
বলিউড রোমান্সের সংজ্ঞাই বদলে দিয়েছিল ১৯৯৭ সালের ব্লকবাস্টার হিট 'দিল তো পাগল হ্যায়'। যশ চোপড়ার পরিচালনায় এই কাল্ট সিনেমাটি সে বছর বক্স অফিসে ঝড় তুলে সবচেয়ে বেশি আয় করা ছবির তকমা ছিনিয়ে নিয়েছিল। Facebook

ছবিটি বাণিজ্যিকভাবে সফল হওয়ার পাশাপাশি পুরস্কারের মঞ্চেও একচ্ছত্র রাজত্ব করেছিল। ৩টি জাতীয় পুরস্কার এবং ৭টি ফিল্মফেয়ার অ্যাওয়ার্ড সহ অজস্র সম্মান এসেছিল এই মিউজিক্যাল ড্রামার ঝুলিতে। Facebook

তবে এই ছবির সাফল্যের নেপথ্যে রয়েছে এক তুমুল চিন্তার গল্প। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে করিশ্মা কাপুর ফাঁস করেছেন যে, ছবির অন্যতম প্রধান চরিত্র 'নিশা'-র পার্টটি করতে বলিউডের প্রায় সব নামী অভিনেত্রীই সাফ মানা করে দিয়েছিলেন। Wikipedia

আসলে সিনেমার মূল নায়িকা ছিলেন মাধুরী দীক্ষিত, যাঁর নাচের ম্যাজিক ও এক্সপ্রেসন নিয়ে নতুন করে বলার কিছু নেই। ছবির চিত্রনাট্য অনুযায়ী, সহ-নায়িকাকে মাধুরীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে একটা হাই-ভোল্টেজ ডান্স ফেস-অফে নামতে হত। Instagram

পর্দায় মাধুরী দীক্ষিতের মতো ডান্সিং কুইনের সঙ্গে সরাসরি প্রতিযোগিতায় যাওয়ার সাহসে কুলাচ্ছিল না তৎকালীন প্রথম সারির হিরোইনদের। স্রেফ ওই নাচের লড়াইয়ে হেরে যাওয়ার ভয়েই জুহি কাজল সহ একের পর এক তারকা ছবির প্রস্তাব ফিরিয়ে দেন। IMDB

সবাই যখন রণে ভঙ্গ দিচ্ছেন, ঠিক তখনই আসরে নামেন করিশ্মা কাপুর। মাধুরীর সঙ্গে স্ক্রিন শেয়ার করার কঠিন চ্যালেঞ্জকে হাসিমুখে মেনে নিয়ে তিনি নিশার চরিত্রে অভিনয় করতে রাজি হয়ে যান। IMDB

করিশ্মার মতে, নিশা চরিত্রটি বলিউডের চেনা ছক ভেঙে দিয়েছিল। সে প্রথাগত নায়িকা ছিল না, বরং এমন এক মেয়ে ছিল যাকে ছবির হিরো ভালোবাসেনি, আর তাঁর সেই একতরফা প্রেমের যন্ত্রণা সরাসরি দর্শকদের বুক ছুঁয়ে গিয়েছিল। Instagram

অন্যদের ছেড়ে দেওয়া সেই রোলেই বাজিমাত করে সেরা সহ-অভিনেত্রী হিসেবে জাতীয় পুরস্কার জিতে নেন করিশ্মা। আজ এত বছর পর করিশ্মা ও মাধুরী যথাক্রমে ওটিটি প্রজেক্ট 'ব্রাউন' এবং 'মা বেহেন' নিয়ে ব্যস্ত থাকলেও, তাঁদের সেই অন-স্ক্রিন দ্বৈরথ আজও বলিউডের ইতিহাসে উজ্জ্বল। Facebook