুমার দাস।

কৃষি পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শেষ মন্ত্রিসভায় কৃষিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন প্রবীণ নেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। বর্তমানে কৃষিমন্ত্রী দুধকুমার মণ্ডল।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্ত্রিসভায় শ্রমমন্ত্রী হিসেবে দীর্ঘ সময় দায়িত্ব পালন করেছেন মলয় ঘটক। শুভেন্দু অধিকারীর ক্যাবিনেটে শ্রম মন্ত্রী অর্জুন সিং।

০১১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রথম মন্ত্রিসভায় পূর্ত (PWD) মন্ত্রী ছিলেন সুব্রত বক্সী। পরবর্তী সময়ে ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর গঠিত তৃতীয় মন্ত্রিসভায় এই দায়িত্ব পালন করেন মলয় ঘটক। শুভেন্দু অধিকারীর ক্যাবিনেটে পূর্তমন্ত্রী হলেন অজয় কুমার পোদ্দার।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ক্যাবিনেটে পরিবহন মন্ত্রী ছিলেন স্নেহাশিস চক্রবর্তী। তার আগে ফিরহাদ হাকিম, শুভেন্দু অধিকারী, মদন মিত্র এই দায়িত্ব সামলেছেন। ২০২৬ সালে বর্তমান মন্ত্রিসভায় শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পরিবহন বিভাগের পূর্ণাঙ্গ দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী হলেন অর্জুন সিং

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শেষ বা তৃতীয় মন্ত্রিসভায় (২০২১-২০২৬) পূর্ণাঙ্গ পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী ছিলেন ফিরহাদ হাকিম। শুভেন্দু-ক্যাবিনেটে পুর ও নগরোন্নয়ন অগ্নিমিত্রা পাল।