
গরমের দিনে ঠান্ডা শরবতে চুমুক দিতে গিয়ে হঠাৎ একটা লেবুর দানা পেটে চলে গিয়েছে, এমনটা অনেকের সঙ্গেই ঘটে। অনেকে তো আবার ভাবেন পেটে গাছ গজাবে, তবে এই ভয়টা একেবারেই ভিত্তিহীন। দানাটা ভেতরে যাওয়ার পর ঠিক কী হয় তা নিয়ে অনেকেরই সঠিক ধারণা নেই।
অনেকেই ভাবেন এই ছোট দানাগুলো পাকস্থলীতে গিয়ে আটকে মারাত্মক কোনও রোগের সৃষ্টি করতে পারে। বিশেষ করে অ্যাপেন্ডিসাইটিসের মতো বিপদের ভয় দেখিয়ে অনেককেই রীতিমতো আতঙ্কিত করা হয়। কিন্তু বিজ্ঞান বলছে শরীরের ভেতরের ইঞ্জিনটা আমাদের ভাবনার চেয়েও অনেক বেশি শক্তিশালী এবং জটিল।
আমাদের পাকস্থলীতে এমন কিছু শক্তিশালী অ্যাসিড রয়েছে, যা খাবার হজম করার ক্ষেত্রে ম্যাজিকের মতো কাজ করে। যখনই বাইরের কোনও শক্ত জিনিস সেখানে পৌঁছায়, এই অ্যাসিডগুলো নিজেদের কাজ শুরু করে দেয়। তবে কি লেবুর সেই শক্ত আবরণ নিমেষেই গলে যায় নাকি ভেতরে অন্য কিছু ঘটে?
আপেল বা চেরির বীজে সামান্য সায়ানাইড থাকে বলে সেগুলো নিয়ে চিকিৎসকদের একটা বাড়তি সতর্কতা থাকে। কিন্তু লেবুর দানার ক্ষেত্রে এই ধরনের কোনও বিষাক্ত উপাদানের কথা বিজ্ঞানীরা কখনও বলেননি। তাই বিষক্রিয়ার যে ভয়টা অনেকের মধ্যে কাজ করে, তা একেবারেই ভিত্তিহীন একটি ধারণা।
বৈজ্ঞানিক গবেষণা বলছে, লেবুর দানার বাইরের স্তরটি সেলুলোজ জাতীয় ফাইবার দিয়ে তৈরি হয়, যা মানুষের পরিপাকতন্ত্র সহজে হজম করতে পারে না। ফলে পাকস্থলীর শক্তিশালী অ্যাসিডও এই দানার খুব একটা ক্ষতি করতে পারে না। দানাগুলো শরীরের ভেতরে গিয়ে অন্যান্য খাবারের সঙ্গেই অন্ত্রের দিকে এগিয়ে যায়।
যেহেতু দানাগুলো হজম হয় না, তাই এগুলো মলের মাধ্যমে শরীর থেকে সম্পূর্ণ অবিকৃত অবস্থায় বেরিয়ে যায়। অর্থাৎ পেটের ভেতরে এরা কোনওরকম বিক্রিয়া করে না বা অন্ত্রের দেওয়ালে কোথাও আটকে থাকে না। শরীরের নিজস্ব প্রক্রিয়ায় এগুলো খুব স্বাভাবিকভাবেই মলদ্বার দিয়ে বাইরে নির্গত হয়ে যায়।
তবে একসঙ্গে অনেকটা পরিমাণ দানা গিলে ফেললে পেটে হালকা ব্যথা বা বদহজমের সমস্যা দেখা দেওয়া অস্বাভাবিক নয়। পেডিয়াট্রিক রিসার্চ বা শিশু চিকিৎসকদের নির্দেশিকা অনুযায়ী শিশুদের ক্ষেত্রে গলার শ্বাসনালীতে আটকে যাওয়ার একটা ঝুঁকি থেকেই যায়, যা বেশ বিপজ্জনক হতে পারে। তাই খাওয়ার সময় দানাগুলো ফেলে দেওয়াই সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ।
সোজা কথায় বলতে গেলে, দু-একটা লেবুর দানা ভুল করে গিলে ফেললে শরীরের কোনও ক্ষতিই হয় না। তাই শরবতে চুমুক দেওয়ার সময় দানা পেটে চলে গেলে অকারণে আর ভয় পাবেন না।